নজরুল আমাদের জাতীয় কবি ।। সফিউল্লাহ আনসারী

৬৬ বার পঠিত

১২ ভাদ্র জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম এর ৪০তম মুত্যুবার্ষিকী। কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন -মানুষের কবি,গরীবের কবি,বড়দের কবি,ছোটদের কবি,নিপিড়িতের কবি, সত্য-ন্যায়ের কবি,সর্বোপরি গণমানুষের কবি।বাংলা-বাঙালীর মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম চেতনায় উজ্জীবিত।কবির সার্বজনীন গ্রহনযোগ্যতা ছিলো-আছে-থাকবে অনন্তকাল। কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি।কাজী নজরুল আমাদের আদর্শ-চেতনার কবি।যার ক্ষুরধার লেখনিতে মানবতার জাগরণ আসে,আসে অসাম্প্রদায়িক চেতনা।নজরুলের রচনায় প্রেমের সুধায় আপ্ল“ত হওয়া যায়,ধমীর্য় বিভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়ীক হওয়া যায়,ধমীর্য় মুল্যবোধে জাগ্রত হওয়া যায়।তিনি আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং দারিদ্রকে জয় করার অদম্য দু:সাহসিকতায় মানুষের জন্য বোধ জাগানিয়া কবি।নজরুলের আদর্শকে ধারন করে আমরা বাঙালী ও অন্যান্য জাতীসত্বার মানুষরা অসম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে বিশ্বের মাঝে অনন্য জাতী হিসেবে মাথা তুলে দাড়াতে পারি ভয়হীন।

কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু কবি বা লেখক নামে আবদ্ধ করা যায়না কারন তিনি ছিলেন, একাধারে-কবি, উপন্যাসিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, কবি, উপন্যাসিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, সাংবাদিক, গায়ক-নায়ক, দার্শনিক ও রাজনীতিক”-উইকিপিডিয়া থেকে। যেদিক থেকেই দেখা হোকনা কেনো সেখানেই তার স্বপ্রতিভ উপস্থিতি ও বলিষ্ট অবস্থান দেখতে পাই। দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সকলের কাছেই সমানভাবে সমাদৃত। নারী-পুরুষের মাঝে বিভেদ ভাঙলেন কবি এভাবেই-বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর।বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্র“বারি,/অর্ধেক তার আনিয়াছে নর,অর্ধেক তার নারী।/নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা করে নারী হেয়-জ্ঞান?/তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে,সে যে নর-শয়তান।/অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,/ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।/এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,/নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।/তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখিয়াছে তার প্রাণ,/অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শাজাহান।/জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য লক্ষ্মী নারী,/সুষমা-লক্ষ্মী নারীই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারি’।

বিদ্রোহ,প্রেম,বিরহ ও সাম্যবাদী কবি নজরুল(২৫মে-১৮৯৯-২৯আগস্ট-১৯৭৬) আমাদের জাতীয় কবি। ‘১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ মে, ১১ জৈষ্ঠ্য ১৩০৬ বঙ্গাব্দ,পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন’।কাজী ফকির আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি। তাঁর বাবা ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাজারের খাদেম। নজরুলের তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন এবং দুই বোনের মধ্যে সবার বড় কাজী সাহেবজান ও কনিষ্ঠ উন্মে কুলসুম। কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল- দু:খু মিয়া।ছাত্র জীবনে নজরুলের প্রথম স্কুল ছিল রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুল, এরপর ভর্তি হন মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুলে যা পরবর্তীতে নবীনচন্দ্র ইনস্টিটিউশন নামে পরিচিতি লাভ করে।’

‘১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ আগস্ট নজরুল ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করেন। এটি সপ্তাহে দু‘বার প্রকাশিত হতো।১৯২০-এর দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন এক সময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এর পরপর  স্বরাজ গঠনে যে সশস্ত্র বিপ্লববাদের আবির্ভাব ঘটে তাতে ধূমকেতু পত্রিকার বিশেষ অবদান ছিল।’কাজী নজরুল ইসলামের প্রাপ্ত পুরস্কারের মধ্যে-স্বাধীনতা পুরস্কার(১৯৭৭),একুশে পদক (১৯৭৬),পদ্মভূষণ উল্লেখযোগ্য।“১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নজরুল তার একটি গানে লিখেছেন,”মসজিদেরই কাছে আমায় কবর দিয়ো ভাই/যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”;-কবির এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তাঁর সমাধি রচিত হয়।” উইকিপিডিয়া থেকে-।  

অসাম্প্রদায়ীক এই মানবতাবাদী কবি নজরুল ইসলাম ইসলামী সংগীত রচনার পাশাপশি অনেক শ্যামা সংগীতও রচনা করেন। যা হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ছিল খুবই গ্রহনযোগ্য।মহানুভব বিদ্রোহী চেতনার মানুষের কবি,অসাম্প্রদায়িক কবি নজরুল ইসলাম আমাদের বাংলা সাহিত্যের উজ্জল নক্ষত্র,যার তুলনা শুধু কবি নিজেই আর কেউ না।এই গণমানুষের কবি,আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার

আজো চেনা হরোনা নিজেকেই ...! 01715-787772

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com