,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বন্যার পানি কমলেও বেড়েছ ভাঙন, দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট

লাইক এবং শেয়ার করুন

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ভোলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। নতুন করে আরো ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। জানা গেছে, পানি কমতে শুরু করায় দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। এসব জায়গায় দুর্গতদের স্বাস্থ্য সেবায় মেডিকেল টিম কাজ করছে। রয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসঙ্কট। ত্রাণ-সামগ্রী দেয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপর্যাপ্ত।

অব্যাহত জোয়ারের চাপে ভোলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। মেঘনার পানি বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ৫টি উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। দুর্গত এলাকায় সুপেয় পানি ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। বেড়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৯২টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মাদারীপুরের শিবচর পয়েন্টে পদ্মার পানি কমলেও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে পদ্মা ও আড়িআল খাঁ’র ভাঙন। এর মধ্যেই চারশোরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় দুইশো হেক্টর ফসলী জমি। এদিকে ফরিদপুরে পদ্মার পানি কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পানি নামতে শুরু করায় বন্যা কবলিতে অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। বন্যার্তদের মধ্যে চাল, নগদ টাকা, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইনসহ অন্যান্য দ্রব্য ত্রাণ হিসেবে দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া, উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমলেও কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন শুরু হয়েছে। শনিবার পদ্মার পানি ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বেরিবাঁধ ভেঙ্গে ঢুকে পড়া বন্যার পানিতে এখনও পানিবন্দি জীবন-যাপন করছেন চিলমারী উপজেলার দুটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির খাবারের সংকট। অনেক জায়গায় বানভাসী মানুষেরা অভিযোগ করেছেন সরকারি ত্রাণ না পাওয়ার।

গত ১৫ দিন আগে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের রাজারভিটা, মাঝথল, হাটিখানা, পুটিমারী, বহরের ভিটা ও ছোট কষ্টেরী এবং রমনা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনারীপাড়া, গুড়াতিপাড়া ও তোন গ্রামসহ ১৮টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে।

নদ-নদীর পানি কমে গেলেও তা বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় ১৫ দিন ধরে তলিয়ে আছে এসব এলাকার ঘর-বাড়ি। এ অবস্থায় মানুষজন পাকা সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি এসব এলাকার বন্যা কবলিত মানুষের। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারিভাবে বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, শেরপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে—জেলার উত্তর বঙ্গ সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।

শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র নদসহ অন্যান্য নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় প্লাবিত গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট জেগে উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শেরপুর-জামালপুর সড়কের সদর উপজেলার পোড়ার দোকান এলাকায় ড্রাইভারশানের উপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া পানি প্রবাহ কমে আসতে শুরু করেছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলেও ঝুঁকি নিয়েই চলাচল শুরু করেছে।

তবে শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে টাঙ্গাইলসহ উত্তর বঙ্গের যাত্রীবাহী যানবহন এবং সিএনজি চালিত গাড়িসহ অন্যান্য হালকা যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। এদিকে, শুক্রবার বিকেলে ওই ড্রাইভারশানে গোসল করতে আসা শেরপুর শহরের গৌরীপুর মহল্লার রাহাত নামে ১২ বছর বয়সের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়া বন্যার কারণে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এসব স্কুলে আজ পরীক্ষা থাকার থাকলেও কর্তৃপক্ষ সদর উপজেলার সকল স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

অপরদিকে জেলায় বন্যা দুর্গত এলাকায় এখনও পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ না পৌঁছেলেও আজ থেকে জেলা প্রশাসকের পক্ষে ত্রাণ বিতরণ করা হবে বলে বন্যা দুর্গত চর পক্ষীমারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রৌফ জানিয়েছেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের দরগা বাজার এলাকায় ধসে যাওয়া একশ মিটার পাঁকা সড়কের ভাঙন ঠেকাতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বালির বস্তা ফেলে ভাঙনরোধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি ভাঙন ঠেকাতে না পারলে নতুন করে বন্যা কবলিত হয়ে পড়বে সড়কে অপর প্রান্তের বিপুল এলাকা।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ এবং জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী ধসে যাওয়া সড়কের ওই এলাকা পরিদর্শন করে যে কোনো মূল্যে এ ভাঙন ঠেকানো হবে বলে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন। এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহ আগের নদী তিন থেকে চারশ মিটার দূরে অবস্থান করলেও ভাঙন ঠেকাতে তখন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় এ সড়কটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। উল্লেখ, শনিবার পদ্মার পানি ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ