কুড়িগ্রামে শায়িত সৈয়দ হক

৫১ বার পঠিত

নিজ জন্মস্থান কুড়িগ্রামে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জানাজা শেষে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের দক্ষিণ দিকে সবুজ ধানখেতের পাশে কবিকে সমাহিত করা হয়। সৈয়দ শামসুল হকে মৃত্যুতে তার নিজ এলাকা কুড়িগ্রাম শহরেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। লেখক সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে চলে আসেন ঢাকায়।

গুণী এ লেখকের মৃত্যুতে কুড়িগ্রামের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বত্র শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের পুরাতন থানা পাড়ায় কবির পৈত্রিক বাড়িটিও শোকস্তব্ধ। রাজধানীতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে নেয়া হয়। সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায় তার নিজ এলাকার মানুষ। মৃত্যুর আগেই কবি বলে গিয়েছিলেন তার শেষ ইচ্ছার কথা। জানিয়েছিলেন, তাকে যেন সমাহিত করা হয় তার নিজের মাটিতেই। সেই অনুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ গেটের পাশেই সৈয়দ শামসুল হককে সমাহিত করার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।

সৈয়দ শামসুল হক (জন্ম. ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫) হলেন একজন বিখ্যাত বাংলাদেশি সাহিত্যিক। তিনি কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। সব্যসাচী লেখক হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।। সৈয়দ শামসুল হক মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সে এ পুরস্কার লাভ করেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

১ সংক্ষিপ্ত জীবনী

২ রচনা

২.১ প্রবন্ধ

২.২ ছোট গল্প

২.৩ কবিতা

২.৪ উপন্যাস

২.৫ কাব্যনাট্য

২.৬ কথা কাব্য

২.৭ গল্প

২.৮ অনুবাদ

২.৯ শিশুসাহিত্য

২.১০ অন্যান্য

২.১১ চলচিত্র

সংক্ষিপ্ত জীবনী ও যত তার লেখালেখির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

সৈয়দ শামসুল হক সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও হালিমা খাতুন দম্পতির আট সন্তানের প্রথম সন্তান। পিতা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন পেশায় ছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। তিনি ডাক্তারি চর্চা করতেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের গর্বিত জনক জনাব হক ব্যক্তিজীবনে প্রথিতযশা লেখিকা ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হকের স্বামী।

[২] সৈয়দ শামসুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর রচিত প্রথম পদ তিনি লিখেছিলেন এগারো-বারো বছর বয়সে। টাইফয়েডে শয্যাশায়ী কবি তাঁর বাড়ির রান্নাঘরের পাশে সজনে গাছে একটি লাল টুকটুকে পাখি দেখে দুলাইনের একটি পদ “আমার ঘরে জানালার পাশে গাছ রহিয়াছে/ তাহার উপরে দুটি লাল পাখি বসিয়া আছে” রচনা করেন। এরপর ১৯৪৯-৫০ সালের দিকে ম্যাট্রিক পরীক্ষার পরে ব্যক্তিগত খাতায় ২০০টির মতো কবিতা রচনা করেন। সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালের মে মাসে। ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘’অগত্যা’’ পত্রিকায়। সেখানে “উদয়াস্ত” নামে তাঁর একটি গল্প ছাপা হয়।

সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। সেখানে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুলে। এরপর ১৯৫০ সালে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে সৈয়দ শামসুল হক ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

সৈয়দ শামসুল হকের পিতার ইচ্ছা ছিলো তাকে তিনি ডাক্তারি পড়াবেন। পিতার এরকম দাবি এড়াতে তিনি ১৯৫১ সালে বোম্বে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি বছরখানেকের বেশি এক সিনেমা প্রডাকশন হাউসে সহকারি হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৫২ সালে তিনি দেশে ফিরে এসে জগন্নাথ কলেজে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মানবিক শাখায় ভর্তি হন। কলেজ পাসের পর ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে স্নাতক পাসের আগেই ১৯৫৬ সালে সেখান থেকে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে বেরিয়ে আসেন। এর কিছুদিন পর তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘’দেয়ালের দেশ’’ প্রকাশিত হয় ।

হৃৎ কলমের টানে (১ম খণ্ড ১৯৯১, ২য় খণ্ড ১৯৯৫)

ছোট গল্প

তাস (১৯৫৪)

শীত বিকেল (১৯৫৯)

রক্তগোলাপ (১৯৬৪)

আনন্দের মৃত্যু (১৯৬৭)

প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান (১৯৮২)

সৈয়দ শামসুল হকের প্রেমের গল্প (১৯৯০)

জলেশ্বরীর গল্পগুলো (১৯৯০)

শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯০)

কবিতা

একদা এক রাজ্যে (১৯৬১)

বিরতিহীন উৎসব (১৯৬৯)

বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা (১৯৭০)

প্রতিধ্বনিগণ (১৯৭৩)

অপর পুরুষ (১৯৭৮)

পরাণের গহীন ভিতর (১৯৮০)

নিজস্ব বিষয় (১৯৮২)

রজ্জুপথে চলেছি (১৯৮৮)

বেজান শহরের জন্য কোরাস (১৯৮৯)

এক আশ্চর্য সংগমের স্মৃতি (১৯৮৯)

অগ্নি ও জলের কবিতা (১৯৮৯)

কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে (১৯৯০)

আমি জন্মগ্রহণ করিনি (১৯৯০)

তোরাপের ভাই (১৯৯০)

শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৯০)

রাজনৈতিক কবিতা (১৯৯১)

নাভিমূলে ভস্মাধার

কবিতা সংগ্রহ

প্রেমের কবিতা

ধ্বংস্তূপে কবি ও নগর (২০০৯)

উপন্যাস:

এক মহিলার ছবি (১৯৫৯)

অনুপম দিন (১৯৬২)

সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪)

নীল দংশন (১৯৮১)

স্মৃতিমেধ (১৯৮৬)

মৃগয়ায় কালক্ষেপ (১৯৮৬)

স্তব্ধতার অনুবাদ (১৯৮৭)

এক যুবকের ছায়াপথ (১৯৮৭)

স্বপ্ন সংক্রান্ত (১৯৮৯)

বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ (১ম খণ্ড১৯৮৯, ২য় খণ্ড ১৯৯০)

বারো দিনের শিশু (১৯৮৯)

বনবালা কিছু টাকা ধার নিয়েছিল (১৯৮৯)

ত্রাহি (১৯৮৯)

তুমি সেই তরবারী (১৯৮৯)

কয়েকটি মানুষের সোনালী যৌবন (১৯৮৯)

শ্রেষ্ঠ উপন্যাস (১৯৯০)

নির্বাসিতা (১৯৯০)

নিষিদ্ধ লোবান (১৯৯০)

খেলা রাম খেলে যা (১৯৯১)

মেঘ ও মেশিন (১৯৯১)

ইহা মানুষ (১৯৯১)

মহাশূন্যে পরাণ মাষ্টার

দ্বিতীয় দিনের কাহিনী

বালিকার চন্দ্রযান

আয়না বিবির পালা

কালঘর্ম

দূরত্ব

না যেয়ো না

অন্য এক আলিঙ্গন

এক মুঠো জন্মভূমি

বুকঝিম ভালোবাসা

অচেনা

আলোর জন্য

রাজার সুন্দরী

কাব্যনাট্য

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬)

গণনায়ক (১৯৭৬)

নুরুলদীনের সারা জীবন (১৯৮২)

এখানে এখন (১৯৮৮)

কাব্যনাট্য সমগ্র (১৯৯১)

ঈর্ষা

কথা কাব্য

অন্তর্গত

গল্প

তাস

রক্ত গোলাপ

অনুবাদ

ম্যাকবেথ

টেম্পেস্ট

শ্রাবণ রাজা (১৯৬৯)

শিশুসাহিত্য

সীমান্তের সিংহাসন (১৯৮৮)

আনু বড় হয়

হড়সনের বন্দুক

অন্যান্য

শ্রেষ্ঠ গল্প

শ্রেষ্ঠ উপন্যাস

শ্রেষ্ঠ কবিতা

মুখ (১৯৯১)

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়

চলচিত্র:

নিষিদ্ধ লোবান অবলম্বনে গেরিলা ছবিটি তৈরি হয়েছে।

পুরস্কার

বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৬

আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৬৯

অলক্ত স্বর্ণপদক ১৯৮২

আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৩

কবিতালাপ পুরস্কার ১৯৮৩

লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক, ১৯৮৩

একুশে পদক, ১৯৮৪

জেবুন্নেসা-মাহবুবউল্লাহ স্বর্ণপদক ১৯৮৫

পদাবলী কবিতা পুরস্কার,১৯৮৭

নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক, ১৯৯০

টেনাশিনাস পদক, ১৯৯০

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও গীতিকার

মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার ২০১১ [৪]

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com