সিলেট শিববাড়ি আগুনে পুড়ে নারী জঙ্গি ও বিস্ফোরণে পুরুষ জঙ্গির মৃত্যু

১৮৩ বার পঠিত

সেনাবাহিনী সোমবার ওই দুইজনের লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর মঙ্গলবার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়। বাকি দুটি লাশ এখনও ওই জঙ্গি আস্তানার ভেতরে রয়েছে। গায়ে সুইসাইড ভেস্ট থাকায় সেগুলো এখনও সরানো হয়নি বলে জানিয়েছেন সিলেট মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজল।

সিলেট দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহল বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভবনটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার সকালে সেখানে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল।

সোমবার রাতে ওই ভবন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ভেতরে চার জঙ্গির লাশ পেয়েছেন তারা।

সেনাবাহিনীর ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে সন্ধ্যা ৬টার পর আতিয়া মহলের সামনে লাশ দুটির সুরতহাল করেন দুই পুলিশ সদস্য। পরে সেগুলো মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। পুরুষের লাশটির সুরতহাল করেন মোগলাবাজার থানার এসআই মো. সোহেল রানা। আর একই থানার এসআই সুজন দত্ত নারীর লাশের সুরতহাল করেন।

সুরতহাল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ওই পুরুষের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। গোলাকার মুখমণ্ডল ছিল আগুনে পোড়া। মাথার সামান্য চুল ও মুখে কিছু দাড়ি ছিল। ওই ব্যক্তির পরনে ছিল কালো জামা, দুই পায়ে কালো জুতা। আর ডান পায়ে কালো প্যান্টের অংশ লেগে ছিল। লাশের বুক থেকে তলপেট পর্যন্ত পুরোটাই ছিল ছিন্ন বিচ্ছিন্ন। বাঁ পায়ের মাংস গোড়ালির টাকনু পর্যন্ত কাটা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অজ্ঞাতনামা লাশটি একজন জঙ্গি সন্ত্রাসীর লাশ বলিয়া প্রতিয়মান হয়। উক্ত জঙ্গি সন্ত্রাসী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য নিজে নিজে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটাইয়া মারা গিয়াছে বলিয়া অনুমান করা যাইতেছে।”

নিহত ওই নারীর দৈর্ঘ্য আনুমানিক চার ফুট বলে উল্লেখ করা হয়েছে সুরতহাল প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, তার মুখমণ্ডল ছিল পোড়া, মাথায় সামান্য চুল দেখা গেছে। দুই হাত ও দুই পায়ের গিড়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেহ পোড়া এবং বাইরে থেকে কঙ্কাল দৃশ্যমাণ। একটি পায়ে সামান্য মাংস আছে এবং পায়ের তালুর নিচে আনুমানিক দুই ইঞ্চি কাটা।

এসআই সুজন দত্ত লিখেছেন, বুক ও পা দেখে প্রতীয়মান হয় যে লাশটি একজন নারীর।“লাশটি একজন জঙ্গি সন্ত্রাসীর স্ত্রীর এবং গোপনীয়ভাবে জানা যায়, ওই নারী নিজেও একজন জঙ্গি সন্ত্রাসী দলের সদস্য। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য নিজের গায়ে নিজে আগুন লাগাইয়া মৃত্যুবরণ করিয়াছে বলিয়া অনুমান হয়,” বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আতিয়া মহলের মালিক উস্তার আলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মর্জিনা বেগম ও কাউছার আলী নামে দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে মাস তিনেক আগে নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। অভিযানের প্রথম দিন গত শুক্রবার পুলিশের আত্মসমর্পণের আহ্বানের জবাবে ওই বাসা থেকে এক নারী ও এক পুরুষকণ্ঠের কথাও শোনা যায়।

ওই দুটি লাশের মধ্যে একজন আতিয়া মহলে বাসা ভাড়া নেওয়া সেই মর্জিনা বলে ধারণা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আর কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসার মৃতদেহও চার জঙ্গির মধ্যে রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

তবে দুটি লাশের ময়নাতদন্তের পর কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ বলেন, “লাশ দুটি চেনার উপায় নাই। অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই তাদের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এখন লাশ দুটি রাখা হবে হিমাগারে। পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ নমুনা ও আঙুলের ছাপ রাখা হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com