,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

নববার্তার বিশেষ আয়োজন “বন্ধু-বন্ধুত্ব”

লাইক এবং শেয়ার করুন

প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববারে সারা বিশ্বজুড়ে বন্ধু দিবস পালন করা হয় । কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না বন্ধু দিবস কিভাবে এলো। ১৯৩৫ সাল থেকেই বন্ধু দিবস পালনের প্রথা চলে আসছে আমেরিকাতে। জানা যায় ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এরপরই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আরতাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষেই আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন।

আর বর্তমানে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিশ্বের বহু দেশেই। যাদের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী বন্ধু আর বন্ধুতা, তারা একমুহূর্তেও জন্যওমন থেকে আড়াল করতে পারেন না বন্ধুদের। জীবনের সংকটে এরা ছুটে যান বন্ধুদের কাছে। আবার আনন্দ, উল্লাস কিংবা দিন শেষের অবসরেও এরা ভালোবাসেন বন্ধুত্বের কলতান শুনতে। বন্ধুত্বের পরিপূরক সম্পর্কের মাঝে এরা খুঁজে পান জীবন যাপনের ভিন্ন রস।

বন্ধুতা
– গোলাম রব্বানী টুপুল
“””””””””””””””””

Tupulএকদল কিশোরের উচ্ছল তরঙ্গ, মাতামাতি, লুটোপুটি
পাড়া-মহল্লায়, অলিতে- গলিতে, বনে-বাদারে
অবশেষে থিতু হয় ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস।
সামনের সারি সবথেকে পেছনের সারির দূরত্ব ভুলে যায়,
ইচ্ছে-মাতাল ঘুড়ির মত সাঁতরায় আবেগে উচ্ছাসে।
আহা! কী সখ্যতায় বার বার বেঁচে থাকার ইচ্ছে জাগে,
প্রাণ পায় প্রাণ হীন প্রাণ, কাঠের ফুল গন্ধ ছড়ায়
খোলা আকাশের নিচে ঘরকুনোরা দু’হাত প্রসারিত করে ভিজবে বলে
এই সুখ-বর্ষায় আহ্লাদে উম্মাতাল প্রাণ রস।
এখানে মানে না পৃথিবীর বাধা, মানে না সীমান্তের কাঁটাতার
এখানে শুধু বন্ধুতার জয়োগান, বন্ধুতার মিছিল।

দোসর

আবু সায়েম দোসর

আমার নাম ‘দোসর’, যার অর্থ বন্ধু। ছোট বেলায় শুনেছি অনেক আহ্লাদী ছিলাম, অহংকারী না কিন্তু, আহ্লাদী।

আমার জীবনের প্রথম বন্ধু অনুপ কুমার দত্ত ওরফে ফর্টি থ্রি। ছোটবেলা মানে স্কুলে ভর্তি হইনি তখনও এমন সময়, ওর ‘দত্ত’ শব্দটা দেখতে ইংরেজিতে 43 এর মতন হত। তাই অমন নাম।

জীবনে কেজি স্কুল প্রাইমারি স্কুল বা হাই স্কুল বলতে কিছু নেই, যে স্কুলে বাঁধনের দেখাদেখি কান্নাকাটি করে নার্সারিতে ভর্তি হলাম, সেই স্কুল থেকেই একেবারে এস.এস.সি পাস করে বের হলাম। এ.পি.বিএন কম্পাউন্ড, ছোট্ট স্কুল, ছোট্ট গন্ডি, বন্ধুর সংখ্যাও হাতে গোণা। খেলাধুলা-দৌড়ঝাপে ছিলাম না, দিনরাত পড়াশুনাও যে করতাম তাও না, কোন সহশিক্ষায়ও ছিলাম না। বন্ধু বলতে কাদের বোঝায় ঠিকঠাক বুঝতাম না। যাদের সাথে সকাল বিকাল স্কুলে এখানে সেখানে দেখা হত তারাই ছিল আমার বন্ধু। গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছিল বা ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ এমন কাউকে মনে পড়েনা, আবার বাকিদের সাথে যে কম মিশতাম তাও না। যাদের সাথে মিশতাম তাদের সবার সাথেই সমান ভাবে সর্বোচ্চটা দিয়েই মিশতাম।Dosar

স্কুলটা শেষ হলো, কলেজ জীবনে এসে গন্ডিটা বাড়লো। সারা দেশের প্রত্যেকটা প্রান্তের একেকজন মাথা সবাই, তাদের সাথে অন্তত এক ছাদের নিচে বসে সকাল-বিকাল ক্লাস করাটা গর্বের, আমি ভাগ্যবান। নতুন বন্ধু পেলাম অনেক। প্ল্যাটফর্মটা বেশ বড়। কিছু পরিবর্তন আসলো, জটিলতা বাড়লো, মেপেমেপে কথা বলার অভ্যাসটা রপ্ত করতে হলো, অহংকার আসলো। কোন কিছু নিয়ে বড়াই করার অহংকার না, কোন গুণ বা সম্পদের অহংকার না, কোন অর্জনের অহংকার না। ‘নিজের চিন্তাভাবনায়’ স্থির থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলার অহংকার। তা এক কদমই হোক, দু কদমই হোক। নিজেকে নিয়ে গর্ব করার মতন অর্জন বা গুণ না থাকলেও নিজেকে নিয়ে খুশি থাকার অহংকার।

যাকগে, এ সময়টাতে এমন কিছু মানুষ পেলাম, মনে হয়েছিল একসাথে থাকলে ভয় পাবোনা কখনও। কিন্তু কলেজের পাট শেষ হওয়ার পর একটা কিছু সবাইকে দূরে দূরে আছড়ে ফেললো। ভৌগোলিক দূরত্ব বা মানসিক দূরত্ব যাই বলি না কেন, বেড়ে গেলো অনেক। অনুধাবন করতে পারলাম যে নামে ‘দোসর’ হয়েছি খুব সহজে, কাজে হওয়াটা খুব বেশিই কঠিন, এখনও পারিনি। এবং সম্ভবত পারবোও না।

বিশ্ববিদ্যালয় জগতে প্রবেশ করলাম, মাছ কে ডাঙায় এনে রাখলে যা হয় তেমন অবস্থা অনেকটা। সবাই একটু ‘কেমন যেন’! যাকে জিগ্যেস করি সবারই একই উত্তর, ‘সবাই একটু কেমন যেন!’… আমি নিজেও কি একটু ‘কেমন যেন’? Here people do know me as far as I allow them to know. ব্যাপারটা কিছুটা আরামদায়ক, আবার অনেকাংশেই অস্বস্তিকর।

আমার একটা অদ্ভুত রকমের ইচ্ছা আছে, সবার সাথেই ভালো বন্ধুত্ব রাখা। চেষ্টাও করছিলাম, কিন্তু থিওরিটিক্যালি এবং প্র‍্যাক্টিক্যালি এটা সম্ভব না। আমি চাইনা হিংসা বা দ্বেষ না থাকুক আমার সাথে কারও, কেউ অন্তত না বলুক আমি খারাপ আবার আমি কাউকে না বলি যে সে খারাপ। মানুষ হিসেবে আমি যথেষ্ট অসামাজিক, তবে কারও জন্য সত্যিকারের রাগ পুষে রাখার ক্ষমতা আমার নাই। দুদিন পরই ভুলে যাই। ভুলোমনা আমি! যারা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী না তারা এর সুযোগ নিতে পারে, তবুও বলে দিলাম।

সব কিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, ‘দোসর’ হওয়ার মতন কঠিন কাজটা আমার জন্য না।

বন্ধু দিবসে

–সাইদুর রহমান

বন্ধুরা তোরা আজ কে কোথায় আছিস 
কত যে বুনেছি স্বপ্ন ঐ স্কুল কলেজে; 
যান্ত্রিক এ যুগে  হয়ত ভুলে গেছিস 
ভুলিনি, তোরা সদাই এ হৃদয় মাঝে। 
স্বপ্ন রাজ্যে উঁকি দেয় কত বন্ধু মোতি 
স্মৃতির পাতায় রয় কত ছবি আঁকা; 
ভার্সিটির ঐ সে উঠোনে রয়েছি মাতি 
জীবন সমুদ্র ঢেউয়ে পড়েছে ঢাকা। 

জানি না কে কোথায় আজ আছিস ডুবে 
আটকে গেছি যেন অদৃশ্য সে মায়ায়; 
বর্ষ পরেও তোদের দেখি অনুভবে 
মন চায় আবার খেলি গে সে ধুলোয়।
 কেন যে এ বসন্ত থাকে না চিরকাল 
তোরা সবি থাকিস ভালো অনন্তকাল। 

    ছন্দ প্রকরণ: 
   কখকখ, কখকখ; গঘগঘ ঙঙ 
     আগষ্ট ৪, ২০১৩


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ