পচন ধরেছে সোনার ফসলে, কৃষকের ভাগ্য পানির দখলে

২৩৮ বার পঠিত

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর # আর ১৫ থেকে ২০ দিন পর ক্ষেতের সয়াবিন ঘরে তুলতে পারতেন লক্ষ্মীপুরের কৃষকেরা। কিন্তু সমুদ্রের লঘু চাপের কারণে গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে কষ্টে ফলানো সেই সোনার ফসল তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। যেন কৃষকের ভাগ্যটা পানি দখল করে নিয়েছে। অনেক ক্ষেতের সয়াবিন গাছ এখন পানির নিচে ডুবে সয়াবিনে পচন ধরেছে। চোখের সামনে কষ্টার্জিত সোনার ফসল তলিয়ে যাওয়ার করুণ দৃশ্য দেখতে হচ্ছে চাষীদের। আবার কেউ কেউ চেষ্টা করছেন আধা পাকা সয়াবিন পানির নিচ থেকে কেটে ঘরে তুলতে। টানা ৬ দিনের বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে সদর উপজেলার মিয়ারবেড়ি, সুতারগুপ্তা, কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ, চরমার্টিন ও পাটোয়ারীর হাটসহ দক্ষিণ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ।  

লক্ষ্মীপুর কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে জেলার এবার মোট ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রামগতি উপজেলায় ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর, কমলনগরে ১৬ হাজার ৩১০, রায়পুরে ৭ হাজার ৯৬০, সদর উপজেলায় সাত হাজার ৯৫০ ও রামগঞ্জে ৮৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়।

সরেজমিন জেলার কমলনগর উপজেলার দক্ষিণ চরমার্টিন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত পানি জমায় মরে যাচ্ছে সয়াবিন গাছ। আবার কোথায়ও কোথায়ও ডুবে থাকা সয়াবিনে লেগেছে পচনও। অসময়ের এমন বৃষ্টি যেন সর্বনাশ ডেকে এনেছে কৃষকদের। ওই এলাকা কৃষকরা গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট বলেন, ৬ দিনের বৃষ্টির পানিতে ডুবে রয়েছে তাদের ফসল। যেন তাদের ভাগ্যে দখল করে নিয়েছে পানি। কারো কারো ক্ষেতে সয়াবিন গাছ পানির নিচে ডুবে সয়াবিনে পচন ধরেছে। গত কয়েকদিন ধরে কৃষকরা প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারচ্ছেননা তাদের কষ্টার্জিত এ ফসল।

একই এলাকার কৃষক মোঃ রুহুল আমিন জানান, ৬দিন ধরে তার ক্ষেতে সয়াবিন গাছ ৪ ফুট পানিতে ডুবে আছে। গাছও মরে গেছে, ফলনও সব পচে গেছে। তিনি এখন নিরুপায় হয়ে ডুবন্ত পচা আর আধাপাকা ফলন ঘরে তুলছে। মোঃ স্বপন নামে অপর এক কৃষক বলেন, এবারের অসময়ের বৃষ্টির মতো তারা আর এমন ক্ষতির মুখে পড়িনি। তাহার সয়াবিন, মরিচ, বাদাম ফসল হারিয়ে যেন বুকে-পিঠে মাটি লেগে গেছে।

কমলনগর উপজেলার তৈরাবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল জানান, মৌসুমের শুরুতে বেশিরভাগ কৃষক সার ও কীটনাশক বাকিতে নিয়ে যায় এবং মৌসুম শেষে ফসল বিক্রি করে তারা বাকি টাকা পরিশোধ করে। কৃষক ও ব্যবসার স্বার্থে আমরা অধিক হারে ব্যাংক ও মাল্টিপারপাস কোম্পানি থেকে লোন নিয়ে থাকি। যখন কৃষকের স্বপ্ন পানিতে ডুবে গেলো, তখন আমরাও হতাশায় ভোগী এই ভেবে যে, কিভাবে, কখন, তারা কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, জেলার এবার মোট ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়। গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে জেলার ৫টি উপজেলার ২৯ হাজার ৪’শ ৯৫ হেক্টর জমির সয়াবিনের আবাদ পানির নিচে রয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি #

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি। মোবাইলঃ 01714-953963, ইমেইলঃ kkumar3700@gmail.com

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com