রমজানের পূর্বেই খুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

১০৪ বার পঠিত

মোহাম্মদ রাহাদ রাজা,খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টারঃ মে মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। আর রমজানকে সামনে রেখেই ছোলা, চিড়া, মুড়ি, ও ডালসহ অন্যনান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়তে খুলনায় শুরু করেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বড় বড় ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে শুরু করেছে। অথচ পাইকারী বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এসব পণ্যের।

এদিকে পাইকারী বাজারের সাথে খুচরা বাজারের তফাতও অনেক। ভোক্তাদের দাবি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকটের যুক্তি খাড়া করছেন। তারা রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আর ভোক্তার সাশ্রয়ের দিক বিবেচনা করে মে মাসের মাঝামাঝি সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাক সেলের মাধ্যমে নগরীতে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, খুলনা বড় বাজারে পাইকারী প্রতিকেজি ছোলা ৭২ টাকা ৫০ পয়সা, চিড়া (সাদা) ৩২ টাকা ৫০ পয়সা, চিড়া (লাল) ৩৬ টাকা ২৫ পয়সা, মুড়ি ৫৫ টাকা ৩৩ পয়সা, বুটের ডাল ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা, মশুর ডাল (দেশি) ৯৬-৯৭ টাকা, মশুর ডাল (মোটা) ৬৩-৬৪ টাকা ও খেসারী ডাল ৬২-৬৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ খুচরা বাজারগুলোতে ছোলা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, চিড়া (সাদা) ৪০ টাকা, চিড়া (লাল) ৪৪ টাকা, মুড়ি (মোটা) ৯০ টাকা, মুড়ি (চিকন) ৮০ টাকা, বুটের ডাল ৪৪ টাকা, মশুর ডাল (দেশি) ১২০-১২৫ টাকা, মশুর ডাল (মোটা) ৭৫-৮০ টাকা, খেসারী ডাল ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা জানান, বুট ও খেসারী ডাল দিয়ে তৈরি হয় বেসন। রমজান মাসে বেসনের চাহিদাও থাকে বেশি। অথচ খেসারী ও বুটের ডালের দাম কম হলেও রমজান শুরু হওয়ার আগেই বেসনের দাম বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি বেসন ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী।  
খুলনায় বড় বাজারে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের আগেই প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম দিন দিন বাড়ছে। বড় বড় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে দাম বৃদ্ধি পায়। আরেক ব্যবসায়ী মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, অধিক লাভের জন্য খুলনার পাইকারী ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর এরই প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।    

খুলনা নগরীর কালিবাড়ী বাজার এলাকার নিউ ইউনাইটেড স্টোরের ম্যানেজার তপন কুমার সাহা আমাদের খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার কে জানান, বাজারে চিড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। লাল চিড়া ৫০ কেজি ওজনের বস্তা ১ হাজার ৮১০ টাকা ও সাদা চিড়ার বস্তা ১ হাজার ৬৩০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শব-ই-বরাতের পর চিড়ার দাম বেড়ে যাবে। নগরীর হেলাতলা রোডস্থ মেসার্স মনির এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ মনির হোসেন বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত মুড়ির সরবরাহ রয়েছে। দামও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চালের দাম বৃদ্ধি পেলে মুড়ির দামও বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়ার উপর নির্ভর করছে মুড়ির দাম। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে মুড়ির দাম কমে যাবে।

 

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com