তাহিরপুরের চাঁনপুর সীমান্ত চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য

১২২ বার পঠিত

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি # সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চাঁনপুর সীমান্ত চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই সীমান্তের নয়াছড়া, বারেকটিলা, রাজাই ও চাঁনপুর পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে অবাধে আসছে চুনাপাথর, মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, গরু ও ঘোড়া। এসবের বিনিময়ে ভারতে পাচাঁর হচ্ছে মাছ, মাংস, হাস, মুরগি, শাক-সবজি, সিরামিকের তৈরি থালা, বাসন, জগ, ভৈজ্য তৈল, কেরুসিন ও মোবাইল কার্ড ইত্যাদি। ঈদকে সামনে রেখে গত ১৫দিনে কয়েক কোটি টাকার চুনাপাথর, গরু ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাচাঁরের অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল রোববার সকাল ৮টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্পের ৫০গজ সামনে অবস্থিত নয়াছড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে চোরাচালানীরা অবৈধভাবে শতাধিক লোক ভারতের ভিতরে পাঠিয়ে হেমার,শাফলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিয়ে লক্ষলক্ষ টাকা মূল্যের চুনাপাথর ভেঙ্গে এনে প্রথমে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মজুদ করছে। পরে সেই চুনাপাথর ট্রলি দিয়ে চানপুর বিজিবি ক্যাম্পের সামনের রাস্তা দিয়ে পার্শ্ববর্তী লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত যাদুকাটা নদীর তীরে ও ছিলাবাজারে নিয়ে সংরক্ষণ করছে। এরপর ইঞ্জিনের নৌকা বোঝাই করে চুনাপাথরের সাথে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য যাদুকাটা নদীপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছে। এছাড়া যাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থিত রাজাই ও বারেকটিলা পয়েন্ট দিয়ে প্রতিরাতে ৮ থেকে ১০টি করে গরু ও ঘোড়াসহ অবাধে মাদকদ্রব্য পাচাঁর হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানায়,চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্পের লাইনম্যান পরিচয়ধারী মাদক চোরাচালান মামলার জেলখাটা আসামী আবু বক্কর,লাল মিয়া,আলমগীর তাদের সহযোগী আবুল কালাম,আবুল কাসেম,সম্রাট মিয়া,নাজমুল সিকদার,আলামিন ও হাবিজ মিয়া প্রতিট্রলি চুনাপাথর পাঁচারের জন্য বিজিবি ক্যাম্পের নামে ১২০টাকা ও থানার নামে সাপ্তাহিক ১৫হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে দিন-রাত ভারত থেকে ওপেন চুনাপাথর ও মাদকদ্রব্য পাচাঁর করছে। আর প্রতিফুট চুনাপাথর থেকে ৫টাকা উৎকোচ নিয়ে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, তার ভাই আব্দুল গফ্ফর ও তাজুল মিয়া, দিন ইসলাম গং চানপুরের চোরাচালানীদের টাকা দিয়ে চুনাপাথর ও মাদক পাচাঁরের জন্য উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে বারেকটিলা ও রাজাই এলাকা দিয়ে লাইনম্যান রফিকুল ইসলাম প্রতিরাতে ভারত থেকে ৮থেকে ১০টি করে গরু, ঘোড়াসহ মদ, গাজা, হেরুইন, ইয়াবা পাচাঁর করছে।

এজন্য চাঁনপুর ক্যাম্পের নামে প্রতি গরু থেকে ১৫০০টাকা,ঘোড়া ৩হাজার টাকা ও বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাচাঁরের জন্য সাপ্তাহিক ১৬হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছে। এর ফলে প্রতিমাসে কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হলেও চোরাচালানীও তাদের গডফাদাররা হচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। আর এই চোরাচালান দীর্ঘদিন যাবত চললেও দেখার কেউ নেই। অথচ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০গজ দূরে দুই দেশের লোকজন অবস্থান করার আইনগত নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানছে কেউ। এই সীমান্তে আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ করার লোক নেই। ফলে চানপুর সীমান্ত এলাকা চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

এব্যাপারে লাউড়গড় ও বড়ছড়া শুল্কষ্টেশনের ব্যবসায়ী হোসেন আলী, তারা মিয়া, রজব আলী, জয়নাল মিয়া, সবুজ মিয়াসহ আরো অনেকেই বলেন, বারেকটিলার লাইনম্যান রফিকুল ইসলাম, চানপুরের লাইনম্যান আবু বক্কর, তার ছেলে আলমগীর ও লাল মিয়ার মাধ্যমে চাঁদা নিয়ে বিজিবি সদস্যরা দাড়িয়ে থেকে ভারত থেকে ওপেন চুনাপাথর, গরু ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাঁচারের সুযোগ দিচ্ছে।

এব্যাপারে চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার রশিদ বলেন,চোরাচালান নিয়ে লেখালেখি না করে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে আপনারা মিটমাট করে নিন। চাঁনপুর ক্যাম্পের লাইনম্যান চোরাচালান মামলার জেলখাটা আসামী আবু বক্কর দাপটের সাথে বলেন, চুনাপাথর, গরু, ঘোড়া ও মাদকদ্রব্য পাচাঁর করাসহ আমাদের চাঁদাবাজির কথা পত্রিকায় লিখলে কিছুই হবেনা, কারণ আমরা সবাইকে ম্যানেজ করেই এসব কাজ করছি।
তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, থানার নামে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন আমমেদ বলেন, চাঁনপুর সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে বিষয়টি জানা নেই, এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক #

i am muzammel alam bhuiya(5'+10")(BSS)-Journalist-(Mytv,Daily Manobkantha) and actor,script writer(flim+tv)-mobail: +8801715-643887 and +8801913-223202, email-muzammel.tahirpur@gmail.com and skype-muzammel.tahirpur

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com