বাবার সাথে খাদিজার প্রথম সেলফী

এই সংবাদ ২৯ বার পঠিত

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিলেটের খাদিজা আক্তার নার্গিসকে ২৯ অক্টোবর সকালে তার বাবা মাসুক মিয়া মেয়ে খাদিজাকে নিয়ে একটি সেলফি তুলেন। খাদিজা এখন টুকটাক কথা বলতে পারছেন। তবে কথা অনেকটাই অস্পস্ট। স্মৃতিশক্তিও মাজে মধ্যে ফিরছে তাঁর, যদিও সবাইকে চিনতে পারছেন না। কখনো কখনো কাউকে কাউকে চিনতে পারছেন আবার পারছেন না। আর কিছুদিন গেলে তাঁর অবস্থার আরো উন্নতি ঘটবে বলে চিকিৎকরা জানিয়েছেন।

মেয়ের ওপর বর্বর হামলার সময় খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া ছিলেন সৌদি আরবে। গত ৬ অক্টোবর তিনি দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি স্কয়ার হাসপাতালে আছেন মেয়ের কাছে। একমাত্র মেয়ের এই করুণ অবস্থায় এখনো আহাজারি করছেন খাদিজার মা মনোয়ারা বেগম। তাঁর একটাই দাবি, যে তাঁর মেয়ের এই অবস্থা করেছে তার যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। তিনি মেয়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য সিলেটবাসী তথা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর বখাটে বদরুলের বর্বর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত এরই মধ্যে শেষ করেছে পুলিশ। বহুল আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন আদালতে দাখিল করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার ওসি মো. শাহজালাল মুন্সী গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন সব কিছু গোছানো হচ্ছে। মামলাটি বহুল আলোচিত হওয়ায় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তদারকি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। সেটা কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকোনো দিন হতে পারে।

সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউটর মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, চাঞ্চল্যকর রাজন হত্যা মামলার চেয়েও দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারকাজ শেষ করা হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার করার ব্যাপারে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রতিশোধ নিতে গত ৩ অক্টোবর বিকেলে সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বদরুল আলম। ঘটনার পরের দিনই কর্তৃপক্ষ বদরুলকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে গত ২৩ অক্টোবর বদরুলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে।

খাদিজা আক্তার নার্গিস সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাউসা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে। ডিগ্রি পরীক্ষা দিতে গত ৩ অক্টোবর তিনি এমসি কলেজে যান। বিকেলে পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়ে দাঁড়ানো অবস্থায় তাঁর ওপর হামলা চালান বদরুল। চাপাতি দিয়ে খাদিজার মাথা ও শরীরে কোপাতে থাকলে একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীরা বদরুলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

আহত খাদিজাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই দিন রাতেই তাঁকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com