ভালুকায় কাল বৈশাখীর তান্ডব : শিলাঝড়ে ঘরবাড়ি সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতিক্ষতি

১০০ বার পঠিত

সফিউল্লাহ আনসারী, ভালুকা, (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় (১ মে) সোমবার রাতে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবোশেখী ঝড়ে ঘর বাড়ী দোকানপাটের ক্ষতি সাধন ও বিভিন্ন ফল ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধান হয়েছে। ২ মে মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে কথা হয় এলাকাবাসীর সাথে। কাশর ডোবালিয়া পাড়ার কৃষক নূরুল ইসলাম জানান সোমবার রাত অনুমান সারে ৭ টার দিকে ঝড় ও শিলা বৃষ্টি শুরু হলে চারিদিকে মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পরে।তারা জানায় ঘরের চালে  বড় আকারের শিলা পরেছে। এ সময় চালে বড় বড় গর্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি পরে আসবাবপত্র কাপড়-চোপর ভিজে নষ্ট হয়েছে। অনেকের মাথায় ও শরীরে শিলা পড়ে আহত হয়েছে।আরো আহতরা হলেন কাঁশর গ্রামের নুরজাহান(৪০),নলুয়াকুড়ি গ্রামের জুয়েল(২৫), রোস্মত মড়লের ছেলে নজরুল(৪৫), কাঁশর বাজারের কেরামতে স্ত্রী সুফিয়া(৪০),এদেও বেশীর ভাগই ঘওে টিনি ফুটো হয়ে শিলার আঘাতে আহত হয়েছেন। আহতদের ময়মনসিংহ ও স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তরফসানি এলাকার হাজেরা জানান,রাতে প্রায় আধ ঘন্টা শিলা বৃস্টিতে তার বাড়ীর সকল ঘরের চাল ও রাস্তায় বরফ জমে চলাচলের বিঘ্ন ঘটায় এবং  তার বাড়ীর সবক‘টি রুম ফুটো হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাওয়ায় ভাড়াটিয় গার্মেন্টস কর্মীরা সকালে অন্যত্র চলে গেছে। এ রকম হাজার হাজার বাড়ীর একই পরিণতি হওয়ায় ওই এলাকায় বসবাস রত কারখানা শ্রমিকরা আবাসন সমস্যায় পরেছেন।যে সব ঘর বাড়ি সম্পুর্ণ বিনষ্ট হয়েছে তারা বেশী দামে দোকান থেকে টিন এনে ঘর মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অপরদিকে গাছপালা আম, কাঠাল, লিচু,কলা ও সবজি সহ বিভিন্ন ফল ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। জামিরদিয়া গ্রামে জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তফা কামালের প্রায় শতাধিক ঘর নষ্ট হয়েছে। এক কথায় ওই এলাকায় কোন টিনের চাল অক্ষত নেই। উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে এসে হবিরবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু সাংবাদিকদের জানান তিনি সবগুলো ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করেছেন তার ধারনা শিলা ঝড়ে ২০ হাজারের উপরে বাড়ীঘর ও দোকানপাট নষ্ট হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরারজী দেশাই বর্মন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বলেন-ক্ষতিগ্রস্থদেও তালিকা কওে দ্রুত ব্যাবস্থা নিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবর পাঠানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর ধারনা প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে এই কালবৈশাখী ঝড়ে। এছাড়া বিভিন্ন মৌসুমী ফল সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে, তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামতে সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। এদিকে এক সাথে এত বাড়ি ঘরের চাল নষ্ট হওয়ায় মানুষ নতুন টিন ক্রয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। আর এ সুযোগে দোকানীরা বেশী দামে টিন বিক্রি করছেন। তাছারা ঘর মেরামতের জন্য কাঠমিস্ত্রি ও চাল মিস্ত্রির অভাব দেখা দেয়ায় মিস্ত্রিদের মজুরী বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে তাও পাওয়া কঠিন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী নববার্তা ষ্টাফ রিপোর্টার

আজো চেনা হরোনা নিজেকেই ...! 01715-787772

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com