লক্ষ্মীপুরে কোচিংবাজ শিক্ষকের কাছে অসহায় শিক্ষার্থীরা

৮৭ বার পঠিত

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বালিকা বিদ্যানিকেতন নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে অমাণ্য করে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কোচিংয়ে বাধ্য করছে। ৫’শ টাকা ফি নির্ধারণ করে প্রত্যেক ছাত্রীদের কোচিং ক্লাশ করতে চাপ সৃষ্টি করছেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন। এটাকে কোচিং নয় অতিরিক্ত ক্লাস বলে দাবী করেন তিনি। আবার কোচিংয়ে রাজী না হলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ারসহ ছাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে করে ক্ষিপ্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থীরা অভিাযোগ করে বলেন, বেত্রাঘাত করে জোরপূর্বক এসব কোচিং ক্লাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। আর কোচিং করতে না চাইলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ারসহ ছাত্রীদের বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ ও মারধর করেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক লিটন চন্দ্র দাস। এমনকি উপবৃত্তির তালিকা থেকে নাম কেটে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতি ছাত্রী থেকে ৩’শ টাকা করে আদায় করার অভিযোগও রয়েছে এ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

ছাত্রীদের অভিযোগের বিষয় জানতে গিয়ে প্রথমে পাওয়া যায়নি প্রধান শিক্ষককে। সকাল ১১টা বাজলেও তালা ঝুলিয়ে থাকতে দেখা গেছে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে। ছাত্রীরা সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ দিচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে প্রায় ঘন্টা খানেক পর বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন প্রধান শিক্ষক। এসে একপর্যায়ে চড়াও হয়ে ক্যামেরা নিয়েও টানাহেঁছড়ার চেষ্টা করেন তিনি। অবিভাবকরা জানান, যদি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো ক্লাস করানো হয় তাহলে কোচিং এর কোন প্রয়োজন নেই। আর যেভাবে তাদের মেয়েদের কোচিংয়ের ফাঁদে ফেলছেন শিক্ষকরা। যেন কোচিংবাজ এ শিক্ষকের কাছে অসহায় শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেনের স্ত্রী একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হাসিনা আক্তারের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয় একটি লাইব্রেরী থেকে কমিশন নিয়ে ছাত্রীদেরকে নির্ধারিত দুইটি গাইড কিনতে বাধ্য করছেন তিনি। তার পছন্দ মতো গাইড না কিনে বিদ্যালয়ের ক্লাশে ঢুকতে না দেয়ার ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ারও হুমকি দেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, যারা আগ্রহী শুধু তাদেরকে অতিরিক্ত ক্লাশ হিসেবে কোচিং নেয়া হয়। আর সেটি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুমতিক্রমে রেজুলেশনের মাধ্যমে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় একাধিবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ দিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের আনীত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে, ছাত্রীদের কোচিং ক্লাশ করতে বাধ্য করা ও কোচিং ক্লাশ করতে রাজী না হওয়ায় বেত্রাঘাত করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করার কথা জানান শিক্ষা অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি #

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি। মোবাইলঃ 01714-953963, ইমেইলঃ kkumar3700@gmail.com

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com