আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ রাত ১:১৮ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ‘সংবর্ধনা’ দিচ্ছে সার্ক কলেজ

সিলেটে এসএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিতে যাচ্ছে সার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ। এতে সংবর্ধনা নিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিবাবকের কাছ থেকে টা্কা আদায় করা হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা দিতে ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ২০ শে মে আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। সংবর্ধনা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য পোষ্টারে দেয়া হটলাইনে কল করা হলে একজন মহিলা ফোন রিসিভ করেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলী।

তিনি জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র অর্থাৎ পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি ও প্রবেশপত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে এবং রেজিষ্ট্রেশন ফি বাবদ জনপ্রতি ৯০ টাকা জমা দিয়ে আসন বুকিং দিতে হবে।

তিনি আরো জানান, একজন শিক্ষার্থীর সাথে সর্বোচ্চ দুইজন অভিবাবক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে পারবে। অভিবাবককেও বাধ্যতামূলক রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। শিক্ষার্থীর সাথে অভিবাবকের রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে অভিবাবকদের মনে।

ওলিদ আহমদ ও জাবের আহমদ নামে দুই শিক্ষার্থী জানায় তাদের কাছ থেকে ১০০টাকা করে আদায় করা হয়েছে। খালেদ মাহাদি নামে একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আজব কারবার, এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা দিবেন ভাল কথা টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রশন কেন?”

তার এই শেয়ার করা পোষ্টে অনেকেই নানা রকম মন্তব্য করেছেন,

এমডি অমি আহমদ অমি লিখেছেন, “মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী গেলা কই?”

কাজী মোঃ জালাল উদ্দিন লিখেছেন, “এটা ব্যবসার নতুন ধান্দা।”

শাহ রায়হান আহমদ রহিম লিখেছেন, “টাকা দিয়ে টাকা নিয়ে যখন কৃতি সংবর্ধনা দিবেন তাইলে যারা ফেল করেছে তাদেরকেও সংবর্ধিত করুন।”

মিন্টু দাশ লিখেছেন, “তাহলে লেখাপড়াটা রাজনীতির মত কমার্শিয়াল হয়ে গেছে।”

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে অভিযোগের অন্ত নেই। একের পর এক অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি।

জানা যায়,সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজের একটি স্কুল শাখা রয়েছে চৌকিদেখি আঙ্গুর মিয়া সড়কে। এই বছরের জানুয়ারী মাসে এই স্কুল শাখাটি চালু করা হয়। স্কুল শুরুর আগেহ থেকে একের পর অভিযোগ উঠতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

আবাসিক এলাকার ভিতরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু করায় এলাকাবাসীরা এ নিয়ে আন্দোলন চালায় এতে কিছুটা হুচট খেতে হয় তাদের। এরপর অভিযোগ উঠে পড়াশুনার মান, অদক্ষ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষার নামে বাণিজ্য, ঘনঘন শিক্ষক বদল, স্কুল ভবনে ভাড়াটিয়া রেখে আন্ডার গ্রাউন্ডে ক্লাশ পরিচালনা, নিয়ম শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি সহ নানা অভিযোগ।

এই সব ব্যাপারে একাধিকবার অভিবাবকরা তাদেরকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছেন না। রেজিষ্ট্রেশনের ফি নেয়ার ব্যাপারে জানতে প্রতিষ্ঠানটির দ্বায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আজকেরসিলেট

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে