কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মহিলা কৃষি প্রযুক্তি ক্লাবে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া

এই সংবাদ ১২২ বার পঠিত

মোঃ রাজন আমান,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি# ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় পুরুষ নয়, নারীরাই পৃথিবীতে প্রথম কৃষি কাজের সূচনা করেছিল। এটা আদিকালের কথা। তবে এখন কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। এরই মধ্যে কৃষিতে ছোঁয়া লেগেছে আধুনিক প্রযুক্তির। এতোদিন পুরুষদের এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে নারীরা ছিলেন অনেক পিছিয়ে। তবে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এবার দেশের প্রথম মহিলা কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে । এই ক্লাব বদলে দিচ্ছে উপজেলার তিনটি গ্রামের শতাধিক কৃষাণীর জীবনযাত্রা। প্রযুক্তি ক্লাবে হাতে-কলমে শিক্ষা নিয়ে কৃষির আপাদমস্তক  শিখছেন তারা। বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি, ফলমূলসহ নানা জাতের ফসল চাষ করছেন এসব নারী।

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়ন। এখানকার নারীদের কৃষিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে স্থানীয় কুমারখালী উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন বছর খানেক আগে স্থাপন করেন দেশের প্রথম মহিলা কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব। হাতেগোনা কয়েকজন নারীকে নিয়ে এ ক্লাবের যাত্রা শুরু হলেও এখন এ ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৩ হাজার ছুঁই ছুঁই। ইছাখালী, কাঞ্চনপুর, সাঁওতা, পাইকপাড়া,  ও শ্যামপুর গ্রামের ২ হাজার ৭শ’ নারী সপ্তাহে ২ দিন বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় চাষাবাদ পদ্ধতি, জৈব সার তৈরিসহ কৃষির খুঁটিনাটি শিখছেন এ ক্লাবে এসে। কৃষি প্রযুক্তি ক্লাবের সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিয়ে আহোরিত জ্ঞান কাজে লাগাচ্ছেন। প্রত্যেকে বাড়িতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার না করেই গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। এসব খামারে ফলের গাছ, হরেক রকমের শাক সবজি চাষ করছেন তারা। শতভাগ নিরাপদ এ সবজি ও ফল নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করছেন বাজারেও।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ৬টি গ্রামের ২ হাজার ৮শ’৫০ বাড়ির আঙিনায় সযত্নে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট ছোট কৃষি খামার। যেখানে শোভা পাচ্ছে-পালংক শাক, লাউ,  মুলা, মিষ্টি কুমড়োসহ নানা জাতের সবজি। সে সাথে রয়েছে কুল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ।

সাঁওতা নারী কৃষি প্রযুক্তি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঋতু খাতুন বলেন, প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নিজের চাষ করা সবজিতেই সংসারের চাহিদা মিটছে, বাজার থেকে কেনার প্রয়োজন পড়ছে না। একই ক্লাবের সদস্য রেশমা বেগম বলেন, তাদের উৎপাদিত সবজি বা ফলে কোন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়না। মাটির ঊর্বরতা রক্ষায় জৈব সার আর পোকামাকড় দমনে বালাই নাশক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শ্যামপুর ক্লাবের সদস্য আমেনা খাতুন বলেন, সংসারের চাহিদা মিটিয়ে চলতি শীত মৌসুমে তিনি ২ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। ওই ক্লাবের আরেক সদস্যা রোজিনা খাতুন বলেন, তার স্বামী এই কৃষি খামার গড়তে তাকে খুব সহযোগিতা করে। রোজিনা বলেন, তবে প্রশিক্ষণ না পেলে তারা এই খামার কোনদিনও গড়তে পারতেন না। ক্লাবের উদ্যোক্তা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন বলেন, গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কৃষি ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করতে তিনি নারী কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব চালু করেছেন। ৬টি গ্রামে তিনি এ ধরণের ৭টি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। কোন পরিবার যাতে অপুষ্টিতে না ভোগে সেই জন্য তিনি এই ক্লাবের মাধ্যমে এলাকার নারীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।  ৬টি গ্রামের ২ হাজার ৮শ’৫০টি বাড়ির প্রতিটিতে খামারজাত সার ও ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে সবজি খামার অন্যান্য ফল গাছের পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে কলা,পেঁপে ও একটি করে সফেদা গাছ লাগানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. শাহাবুদ্দিন বলেন, “নারী কৃষি প্রযুক্তি ক্লাব ৬টি গ্রামের নারীদের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। ক্লাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে একদিকে নারীরা যেমন পরিবারে ভেজালমুক্ত পুষ্টিকর সবজি ও ফল যোগান দিতে পারছে অন্যদিকে তারা দিন দিন আত্মনির্ভরশীল হয়েছে উঠছে।” কৃষিবীদ মন্তব্য করেন- এই পদ্ধতি সারা দেশে চালু হলে কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ রাজন আমান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

১। নাম : মোঃ রাজন আমান (সাংবাদিক)। ২। পিতার নাম : মোহাম্মদ রাহাদ রাজা (সাংবাদিক)। ৩। মাতার নাম : মিসেস্ আমেনা রাহাদ (সাংবাদিক)। ৪। স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানা (সকল প্রকার যোগযোগ) : মোঃ রাজন আমান (সাংবাদিক) এম,চাঁদ আলী শাহ্ রোড ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া। মোবাইল : ০১৭২৪-৮৮৮১২৫। ৫। বয়স : ২৪ বৎসর। ৬। ধর্ম : ইসলাম (সুন্নী)। ৭। জাতীয়তা : বাংলাদেশী। ৮। শিক্ষাগত যোগ্যতা : বি,এ (পাশ)। ৯। সাংবাদিকতা পেশায় বাস্তব অভিজ্ঞতা : জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকায় বাস্তব অভিজ্ঞতা ০৭ বৎসর।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com