কিবরিয়া অডিটরিয়াম থেকে ব্যাডমিন্টন খেলার সরঞ্জাম অপসারন করলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি, কে গউছ।

২১২ বার পঠিত

শেখ মোহাম্মদ তানভীর হোসেন : হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি অবশেষে হবিগঞ্জের কিবরিয়া অডিটোরিয়ামে ব্যাডমিন্টন অনুশীলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছের উপস্থিতিতে ব্যাডমিন্টন খেলার সরঞ্জাম অপসারণ করা হয়। এ সময় মেয়র জি কে গউছ বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া আমাদের সকলের অহংকার, আমাদের গর্ব। তিনি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বে খ্যাতিমান পুরুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নামে নির্মিত এই অডিটোরিয়ামটি হবিগঞ্জকে সমৃদ্ধ করেছে। এই অডিটোরিয়ামের ভিতরে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট দেখে আমি খুব আশ্চর্য হয়েছি। একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে খেলার মাঠে পরিণত করার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারিনা। এটি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য নির্ধারিত স্থান। এখানে শুধু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সভা-সেমিনার হবে। অডিটোরিয়ামে ব্যাডমিন্টন খেলার অনুশীলন কেন্দ্র সম্পর্কে তিনি বলেন, এই অডিটোরিয়ামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত না করে এর ভেতরে ব্যাডমিন্টন অনুশীলন করা হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক অবগত নন বলে তারা আমাকে জানিয়েছেন। আমার অনুপস্থিতিতে অবৈধভাবে কিবরিয়া অডিটোরিয়ামকে খেলার মাঠ বানানো হয়েছে। খ্যাতিমান এই ব্যক্তির নামকে কলঙ্কিত করার জন্যই একটি মহল এ কাজ করেছে। অডিটোরিয়াম সংস্কার সম্পর্কে মেয়র বলেন, আমি কারাগারে যাওয়ার আগে কিবরিয়া অডিটোরিয়াম সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে খরচের হিসাব পাঠিয়েছিলাম। আমি আশা করেছিলাম, মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। কিন্তু দীর্ঘ ২ বছর আমি মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক থাকায় এ প্রকল্পে কোন বরাদ্দ আসেনি। কিবরিয়া অডিটোরিয়ামকে সরকারের সহযোগিতায় যত দ্রুত সম্ভব সংস্কার করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজের সব অন্যায়-অনাচার দূর হবে। সংস্কৃতিকর্মীরা যেন খুব সহজভাবে এ অডিটোরিয়াম ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্য পৌর পরিষদের সাথে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অডিটোরিয়ামের ভাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য সহনীয় রাখা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এই অডিটোরিয়ামে ‘লাভ নয় লোকসান নয়’ ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অডিটোরিয়ামে ১৮টি এসি আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো এসি নষ্ট। এই অডিটোরিয়ামের বিদ্যুৎ বিল ও স্টাফের খরচ সমন্বয় করে অডিটোরিয়ামের ভাড়া নেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলর মো. জুনায়েদ মিয়া, গৌতম কুমার রায়, শেখ নূর হোসেন, সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুছ শামীম, সহকারি প্রকৌশলী দিলীপ কুমার দত্ত প্রমুখ। উল্লেখ্য, হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে এখানকার সংস্কৃতিকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ কিবরিয়া অডিটোরিয়ামটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অডিটোরিয়ামটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০০১ সালের ২৪ মার্চ উদ্বোধন করা হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার নামে নামকরণ করা হয় এই অডিটোরিয়ামটি। ৬০০ আসন বিশিষ্ট এই হলে উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং, ফার্নিচার, সেন্ট্রাল এসি সহ বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ২০১১ সালে হলের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ার পর অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়ে অডিটোরিয়ামটি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেখ মোহাম্মদ তানভীর হোসেন, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি #

Contact No.: 01716-691796. 01675-537937. E-mail : tanvir_pou@yahoo.com Academic Qualification : B.S.C (Computer Diploma) B.P.T.I (SYLET)

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com