দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং : জনজীবনে অস্বস্তি

এই সংবাদ ১২০ বার পঠিত

মোহাম্মদ রাহাদ রাজা ,খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টারঃ গতকাল খুলনায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তাপমাত্রা যতো বাড়ছে তার সাথে বাড়ছে লোডশেডিং। দক্ষিণাঞ্চলে ১ মাসের ব্যবধানে বেড়েছে চাহিদা ৪৩৮ মেগাওয়াট। সেই সঙ্গে চৈত্রের দাবদাহের সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে লোডশেডিং। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও বিদ্যুতের লুকোচুরিতে ভুগছে অস্বস্তিতে মানুষ। এদিকে লো-ভোল্টেজের কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ এ অঞ্চলের গ্রাহকদের। অন্যদিকে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ না থাকা ও যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে লোড শেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।  

ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)’র দেয়া তথ্যানুযায়ী, ওজোপাডিকো’র নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা শহর ও ২০টি উপজেলায় ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন রয়েছে ৬৩টি। জাতীয় গ্রীড থেকে সাবস্টেশনগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এ অঞ্চলে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ জন।
সূত্রমতে গেল মার্চ মাসের তুলনায় চলতি মাসে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ৪৩৮ মেগাওয়াট। ১ মার্চ পিক আর অফপিক আওয়ার মিলিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৭৪৪ দশমিক ৪ মেগাওয়াট। সেখানে চৈত্রের দাবদাহের কারণে গত রবিবার চলতি মাসের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২ হাজার ১৮২ দশমিক ৪ মেগাওয়াট। আর মার্চের শেষে তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। সূত্র আরও জানায়, গত ২৩ মার্চের আগে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল না। তবে ২৪ মার্চ ৩৪ মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দেয়। তবে চলতি মাসে বিদ্যুতের ঘাটতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৭ এপ্রিল চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ১৩৩ মেগাওয়াট। ৮ এপ্রিল তা বৃদ্ধি পেয়ে ঘাটতি দেখা দেয় ২৭৯ দশমিক ৯ মেগাওয়াট। আর ৯ এপ্রিল চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২৭৬ মেগাওয়াট। তবে গতকাল বিদ্যুতের ঘাটতি কমে ২৬ মেগাওয়াট হয়।      

ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে গরমের সাথে বিদ্যুতের লুকোচুরিও চলছে। এতে বাড়িতে থাকা যেমন কষ্টকর হয়ে যায়, তেমনই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, লো-ভোল্টেজ আর ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলেন, কয়েক দিন ধরে দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও বিদ্যুতের দেখা মেলে না। সেই সাথে প্রচন্ড গরম রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
নগরীর খালিশপুর নতুন কলোনী এলাকার বাসিন্দা আকতার হোসেন বলেন, গরমের সাথে দিনের বেলায় কয়েকবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।   

এ বিষয়ে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)’র উপ-মহা-ব্যবস্থাপকরবীন্দ্রনাথ দত্ত নব বার্তা ডট কম এর খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার কে বলেন, গরমে হঠাৎ বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন সরবরাহ কমে যায়। অনেক সময় সাবস্টেশন থেকে সরবরাহে গ্রীড ফেল করায়ও সরবরাহে সমস্যা হয়ে থাকে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com