যশোরে এক ব্যানারে আট কবির জন্মদিন পালন যেনো সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উন্মেষ

মুস্তাক মুহাম্মদ, যশোর # বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, যশোর ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ তা বিরাট মহীরূহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘকালব্যাপি নিয়মিত মাসিক সাহিত্য আসরসহ বিভিন্ন্ সাংস্কৃতিক কর্মকা- করে সাহিত্য অঙ্গনে একটি স্থায়ী জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। আর এই মহীরূহর শীতল ছায়ায় আশ্রয়  দিয়েছে অনেক খ্যাতিনামা কবি Ñ সাহিত্যিকের। এমন একটি নিয়মিত সক্রিয়  সাহিত্য প্রতিষ্ঠান  যশোর তো বটেই গোটা বাংলাদেশে খুব কমই আছে। ৭ অক্টোবর , ২০১৬ তে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ এক ব্যানারে  আটজন ( একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) কবি Ñ সাহিত্যিকের জন্মদিন  যশোর আইনজীবি সমিতিÑ  ১ এর  হল রুমে অত্যন্ত আড়ম্বরের সাথে উদযাপন ও নিয়মিত মাসিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এঁরা সকলেই বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের সক্রিয় সদস্য । বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের পৃষ্ঠপোষকতা ও ছায়ায় দাঁড়িয়ে তারা দেশ-বিদেশে সাহিত্য অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করছেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান থেকে সহজেই  বোঝা যায় বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের কত  দৃঢ়  অবস্থান।  আট কবির প্রত্যেককে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা Ñ শুভ হোক আগামী পথ চলা।  জন্মতারিখের ক্রমন্বয়ে সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হল :
                 পহেলা অক্টোবর ১৯৮০ সালে যশোর জেলার রামনগরে গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন  বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের নির্বাহী সদস্য – ১ শেখ ইমামুল কবির।  পিতা শেখ ইদ্রিস আলী মাতা ফিরোজা বেগম। রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ ইমামুল কবির । বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল . এল . বি পাশ। তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ঋতু একজন মনোরোগ চিকিৎসক। তিনি যশোর সদরের ১১ নং রামনগর ইউনিয়নের নির্বাচিত সফল ইউ পি সদস্য। কিছুদিন প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। সমাজ সেবক এই মানুষটি নিবেদিতভাবে সমাজ উন্ন্য়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সমাজ সেবায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন ন্যানসেল ম্যান্ডেলা স্বর্ণ পদক, একটি সংস্থা থেকে পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক – ২০১৫। শিক্ষাবিদ শেখ ইমামুল কবির রামনগর নামেজ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালযের পরপর তিনবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, রামনগর অগ্রণী যুবসংঘের সভাপতি, যশোর চেম্বাস অব কমার্স এর সদস্য , যশোর রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ।

                কবি অধ্যাপক তোজাম্মেল হক ১৯৬৩ সালের ৮ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ঈশ্বরীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলিম উদ্দিন সরদার মাতা মোছা: খাদিজা বেগম। পিতার দশ সন্তানের ভাইদের মধ্যে তিনি পঞ্চম। বি . এ. ( অনার্স) এম. এ. ( ইতিহাস), এল.এল. বি.। ১৯৯৩ সাল থেকে যশোরের বাঁকড়া ডিগ্রী কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আছে। স্মৃতিপটে চিরদিন, অপেক্ষা, চিত্রা, স্বদেশ প্রেম, কষ্টের নদী। সম্পাদনা করেন “ বাঁশের বাশি” । তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।  মাথায় ঝাকড়া চুল আর কাধে ব্যাগ নিয়ে সব সময় ঘোরেন। তার “ চিত্রা” কাব্যগ্রন্থের ‘মুক্তা খুঁজি সমুদ্রের গর্জনে’ শিরোনামের কবিতায়  লিখেছেন। “ মিলেনি মুক্তা আজও/ খুঁজি মুক্তা সমুদ্রের গর্জনে।” ( মুক্তা খুঁজি সমুদ্রের গর্জনে)  

শেখ শাহরিয়ার সোহেল , যশোর সাহিত্য অঙ্গনের অত্যন্ত পরিচিত জনপ্রিয় কবির নাম। ১০ অক্টোবর ১৯৭৫ সাল , শুক্রবার রাত আটটা পাঁচ মিনিটে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মসূত্রে যশোর শহরেই বসবাস। বাংলা সাহিত্যে এম. এ. করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন্ সাংস্কৃতিক সংগঠনের আবৃত্তি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আছেন। ১৯৮৮ সাল থেকে লেখালেখি করেন। ‘পথিক’  সাহিত্য    পত্রিকা সম্পাদনা করেন। প্রকাশিত হয়েছে “নিঃসঙ্গ নীরবতা”, “ প্রেমের পারিজাত”, “ ও…মাধবীলতা”,“ সনেট সরোবর”, মৃত্যুর মানচিত্র”ও “ইজম”। সম্পাদনা করেছেন –  জোছনার প্লাবণ, কণ্ঠ গোলাপ, হৃদয় বসন্তে, স্তব্ধ আলোড়ন, সোনালি সকাল, ক্যাকটাস জ্বালা , এছাড়া আবৃত্তি সিডি “ বিষণœ সুন্দর” প্রকাশিত হয়েছে। মূলত কবিতা, প্রবন্ধ , অনুগল্প, সমালোচনা লেখেন । আঞ্চলিক জাতীয় দৈনিকসহ বিদেশী অনেক পত্রিকায় অসংখ্য লেখা প্রকাশ পেয়েছে। সৃজনশীল কর্মকান্ডের জন্য বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তার “ প্রেমের পারিজাত” কাব্যগ্রন্থের‘ ফিরে আসতে পারিনি’ শিরোনামের কবিতার শেষ দুটো পঙক্তি স্মরণ করছি ।

“ আমি এখন সম্পূর্ণ মৃত, আমার প্রিয়ার চোখ/ আমাকে কাঁদায় , আমি ফিরে আসতে পারিনি । ”
          কবি গবেষক সাহিত্যপৃষ্ঠপোশক সন্ন্যাস কবি পদ্মনাভ অধিকারী যশোরের বকচরে নলিনী অধিকারীর ওরষে  গৌরী অধিকারীর গর্ভ থেকে  ১২অক্টোবর ১৯৫৮ পৃথিবীর আলো বাতাসের মুখ দেখেন। অকৃতদার মানুষটি চার ভাইয়ের মধ্যে ছোট। পেশা বলি আর নেশাই বলি সবই সাহিত্য চর্চা। সাহিত্য চর্চায় চব্বিশ ঘণ্টা নিবেদিত। সমগ্র জীবনটা ব্যয় করেন সাহিত্য চর্চা করে। গড়ে তুলেছেন যশোরের সাহিত্য বাতিঘর “ কারুকাজ” । সকাল থেকে রাত নটা পর্যন্ত এখানেই সাহিত্য কেন্দ্রীক কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকেন। কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন- যাব না , অন্তরে অন্তরে, বিধ্বস্ত জনপদ, মর্তলোকে দিব্য রথ ও চিৎকার। প্রবন্ধ : আধুনিকতা ও আধুনিক কবিতা প্রসঙ্গে, এক বৃন্তে ও মহর্ষি লালন সাঁই উপন্যাস: ফেরারি, প্রহরী । তিনি বিভিন্ন্ গবেষণাধর্মী কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। তিনি রূপায়ণ গবেষণা সম্প্রদায়ের অন্যতম গবেষক। এছাড়া বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের “ বিদ্রোহী”  বিশেষ সংখ্যা সম্পাদনা করেন। তিনি বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রাণভ্রমরা। তার ‘ ফিরায়ো না’ শিরোনামের কয়েকটি পঙক্তি উল্লেখ করছি – “ তোমার ঋদ্ধ নগরে এসেছি – ভিখারীর বেশে / প্রত্যাশা শুধু একবার দেখবে / মেঘের কালো কাজল আঁকা মোহনীয় / ও দু’চোখে…….। ” ( তৃণমূল অনুসন্ধানী, সংখ্যা -২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৫ )   

     কবি গোলাম মোস্তফা মুন্না’র জন্ম পরিচয় দেবার আগে তার একটি পরিচয় আমার কাছে বড় মনে হয়েছে । তা হল তিনি বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের ট্রেড মার্ক। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে আজো তিনি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বার গতিতে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কবি গোলাম মোস্তফা মুন্না ১৯৭৯ সালের ১৫ অক্টোবর মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতার মহাতাপ গাজী জননী মোমেনা গাজী ।যশোর এম. এম. কলেজ থেকে স্নাতক পাশ। তিনি একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত। পাশাপাশি সাংবাদিক নেতা। সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দুই সন্তানের জনক কবি গোলাম মোস্তফা মুন্নাএক সময় প্রচুর লিখলেও এখন লেখালিখি একদম তলানিতে বলতে হয়। তবে তিনি একজন দক্ষ সংগঠক ।     

              বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের বর্তমান সভাপতি কবি অধ্যাপক মো. সামসুজ্জামান ২০ অক্টোবর ১৯৫১ সালে যশোর সদন উপজেলার ছাতিয়ানতলা “আদমভিলা”য় জন্ম গ্রহণ করেন। পিতার নাম: আব্দুল গফুর তরফদার মাতার নাম:  রওশন আরা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  বি. এ (অনার্স) এম. এ. (বাংলা) করে অধ্যাপনা করতেন। বর্তমানে অবসরে আছেন। কর্মময় তার জীবন :  তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক নিকেতনের সভাপতি,  ছিলেন শিক্ষক নেতা ,করেছেন রাজনীতি,  সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ। অনেক কবিতার পান্ডুলিপি তিনি গচ্ছিত রাখলেও এখনো কোনো গ্রন্থ ঝলমাল করে আলোর মুখ দেখেনি। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় তার লেখা ছাপা অক্ষরে প্রায় চোখে পড়ে। কিন্তু তিনি প্রচার বিমুখ। সব সময় নেপথ্যে থেকে সাহিত্য চর্চা করে চলেছেন।

            কবি  গীতিকার  অমল কান্তি সরকার ১৯৫১ সালের ২৩ অক্টোবর কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের মনোহর নগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা ডা. শেখর শিবপদ সরকার। ১৯৬৯ সালে তিনি বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পাশ করেন। কর্মজীবনে কলারোয়ার কাজীর হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কয়েক বছর শিক্ষকতা করলেও তিনি হোমিওপ্যাথিক গবেষক হিসেবে বিভিন্ন ঔষধ আবিষ্কার করেছেন। তিনি ২০১০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিনের “‘খ’ শ্রেণীর তালিকাভুক্ত গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।  তার “ সেরা তুমি আমার পৃথিবীতে” শিরোনামের কবিতার চারটি পঙক্তি উল্লেখ করছি- “ সবচেয়ে দামী যারা পৃথিবীতে/ তার মধ্যে তুমি একজন ,/ হৃদয়ে প্রেমের গল্প শেষ করে / তোমাকেই দিয়েছি মন।” ( একুশের পত্র, ১২৩তম সংখ্যা, অক্টোবর – ২০১৩)

             বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কবি চিত্রকার অনুবাদক গবেষক মধুসূদন অধিকারী।১৯৫২ সালের ২৮ অক্টোবর যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়ায়  জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা কবি নলিনী অধিকারী মাতা গৌরী অধিকারী। পেশায় এম. এস .অধিকারী  একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। রূপায়ণ সম্প্রদায় (সাহিত্য ও সাংস্কৃতি) এর একজন নেতৃস্থানীয় গবেষক। চারপুত্র এক কন্যা সন্তানের জনক। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ  “কণ্ঠস্বর”। স্পষ্টভাষী এই মানুষটির সবচেয়ে বড় পরিচয় সমগ্র জীবনে উপার্জিত  সিংহভাগ অর্থ  সাহিত্যের  পৃষ্ঠপোষকতায় ( বিশেষ করে কারুকাজ) ব্যয় করেছেন। বর্তমানের  নামধারী অকবি ও সমাজের অসঙ্গতির উপরে বিতৃষ্ণ হয়ে তিনি নিভৃতে  সাহিত্য চর্চা করেন কিন্তু তা প্রকাশ করেন না।  তবে তিনি অসংখ্য ছবি আঁকেন এবং তা প্রকাশও করেন। তার ক্ষোভের প্রকাশ দেখতে পাই “ স্বাধীনতা”নামক কবিতায়। তিনি লিখেছেন –

“ স্বাধীনতা একদিন সুখ ছিল / ছিল বাঙালির শক্তিশেল।/ স্বাধীনতা এখন নিত্য দুঃখের/ গাছে পাকা হলদে বেল ।। / স্বাধীনতা একদিন প্রিয় ছিল / ছিল প্রিয়ার কপালের টিপ/। / স্বাধীনতা এখন ভনিতা কেবল / অত্যাচারীর একক বসতি দ্বীপ।। ” ( বিদ্রোহী , মহান বিজয় দিবস সংখ্যা , ২০১৪)
  কবি  কাজী রকিবুল ইসলাম। অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সৈনিক; এখন করেন সাংবাদিকতা। ১৯৬৮ সালের ২৮ অক্টোবর জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা কাজী আবুল কাশেম মাতা ফিরোজা বেগম। বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি। যশোর সদরের বিরামপুর স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সমাজ সচেতন , সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে তার কলম ক্ষুরধার শাণিত । সমাজের দুর্নীতি ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কবিতা রচনা করছেন। তার একমাত্র প্রকাশিত কাব্রগ্রন্থ “যাপিত যন্ত্রণা”র ‘ রক্ষাকর সৃষ্টিকর্তা’ শিরোনামের কবিতায় লিখেছেন -“ চর্তুপাশ্বে কীট পতঙ্গ/ সকালÑ দুপুর-  বিকেল কাটছে অঙ্গ /#/ আমার কলিজার টুকরা এই পৃথিবীতে এসে , / এত পোকার বিষ নিয়ে / টিকে থাকতে পারবে কি শেষে? /#/ রক্ষা করো সৃষ্টিকর্তা / আমার অবুজ শিশুটিকে।”

     একত্রে আট কবির জন্মদিন উদযাপন Ñ  আমার জানা মতে বাংলাদেশে প্রথম এবং ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান। বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ এভাবে বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। আজকে আট কবির শুভজন্মদিন অনুষ্ঠান ইতিহাসে স্থান করে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।  সেই সাথে  বর্তমান সময়ে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদকে কেন্দ্র করে যশোরে যে সাহিত্য সংস্কৃতির বিপ্লব চলছে অচিরেই তা গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে তার পূর্বভাস পাওয়া যাচ্ছে। লিটিল ম্যাগাজিন,সাপ্তাহিক, আঞ্চলিক, জাতীয় দৈনিকগুলোতে  (দেশ-বিদেশ) প্রতি সপ্তাহের সাময়িকীতে যেভাবে যশোরের  কবি-সাহিত্যিকরা স্থান করে নিচ্ছে এবং যশোরে  সাহিত্য নির্ভর সমাজ গড়ে উঠছে এ সব দেখে এ কথা জোর দিয়েই বলা যায় যে, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের বলয় থেকে অচিরেই কালজয়ী কবিÑ সাহিত্যিক দেশ-বিদেশে বাংলা সাহিত্যকে উচ্চাসনে আসীন করবেন। এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) পর সাহিত্য নোবেল প্রাইজ নিয়ে বাংলা সাহিত্যে যে আকাল চলছে তা অচিরেই ঘোচাবে। উপস্থিত সকল কবি-সাহিত্যক , সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক  ও সাহিত্যমনা সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। শুভ হোক – বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের পথ চলা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৪৯ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com