আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ সন্ধ্যা ৭:৫২ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

নারী প্রশাসকের অহঙ্কার আগৈলঝাড়ার এসি (ল্যান্ড) শতরূপা তালুকদার

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বিগত ’৮০র দশকে বরিশাল জেলার তৎকালীন গৌরনদী থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো উপজেলা প্রশাসনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে একজন নারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগের শুরুতে উপজেলার জনগণ অস্বস্তিতে থাকলেও যোগ্যতা, সততা আর সেবার মাধ্যমে এখন আগৈলঝাড়াবাসীর আস্থার স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শতরূপা তালুকদার। দীর্ঘদিন শূণ্য পদের পর ২০১৬ সালের ৩১ মে শতরূপা তালুকদার যোগদানের পরই এক যুগের জঞ্জাল ভরা জট পাকানো ভূমি সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভূমি অফিসকে দালাল ও জঞ্জালমুক্ত করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ও পরধর্ম সহিষ্ণু শতরূপা তালুকদার নিজেকে দূর্নীতির উর্ধে রেখে সততা, নিষ্ঠা আর জনগণের সাথে সরাসরি কথা বলে উপজেলার ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান করে জনগণের দোঁরগোড়ায় সরকারের নাগরিক সেবা পৌঁছে দিয়ে ভূমি অফিসকে এখন আগৈলঝাড়া উপজেলার মডেল প্রশাসন হিসেবে পরিচিতি দিয়েছেন। ভূমি সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সর্বোচ্চ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা, ন্যায্য দাপ্তরিক বিচার ও জনগণকে আন্তরিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনায় তার দক্ষতাকে নারী সাফল্যের অগ্রগতির ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ নাগরিক সমাজ।

তিন যুগের পুরোনো উপজেলা আগৈলঝাড়া। রাজনীতি, স্বীয় সংস্কৃতি আর সমৃদ্ধ ইতিহাসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় সাধারণ জনগণের বিপক্ষে অন্যায়ভাবে বিতর্কিত কাজ করে  অনেক কর্মকর্তাই জনগণের আস্থা হারিয়েছিলেন। আবার অনেক কর্মকর্তার ছিল সমস্যা সমাধানে অনাগ্রহ। এসব কারণে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় এই পদটিতে দীর্ঘদিন ধরে দেখা দেয় গতিহীনতা আর অস্বচ্ছতা। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি দাপ্তরিক কাজ করেন। এই সময়ের মধ্যে যে কোন সময় সাধারণ নাগরিকরা তার সাথে দেখা করার সুযোগ পান। কথা বলেন তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে।  

উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ১৯৮৯ সালের ১৩ মে যোগদান করেন মতিনুল হক। সর্বশেষ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১১ এপ্রিল আগৈলঝাড়ায় যোগদান করেন মীর খায়রুল আলম। তিনি ২০০১ সালের ৯ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাই এই পদটির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। প্রশাসক হিসেবে নারী প্রশাসকের যোগ্যতা আর সাধারণ জনগনের আস্থা হিসেবে তাদের মনে জায়গা করা ও প্রশ্ন তোলা মানুষের নেতিবাচক ধারণা পাল্টাতে খুব বেশি সময় লাগেনি শতরূপা তালুকদারের।

শুধুমাত্র প্রশাসনের প্রতিদিনের রুটিন মাফিক কাজই নয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, সঙ্গীত প্রেমী, সাস্কৃতিমনা ও একজন ধর্মভীরু রমণী হিসেবে অল্পদিনেই উপজেলার সর্বত্র নিজেকে পরিচিতি করেছেন তিনি। বছর না ঘুরতেই উপজেলার গন্ডি পেরিয়ে শতরূপা তালুকদারের পরিচিতি মিলেছে বরিশাল জেলায়ও। ৩০তম বিসিএস উত্তীর্ণ শতরূপা তালুকদার আইন পেশার ছাত্রী। ২০১৬ সালের ৩১ মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে আগৈলঝাড়ায় যোগদান করেই স্বল্প মৃদুভাষী, নিষ্ঠাবান হিসেবে নারী তো বটেই, কর্মগুণে যোগ্য প্রশাসক হিসেবে জেলায়ও এখন মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সহকারী কমান্ডার, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আ. রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর ভূমি সেক্টরের বিশৃঙ্খলা কোন প্রশাসক ফিরাতে পারেন নি। শতরূপা তালুকদার একজন নারী প্রশাসক হয়ে নিজ দক্ষতা, সততার গুণে অল্পদিনেই প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। প্রশাসক হিসেবে বিশেষ করে নারী প্রশাসক হিসেবে তিনি আগৈলঝাড়াবাসীর আস্থা ও আশ্রয়ের ঠিকানার একজন মডেল প্রশাসক হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com