প্রশাসন ম্যানেজ, বেস্তে যাচ্ছে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান

৭২ বার পঠিত

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর: নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সরকারি নজরদারীর অভাবে লক্ষ্মীপুরের মেঘনার বক্ষে চলছে অবাধে জাটকা নিধন। মার্চ-এপ্রিল দু’মাস জাটকা ও মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও, তা মানছে না জেলেরা। জেলেদের দাবী বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ না থাকায়, জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই নদীতে মাছ শিকার করছেন তারা। তবে, এ জন্য কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার মেঘনা নদী ইলিশের অভয়াশ্রম। মাছের বংশ বিস্তারের লক্ষে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস নদীতে জাটকা ও মা ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন সরকার। অভিযান চলাকালীন সময়ে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ও অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলেদের দিয়ে নদীতে মাছ শিকার করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।  

সরজমিনে জেলার কমলনগর উপজেলার লুধুয়া ঘাট, কটোরিয়া ঘাট, বাত্তির খাল ও মতিরহাট মাছ ঘাট গিয়ে দেখা যায়, নদীতে ইঞ্জিল চালিত নৌকার বহর। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সরকারি নজরদারীর অভাবে নদীতে চলছে জাটকা নিধন। বিভিন্ন মাছ ঘাটে প্রকাশ্যে হাট বসিয়ে মাছ কেনা-বেচা করছেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা।  
জেলেদের দাবী, বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ না থাকায়, জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই নদীতে মাছ শিকার করছেন তারা। অথচ এ দু’মাস নদীতে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে জেলায় ২৫ হাজার ৯ শ’ ৪৭ জন জেলেকে ভিজিএফ কার্ড দিচ্ছে সরকার। সরকারী বরাদ্দ যেটুকু দেয়া হয়, তাও তারা পান না জেলেরা। এতে করে বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে নদীতে মাছ শিকার করতে যান তারা। কোন কোন জেলে বলেন, প্রসাশন যদি তাদেরকে গুলিও করে তারপরও জীবিকার তাগিদে তারা নদীতে মাছ ধরতে যাবেন। আবার অভিযানের নামে নদীতে চাঁদাবাজির কথাও জানান কেউ কেউ।
 
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জেলেরা বলেন, নদীতে অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলেদের জন্য সরকারী ভাবে যেটুকু বরাদ্দ আসে তা চেয়ারম্যান-মেম্বাররা নিজেদের লোকজনের মধ্যে ভাগভাটোরা করে দেন। এতে করে প্রকৃত জেলেরা সরকারী সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকারে যান। তবে জেলেদের নামে আসা সরকারী বরাদ্দ জনপ্রতিনিধিরা অন্যত্রে বিক্রী করে দেওয়ার অভিযোগও করেন অনেক জেলে।

 কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়ন ইউপি সদস্য মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, তার ওয়ার্ডে যে পরিমান জেলে সেই পরিমানের ১০ ভাগের এক ভাগও বিজিএফ কার্ড পায়না জেলেরা। জেলেদের পর্যাপ্ত বিজিএফ কার্ড দিতে না পারাই জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে যান। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ও অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলেদের দিয়ে নদীতে মাছ শিকার করাচ্ছেন। এতে করে ব্যার্থ হচ্ছে সরকারের জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। এ অবস্থা চলতে থাকলে ইলিশ উৎপাদ ব্যহত হওয়ার আশঙ্ক করছেন তারা।  

অভিযান চলাকালীন সময়ে নদীতে মাছ ধরার কথা স্বীকার করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যাহ জানালেন, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সহায়তায় তাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিদিনই তারা অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে সেগুলো বিনষ্ট করছেন। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাছ ধরে বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ইলিশ শুন্য হয়ে পড়বে নদী গুলো।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি #

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি। মোবাইলঃ 01714-953963, ইমেইলঃ kkumar3700@gmail.com

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com