,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

মিডিয়া পাগল

লাইক এবং শেয়ার করুন

মিডিয়া, মরন নেশার মত আমার জীবনটা চুষে চুষে খাচ্ছে। দেখতে সুদর্শন নই বলে আমার দিকে সে ফিরেও তাকায় না। শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট নেই বলে আমাকে বলে যোগ্যতাহীন। অর্থ নেই বলে আমাকে প্রবেশ করতে দেয় না আমার স্বপ্নের জগতে। অথচ তাকে ভালবেসে এখন পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ প্রতিষ্টিত করতে পারলাম না। শুধু তাকে পাব বলে দিনের পর দিন রাতের পর রাত নাটক, সিনেমা, থিয়েটার আর পত্রিকা অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।

টঙ্গির সাপ্তাহিক অগ্নিস্বাক্ষী দিয়ে শুরু করেছিলাম মিডিয়ায় পথ চলা। সম্পাদক শাজাহান সিরাজ সাজু আমাকে এই জগতে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর টঙ্গী প্রেসক্লাবের দায়িত্বে ছিলাম চার বছর। সেখানেও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনে টঙ্গী শাখার সাধারন সম্পাদক টঙ্গী প্রেসক্লাবের তিন বারের সাধারন সম্পাদক আল্হাজ্জ সাংবাদিক মেরাজ উদ্দিন আমাকে অনেক সহযোগীতা করেছিলেন। প্রেসক্লাবে থাকাকালীন দৈনিক দেশবাংলার বিনোদন পাতায় চলচিত্রের ভালো মন্দ নিয়ে সমালোচনা করে সেরা লেখক ও নির্বাচিত হয়েছিলাম। সাংবাদিক অলিদুর রহমান অলির সহযোগীতায় যুগান্তর স্বজন সমাবেশ করেছি বছর খানেক। এরপর নিজেই দৈনিক ডেসটিনির পাঠক সংগঠন“বন্ধুজন” টঙ্গী শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন করি। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক মঞ্চ, টিভি অভিনেতা, শাজাহন শোভনের নিয়মিত নাট্যদল “নাট্যভুমির পক্ষ থেকে মঞ্চে অভিনয় করেছি কয়েকবার। এ ছাড়া নাট্যকার সাঈদ আজাহার, সাংবাদিক ও টিভি অভিনেতা মিশির আহমেদ তৎকালীন জাতীয় লেখক পরিষদের সভাপতি ডঃ মোস্তফা আল­ামার সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। এতকিছু করার পরও অভাব যেন আমার পিছু ছারছে না।

ঠিকমত মা বোনের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছিনা। মায়ের কথামত চলে আসি নানার বাড়ী হযরত শাহাজালাল এর পূন্যভূমি সিলেটে। এরপর শুরু হয় সিলেটের মিডিয়া প্রাঙ্গনে পথ চলা। প্রায়তঃ সম্পাদক লুৎফুর রহমান এর সহযোগীতায় দৈনিক মানচিত্রের বিশেষ প্রতিনিধী হিসাবে কিছু দিন কাজ করি। এরপর দৈনিক সবুজ সিলেটে বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি হিসাবে প্রায় ১৬ মাস কাজ করি। ১৬ মাসে প্রায় নগদ ৫ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপন আমি সবুজ সিলেটকে এনে দেই। আর ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা আমার কাছে বকেয়া ছিল। সে টাকার জন্য আমাকে জেলও কাটতে হয়েছে। জেল থেকে বেড়িয়ে ঠিকমত টাকা পয়সা না দেওয়ার করণে সবুজ সিলেট আমাকে বাদ দিয়ে দেয়। কিন্তুুৃ মামলা এখনও শেষ হয় নাই। তিনটি হাজিরা দেওয়ার পর টাকার অভাবে আমি আর হাজিরা দিতে পারি নাই প্রায় ৪ বছর। কিন্তুু সবুজ সিলেটকে আমি ফোন দিলে তারা বলে আমাকে টাকা দিতে তা না হলে মামলা রায় হয়ে যাবে। তবুও আমি ভয় না পেয়ে সবকিছু হারিয়ে নানার বাড়ী মোগলা বাজার কান্দিচড় গ্রামে মায়ের অংশ জায়গার উপর শিশু কিশোর সাহিত্য পাঠাগার নির্মান করি। প্রায় ২৫/২৬জন ছেলে মেয়ের অভিভাবকেরা আমাকে ভালবেসে তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য পাঠগারটি প্রতিষ্ঠিত করে দেয়। আমি না খেয়ে ২ বছর সেই পাঠাগারটি পরিচালনা করি। সেটাও আমার মামারা ষড়যন্ত্র করে বন্ধ করে দিয়েছে। আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গ্রামছাড়া করেছে। আমার মায়ের অংশ তারা জোড় করে দখল করে রেখেছে আমার ঘর থাকা স্বাত্বেও আমি আজ পথে-প্রান্থরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এতকিছু আমার জীবনে ঘটে যাওয়ার পরেও মিডিয়া বলে আমি নাকি যোগ্যতাহীন। আমার কোন মূল্য নেই এই জগতে। তবে এখন কি করব আমি? আমার জীবনটা যে নষ্ট হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার জন্য আজ আমি হয়েছি রিক্সাওয়ালা। মিডিয়া যে গরীব মানুষের জীবন এবাবে নষ্ট করে দেয় আমার জানা ছিল না।

কথাগুলি ভাবতে ভাবতে উপশহর থেকে একজন যাত্রী নিয়ে জিন্দাবাজার আসতে ছিলাম। হঠাৎ সেই যাত্রী আমাকে বলল, মামা দেশের বাড়ী কোথায়? আমি বললাম নরসিংদী। আগে কি করতে? মামা পত্রিকায় কাজ করতাম। পত্রিকার কথা শুনেই সে অথাক হয়ে গেল। আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা শুরু করল। আমিও সব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম। অবশেষে সে আমাকে বলল মিজান তুমি তোমার জীবন কাহিনী লেখ। আমি তা প্রকাশ করব। আমি একজন অন-লাইন পত্রিকার সাংবাদিক তবে লেখা যেন ছোট হয়।

জীবন কাহিনী ছোট করে লেখা যায় কিনা আমি জানি না। তবে মিডিয়ার জন্য আমি যে পাগলামী করেছি তার একটি সংক্ষিপ্ত নমুনা মামার অন-লাইন পত্রিকায় উপহার দিলাম। যদি প্রকাশ পায় তাহলে হয়ত এ রিক্সাওয়ালা মরে গিয়েও আজীবন বেঁচে থাকবে এই পৃথিবীর বুকে।

(লেখক : রিক্সাচলক ও সাবেক মিডিয়াকর্মী)


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ