মালয়েশিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৩

মোহাম্মদ রাহাদ রাজা,খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টারঃ মালয়েশিয়ায় বড় অংকের বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশের একটি সিন্ডিকেটের নানা প্রলোভনে দেশের সহজ-সরল যুবকদের নিয়ে আটক রেখে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করছে।

এ ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬ খুলনার একটি দল দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় সিন্ডিকেটের তিন সদস্যকে গত ৩ এপ্রিল/১৭ বাগেরহাট থেকে আটক করেছে। 

আটক ৩ জন যথাক্রমে – আহসান হাবিব খান (৪৩),রুহুল আমিন খান (৪২) ও বিকাশ এজেন্ট ইমরুল ইসলাম টিটু (২৬)। 

গত ৩ এপ্রিল/১৭ দুপুরে র‌্যাব-৬ খুলনার লবণচরাস্থ সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। 

র‌্যাব-৬ খুলনার পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল  ৯টার দিকে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় সিন্ডিকেটের এ ৩ সদস্যকে আটক করা হয়। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামের আজগর সরদারের ছেলে ইমরান সরদার, একই গ্রামের ফয়জুল শিকদারের ছেলে দিলু শিকদার এবং আলী মিয়া সরদারের ছেলে রাসেল সরদারসহ ৪ জন একই এলাকার ব্র্যাক কর্মকর্তা শাইজিদ খানের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বড় অংকের বেতনে চাকরিতে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পায়। শাইজিদ তার ভাই নূরুল আমিন খান ও বায়জিদ খান দীর্ঘ সময় ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে বলে জানানোয় তাদের কাছে বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। সে মোতাবেক প্রত্যেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের মালয়েশিয়ায় নেয়া হয়। 

যাবার সময় উড়োজাহাজে এ রকম আরও ৬ জনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। মোট ১০ জন কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে শাইজিদ খানের ভাই ও অন্যান্যরা তাদের সঙ্গে দেখা করে গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে একটি ১২তলা ভবনে আটকে রেখে তাদের ১০ জনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। না দিলে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে বাংলাদেশে স্বজনদের ফোন করেও মুক্তিপণ দাবি করা হয়। 

একইসঙ্গে জিম্মিদেরও কথা বলিয়ে কান্নাকাটি শুনিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৪-৫ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দিতে বলা হয়। 

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এভাবে যারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৫শ’ টাকা পরিশোধ করেছেন- তারপর ৮ জনকে জিম্মিদশা থেকে বাইরে এনে পাসপোর্ট-ভিসা রেখে সড়কে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখানে তারা পুলিশের হাতে আটক হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের পর গত ১৫ মার্চ তারা দেশে ফিরতে সক্ষম হয়। কিন্তু টাকা না দেয়ায় বাকি ২ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও জানা জায়নি। 

র‌্যাব-৬ খুলনার পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আট যুবক দেশে ফিরে র‌্যাব সদরদপ্তরে অভিযোগ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা অনুসন্ধান শুরু করেন। 

পরে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে র‍্যাব-৬ খুলনা গোয়েন্দা দল মুক্তিপণের অর্থ লেনদেনকারী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিকাশ এজেন্ট ইমরুল ইসলাম টিটুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তার বিকাশ নম্বরে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মেলায় তাকে আটক করা হয়।  তার স্বীকারোক্তিতে সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদেরও আটক করা হয়।”

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
৬০ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com