জুন থেকেই খুলনা-কলকাতা ট্রেন চলাচল শুরু : রেলমন্ত্রী

৯৯ বার পঠিত

মোহাম্মদ রাহাদ রাজা,খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টারঃ আগামী জুন/১৭ মাস থেকে খুলনা-কলকাতা রুটে বাণিজ্যিকভাবে মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক। ইতোমধ্যে খুলনা-কলকাতা রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচল করেছে। আর নভেম্বরের মধ্যে খুলনায় নির্মাণাধীন আধুনিক রেল স্টেশনের কাজ সম্পন্ন হবে। এই কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না তা তদন্ত করে দেখা হবে। এছাড়া খুলনা থেকে দর্শনা পর্যন্ত ডাবল রেল লাইন নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় খুলনা রেল স্টেশনে খুলনা থেকে রাজশাহী রুটে নতুন লাল-সবুজ বগির আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে মন্ত্রী সবুজ ফ্লাগ উঁচু করলে ২৪৯ জন যাত্রী নিয়ে নতুন কোচ নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে খুলনা ছাড়ে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস।  তিনি বলেন, ৪ দলীয় জোট সরকারের সময়ে রেলপথ ছিল অবহেলিত। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলপথের দিকে নজর দেয়। প্রধানমন্ত্রী সেবারমান বৃদ্ধির জন্য ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর আলাদা রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করেন। আগে এই রেল খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫শ’ কোটি টাকা, এখন তা বৃদ্ধি করে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

এ সরকারের মেয়াদ এক বছর ৯ মাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুলনার রূপসা নদীর ওপর রেল সেতুসহ খুলনা-মংলা রেললাইন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ডাবল লাইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনের যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। রেলওয়ের উন্নয়নে আরও বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সম্পন্ন করা হবে। সারাদেশে রেলের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ হলে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, খুলনা আধুনিক রেল স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। যার প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। এ আধুনিক স্টেশনটি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আধুনিক রেল স্টেশন এলাকার উচ্ছেদ হওয়া প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের রেলের অব্যবহৃত জমিতে পুনর্বাসনের বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখাহবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা-রাজশাহী রুটে সাগরদাঁড়ি ট্রেনটি আগে পুরাতন কোচ দিয়ে চলাচল করতো। যাতে আসন সংখ্যাও সীমিত ছিল। পূর্বে আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনটির ধারণ ক্ষমতা ছিল মাত্র ৬৩৫জন। যার মধ্যে এসি সিটছিল মাত্র ৯টি। এখন ভারত থেকে আনা লাল-সবুজের নতুন ১২টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে ট্রেনটির ধারণ ক্ষমতা ৯৬৬ জন। যার মধ্যে রয়েছে সর্বাধুনিক ৪৮টি এসি সিট ও ৭৮টি এসি চেয়ার। এছাড়া রয়েছে ৮৪০টি নন-এসি শোভন চেয়ার। এ কম্পোজিশনে রয়েছে ব্রেকভ্যান সংযুক্ত ২টি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন পাওয়ার কার। এছাড়া সম্পূর্ণ আলাদা বাথরুম, টয়লেট, হাই কমোড, ফ্লাট কমোড, প্রত্যেক কোচের প্রত্যেক সাড়ির সিটের পাশে রয়েছে ল্যাপটপ ও মোবাইল চার্জিংয়ের সু-ব্যবস্থা।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান এমপি, রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন, খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) মোঃ আবদুল্লাহ আরেফ এবং রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সভাপতি এড. হুমায়ূন কবির। স্বাগত বক্তৃতা করেন রেলওয়ের পশ্চিম জোনেরজেনারেল ম্যানেজার মোঃ খায়রুল আলম।উল্লেখ্য, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২০০৭ সালের ১ জুন খুলনা-রাজশাহী রুটে চালু হয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com