সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রবিদাসের ফাঁসি কার্যকর

২৫ বার পঠিত
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মাকু রবি দাস (৪৭) নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার দিনগত রাতে ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হয়। এসময় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের ও কারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে কাশিমপুর কারাগার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা জল­াদ রাজু। ফাঁসি কার্যকর হওয়া মাকু রবি দাসের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দারাগাঁওয়ে। তিনি সমাধনী রবিদাসের ছেলে।

প্রায় ১৬ বছর আগের এক হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ছিলেন রবিদাস। ২০০১ সালে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন তিনি।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন জানান, ২০০৩ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত নাইনকা রবি দাস হত্যা মামলায় (দায়রা ৫৭/২০০২) মাকু রবি দাসকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

২০০১ সালের ৩১ অক্টোবর রাতে প্রতিবেশী নাইনকা রবি দাসকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন মাকু রবি দাস।

পরবর্তীতে মাকু রবি দাস জেল আপিল (জেল পিটিশন নং-০৩/২০০৭) করলেও তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট।  সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানালে তাও নামঞ্জুর হয়।

গত ১২ মে কারা অধিদফতরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাঁসি কার্যকরের আদেশ দিলেও পবিত্র রমজান মাস থাকায় তা কার্যকর করা যায়নি।

মাকুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দিনেই কাশিমপুর কারাগার থেকে জল­াদ রাজুকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রাত ৮টা থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফাঁসি কার্যকরের সময় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন জানান, গতকাল সোমবার মাকু রবি দাসের স্বজনেরা তার সঙ্গে দেখা করে গেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরও ৫ জন স্বজন শেষ দেখা করেন।

প্রমঙ্গত, এই ফাঁসির আগে ২০১১ সালের মার্চ মাসে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত রবি মুণ্ডাকে ওরফে মো. বিল­াল (৬০) ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো। মৃত্যুর তিনদিন পূর্বে ইসলাম ধর্মগ্রহণকারি রবি মুন্ডা ছিলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার নালুয়া চা বাগানের ধর্মনাথ লাইনের মৃত অমর সিং মুণ্ডার ছেলে।

২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থ স্ত্রী সারথি মুণ্ডাকে চিকিৎসা করাতে নালুয়া চা বাগানের কবিরাজ নন্দলাল ঝরার কাছে নিয়ে যান রবি মুণ্ডা। ঝাড়ফুঁকে কোনো উন্নতি না হওয়ায় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রবি মুণ্ডা ও তার বাবা অমর সিং মুণ্ডা কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নন্দলাল ঝরাকে হত্যা করে। পাঁচ বছর আগে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় দণ্ডপ্রাপ্ত অমর সিং মুণ্ডা বার্ধক্যজনিত রোগে মারা যান।

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদুর রহমান জুয়েল, সিলেট ব্যুরো #

শহীদুর রহমান জুয়েল (উদয় জুয়েল), সিলেট ব্যুরো ০১৭২৩৯১৭৭০৪

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com