তাহিরপুরে শনি হাওরের শেষ রক্ষায় ৩টি উপজেলার ৩সহসাধিক জনসাধারণ

৮৭ বার পঠিত

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) # সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বাঁধ ভেঙ্গে ডুবে যাওয়ার আশংকায় রয়েছে শনি হাওর। ঘন্টায় ঘন্টায় পানি বাড়তে থাকায় জীবনের সাথে যুদ্ধ করে ঠিকিয়ে রাখা শেষ চেষ্টায় হাওরে অবস্থান করছে ৩সহসাধিক জনসাধারন। শেষ রক্ষা না হলে শেষ সম্পদ এই হাওরটির পরিনাম হবে অন্যান্য হাওর গুলোর মত। উপজেলা প্রধান বোরো ধান উৎপাদন সমৃদ্ধ এ হাওরে সাড়ে ৬হাজার হেক্টর ও পাশ্ব ভর্তি জামালগঞ্জ উপজেলার ৩হাজার হেক্টর  চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলা দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের গুরমা এক্সটেশনে পানির পরিমান বাড়ছে অধিক হারে। এছাড়াও পানি এখন এ হাওরের কয়েকটি বাধেঁর উপর দিয়ে হাওরে প্রবেশ করছে। আর অন্যান্য বাঁধ গুলোর সমান সমান পানি। গত এক সাপ্তাহ ধরেই এই হাওর রক্ষায় সেচ্ছ শ্রমে কাজ করছে ৩টি উপজেলার ৩সহসাধিক জনসাধারন।

সোমবার বার দুপুরে শনি হাওরের বগিয়ানী, লালুরগোয়ালা, ঝালখালি, আহমখখালি, নান্টুখালি, গুরমা এক্সটেশনে বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চিকসা, বীরনগর, জয়নগর, উজান তাহিরপুর, মধ্য-তাহিরপুর, ভাটি-তাহিরপুর, চিসকা, গোবিন্দ্রশ্রী, দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর, মাড়ালা, বালিজুরী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর, দক্ষিনকুল, লোহাচুরা, বারুঙ্কা, পাতারি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ই্উনিয়নের দাওয়া, বাগুয়া, বসন্তপুর, রাজিন্দ্রপুর, খিরদরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহলী ইউনিয়নের মষলঘাট, রাধানগর, ইসলামপুর সহ অর্ধশতাধিক গ্রামের ৩সহশ্রাধিক কৃষক ও শ্রমিক।

সব হাওর হারিয়ে যাওয়ার পরেও সবার আশা অন্তত এই শেষ সম্বল শনির হাওর টুকু রক্ষা করা। পানি হাওরে অধিক হারে প্রবেশ করায় উৎবেগ আর উৎকন্ঠা বিরাজ করছে কৃষক ও স্থানীয় জনসাধারন মাঝে। খবর শুনলেই সবাই বাঁধে, উড়া, কোদাঁল ও বাঁধ নিয়ে ছুটে যাচ্ছে হাওর পাড়ে। এ হাওরটির বাঁধ রক্ষার জন্য সকাল থেকে লোকজন সর্বোচ্ছ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সবাই। কিন্তু কোন ভাবেই হাওরের বাঁধ গুলো রক্ষা করা যাচ্ছে না পানির চাপের কারনে জানান হাওরের বাঁধে অবস্থানকারী শ্রমিকগণ। তার পরেও শ্রমিকরা প্রান প্রন চেষ্টা করছে বাঁধ রক্ষায় শ্রমিকরা এমন খবর শুনে হতাশায় ভেঙ্গে যাচ্ছে উপজেলার সবার মন। কারণ এই হাওরের একটি বাঁধ ভেঙ্গে গেলে শনি হাওর রক্ষা আর কোন উপায় থাকবে না। সচেতন এলকাবাসী অভিযোগ করে বলেন-উপজেলার এ পর্যন্ত ২০টি হাওরের কাচাঁ, আধা পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতিটি বাঁধে পুকুর চুরি না করে একবারেই ডাকাতি করেছে যার জন্য হাজার হাজার কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষার বাঁধে এ পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে দেখা যায় নি।

উপজেলার ছোট বড় ২৩টি হাওরে উৎপাদিত ২শ কোটি টাকার ফসলের উপর নির্ভর করেই জীবন জীবিকা চলে হাজার হাজার কৃষকের। এই ফসল ফলাতে কৃষকরা এনজিও, ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ছড়া সুদে নেওয়া ঋন নেওয়ায় পরিশোধ নিয়ে হতাশায় ভুগছে হাওর পাড়ের কৃষকরা। বোরহার উদ্দিন, মেহেদী হাসান  উজ্জল, সাইদুল, মহিবুর, নাছরুম, জাহাঙ্গীর, সোহাগ সহ হাওরের বাঁধে অবস্থানকারী হাজার হাজার লোকজন জানান, হাওরে প্রতিটি বাঁধের সমান সমান পানি রয়েছে। মাঝে মাঝে পানি বাড়ায় বাঁধের উপর দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। বাঁধ রক্ষায় সর্বাতক চেষ্টায় করছি সবাই। গত বছর বদলী হওয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ও ওসি শহীদুল্লাহ এই হাওরের বাঁধ গুলো সহ প্রতিটি বাঁধে নিরলশ ভাবে দিন রাত বাঁধ গুলোতে কাজ করেছেন।

এছাড়াও তাদের মাধ্যমে হাওর বাসী অনেক উপকৃত হয়েছে। এই হাওর বাসীর জন্য তারা থাকলে এই হাওরের এমন হত না। তাদের কথা ভুলবে এই তাহিরপুর উপজেলার হাজার হাজার কৃষক পরিবার। তাদের মত কর্মকর্তা আবারও প্রয়োজন। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-সঠিক ভাবে বাঁধ নির্মাণ না করার কারণে একের পর এক হাওর ডুবছে। শনি হাওরের বাঁধ গুলো রক্ষায় আমি সহ সবাই অবস্থান করছি। প্রতিটি বাঁধ এখন ঝুঁকির মধ্যে আছে শেষ রক্ষা করতে পারব কি না জানি না আল্লাহ ভাল জানের।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাহাঙ্গীর আলম ভূইঁয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি #

মোবাইল-০১৭১৪৬৭৪৭৮১

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com