সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর ক্রেতা সংকটে রিফুয়েলিং স্টেশন

১৫৭ বার পঠিত

সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’-এর কার্যক্রম। এ রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান তেল (জেট ফুয়েল) ক্রয় করছেন না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায় স্টেশনটি লোকসান গুনার পাশাপাশি সেখানে স্থাপিত মূল্যবান যন্ত্রপাতি বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১৮ বছর পর চলতি ২০১৬ সালের মার্চে ওসমানী বিমানবন্দরে রিফুয়েলিং স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৫৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ স্টেশনটি নির্মিত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর তত্ত্বাবধানে রিফুয়েলিং স্টেশনটি নির্মিত হয়। চালুর পর থেকে স্টেশনটির কার্যক্রম কোন মতে চলছে বলে জানিয়েছেন পদ্মা ওয়েল কোম্পানী, সিলেট-এর ডিপো সুপারিনটেনড্যান্ট(ডিএস) শাহজাহান কবির।

তিনি বলেন, চালুর পর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের কাছ থেকে কোন জ্বালানী নিচ্ছে না। কেবলমাত্র বেসরকারি ফ্লাইট অপারেটর ইউএস বাংলা এবং নভো এয়ার তাদের কাছ থেকে মাঝে মধ্যে জ্বালানী নিচ্ছে। এ দুটি অপারেটর সবমিলিয়ে ৬-৭শ’ লিটার জেট ফুয়েল সংগ্রহ করে। কোন কোন দিন ফুয়েল বিক্রিও হয় না। এ স্টেশনের জন্য তাদের দুটি আলাদা ১৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি রিজার্ভ ট্যাংকি রয়েছে। পাশাপাশি বিমান বন্দর এলাকায় ৯টি পয়েন্ট রয়েছে। ওসমানী বিমানবন্দর ও দক্ষিণ সুরমা পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর ডিপোতে এ দুটি ট্যাংকির অবস্থান।

ওসমানী বিমানবন্দরে বিপুল অর্থ ব্যয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে জানিয়ে শাহজাহান কবির জানান, ফুয়েল বিক্রি না হওয়ায় এ যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা অয়েলের ১০ জন স্টাফ এবং অস্থায়ী ভিত্তিতে ৯ জন সিকিউরিটি গার্ডও সেখানে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও এটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান, তারপরও প্রতিষ্ঠানটিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফুয়েল বিক্রির আয় দিয়ে সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও দেয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় তিনি সরকারের উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ওসমানী বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ওসমানী বিমানবন্দরে বর্তমানে লন্ডন-সিলেট বিমান সার্ভিস চালু রয়েছে। তবে, সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু নেই। এখানকার যাত্রীদের ঢাকায় হযরত শাহজালাল(র.) বিমানবন্দরে ট্রানজিট দিয়ে লন্ডনে যেতে হয়। এ কারণে বিমান সিলেট থেকে জেট ফুয়েল ক্রয় না করে ঢাকা থেকে তা ক্রয় করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শোয়েব আহমদ নিজাম জানান, তারা রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে পর্যাপ্ত ফুয়েল কিনছেন না, এটা ঠিক। তবে, যখন প্রয়োজন, তখন ফুয়েল ক্রয় করছেন। ওসমানীর রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে ফুয়েল ক্রয় করতে হলে তাদেরকে এক মাস আগে অগ্রিম অর্ডার প্রদান করতে হয়। এ কারণে বিমান এখান থেকে ফুয়েল কিনতে অনাগ্রহী বলে তার মন্তব্য।

তবে, পদ্মার ডিএস শাহজাহান কবির এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিমানের জ্বালানী তেলের যে কোন চাহিদা পূরণে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

ওসমানী বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, জেট ফুয়েল বিক্রির জন্য বিমানবন্দর রিফুয়েলিং স্টেশন পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, গত মার্চে এই রিফুয়েলিং স্টেশন পুরোপুরি চালু হয়। সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু না থাকায় এ স্টেশনে জ্বালানী তেল বিক্রি কম হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে ওসমানী বিমাবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর এখান থেকে কয়েকটি ফ্লাইটও অপারেট হয়। কিন্তু রিফুয়েলিং ব্যবস্থা না থাকায় গত ১৮ বছর ওসমানী থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা যাচ্ছিল না। ২০১২ সালে ওসমানী বিমানবন্দরে রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। গত মার্চে রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও বর্তমানে স্টেশনটি ক্রেতা সংকটে রয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com