,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়ার লাল শাপলার বিলে ছুটে চলেছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা

লাইক এবং শেয়ার করুন

 অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত বিল-ঝিল জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবে লাল শাপলা জন্মাতো। খাল-বিলে ফুটে থাকত নয়নাভিরাম লাল শাপলা। ওই শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায় যুক্ত ছিল আবহমানকাল থেকে। কয়েক বছর আগেও বর্ষা ও শরৎকালে খাল-বিলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকত মাইলের পর মাইল জুড়ে লাল শাপলা। সকালের দিকে বিলের জলাশয়ে চোখ পড়লে শাপলার বাহারী রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাটের কারণে উপজেলার বিলাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে লাল শাপলা।  

সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র রায় জানান, শাপলা দু’রঙ্গের হয়ে থাকে লাল ও সাদা রঙ্গের। এরমধ্যে সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙের শাপলা ওষধী কাজে ব্যবহৃত হয়। শাপলা খুব পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি। সাধারণ শাক-শবজির চেয়ে এর পুষ্টিগুণ খুব বেশি। শাপলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। শাপলায় ক্যালসিয়ামের পরিমাণ আলুর চেয়ে সাতগুণ বেশি। তিনি আরও বলেন, শাপলা চুলকানী ও রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী। প্রতি ১’শ গ্রাম শাপলার লতায় রয়েছে খনিজ পদার্থ ১.৩ গ্রাম, আঁশ ১.১ গ্রাম, খাদ্যপ্রাণ ১৪২ কিলো, ক্যালোরি-প্রটিন ৩.১ গ্রাম, শর্করা ৩১.৭ গ্রাম, ক্যালশিয়াম ৭৬ মিলিগ্রাম। আবার শাপলার ফল দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ ভাজা যায়। যেটি গ্রামগঞ্জে ঢ্যাপের খৈ বলে পরিচিত। মাটির নিচের মূল অংশকে (রাউজোম) আঞ্চলিক ভাষায় শালুক বলে।

নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিল-ঝিল-হাওড়-বাঁওড়-পুকুরের পানি যখন কমে যায় তখন গ্রাম গঞ্জের লোকজন জমি থেকে শালুক তুলতো, যা খেতে বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ক্রনিক আমাশয়ের জন্য এটি খুবই উপকারী সবজী। সবজি হিসেবেও শাপলার কদর রয়েছে বেশ। সহজলভ্য হওয়ায় গ্রামের মানুষ প্রতিদিনই শাপলা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ আসছে। আগৈলঝাড়া উপজেলার দক্ষিণ বারপাইকা গ্রামের প্রবীণ বাবুলাল বৈদ্য জানান, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে উপজেলার বারপাইকা, আমবৌলা, কদমবাড়ি, পয়সারহাট, আস্কর, নাঘিরপাড়সহ বিভিন্ন জলাশয়ে অগণিত শাপলা ফুল ফুটত। কিন্তু বর্তমানে আগের মত আর লাল শাপলা ফুল দেখা যায় না। তবে আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত বিলাঞ্চলে এখনো ফুটে থাকতে দেখা যায় নয়নাভিরাম লাল শাপলা। অনেক নি¤œবিত্ত পরিবারের লোকজন আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ওইসব লাল শাপলার বিলে ছুটে চলেছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ