বাবা মেয়ের তেলেসমাতী, ভুয়া ঠিকানায়-তিন জেলায় তিন মামলা! (ভিডিওসহ)

এই সংবাদ ১১৪ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহে এবার স্ত্রীর নির্যাতনে ডিসিপুলের ড্রাইভার শফিউদ্দিন লিটু (৪০) জেল হাজতে কারাবাস জাপন করছে। ঝিনাইদহ সদরের হাট গোপালপুর গ্রামের ডিসিপুলের ড্রাইভার শফিউদ্দিন লিটু বারবার স্ত্রীর নির্যাতনের স্বীকার হওয়ার পরও শেষ রক্ষা হলো না, অবশেষে তার জেল হাজতে দিন কাটাছে। স্ত্রী সালমা খাতুন (৩০) ভুয়া ঠিকানায়-তিন জেলায় তিন মামলা করেছে। মামলার বোঝা টানতে টানতে লিটু পরিবার ধ্বংস হওয়ার উপক্রম। স্ত্রীর মামলার পর মামলা করে সরকারী কর্মচারী লিটুর জীবন অতিষ্ট করে তুলেছেন। সালমা ও লিটু দম্পতির সংসারে এক মাত্র পৌষ্য মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়–য়া লাবন্যর (৯) মা সালমা কতৃক পিতা লিটুর প্রতি নির্যাতনের ভয়াবহ কর্মকান্ডের কথা শুনে গাঁ শিউড়ে উঠে।

লিটুর প্রতিবেশী সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদরের হাট গোপালপুর গ্রমের মোফাজ্জেল হোসেন কাজল ড্রাইভারের দুকন্যা ও তিন ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় পুত্র শফিউদ্দিন লিটুর সাথে একই এলাকার পদ্মাকর ইউনিয়নের খুলুল বেড়বাড়িয়া গ্রামের ইউনুছ আলী জোয়ার্দ্দারের চার ছেলে ও মেয়ের মধ্যে প্রথম কন্যা সালমা খাতুনের সাথে ২০০৪ সালে বিবাহ হয়। সে মোতাবেক লিটু সচিবালয়ে ও স্ত্রী পানি উন্নয়ন বোডের্র প্রজেক্টে চাকরির সুবাদে গত ৮ বছর পূর্বে লিটু তার স্ত্রী সালমাকে নিয়ে ঢাকার খিলগাও স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করছিলো।

সালমা খাতুন ঢাকার লালমাটিয়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোডের্র প্রজেক্টে চাকরি করছিলো। দীর্ঘ ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের কোন সন্তান না থাকায় ৪বার সালমাকে ভারতের কলকাতা মেডিকেলে চিকিৎসা করান লিটু। অবস্থার উন্নতি না হলে ও বিবাহের ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের সংসারে কোন সন্তানাদি না আসায় স্থানীয় খিলগাও এলাকার রেললাইন বস্তি থেকে জৈনিক মহিলার যমজ বাচ্চা হলে, শফিউদ্দিন লিটু ও স্ত্রী সালমা খাতুন উক্ত মহিলার যমজ বাচ্চা থেকে একটি বাচ্চা মেয়ে লাবণ্যকে পোষ্য হিসাবে গ্রহন করে।

এদিকে প্রতিবেশিদের মধ্যে রবিউল ইসলাম, হাসান মোল্লা, মধু মন্ডল, আনোয়ার হোসেন, সুজিত কুন্ডু বলেন, ঢাকাতে লিটু ও সালমা চাকুরী করা অবস্থায় সালমা লিটুকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। লিটু জানতে পারে তার স্ত্রী সালমা খাতুন অন্য পরপুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। ক্রমান্বয়ে এ পরকীয়া গভীর থেকে গভীরে পরিনত হলে লিটু স্ত্রী সালমাকে বুঝাইতে থাকে। সালমা খাতুন লিটুর কোন কথা বার্তা কর্নপাত করেনা। প্রতিনিয়ত রাত্রেই চলতো তাদের ঝগড়া ফ্যাসাদ, এমনকি সালমা লিটুকে মারধর করতেও দ্বিধাবোধ করতোনা। স্থানীয় বখাটে পোলা পান দ্বারা হুমকী দিতে থাকলে লিটু আপন সম্মানার্থে ঢাকা থেকে বদলী হয়ে ঝিনাইদহ ডিসিপুলের ড্রাইভার হিসাবে যোগদান করবে।

লিটু ভেবেছিল হয়ত ঝিনাইদহে ফিরে গেলে স্ত্রী সালমা ভালো হয়ে যেতে পারে ও আমার সাথে ঝিনাইদহে ফিরে আসবে, ফলে আমার ভাঙ্গা সংসারটা আবার জোড়া লাগবে। কিন্তু সে আশায় বালি, বড় আশা নিয়ে লিটু ঝিনাইদহে ফিরে আসলেও আসেনী তার স্ত্রী সালমা খাতুন। লিটু এবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, তার স্ত্রী ঢাকার খিলগাও স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় জৈনিক পুরুষের সাথে বসবাস করছে। এ খবর জানতে পেরে, লিটু নিজের সম্মানার্থে স্ত্রী সালমাকে ঝিনাইদহে ফিরিয়ে আনার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে বরংবার টিকিট ক্রয় করে। সালমা বিভিন্ন অযুহাতে লিটুর ক্রয়কৃত টিকিট বাতিল করতে থাকে।
কোন উপায়ন্ত না পেয়ে নিজ সম্মানার্থে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের চাপে প্রথম স্ত্রী সালমার অনুমতি সাপেক্ষে মাগুরার ফুলবাড়ি গ্রামের তাইজুল ইসলামের মেয়ে সিমা খাতুনকে বিবাহ করে। সিমা খাতুনকে বিবাহ করার পরে সুচতুর সালমা খাতুন ঢাকার জজ কোর্টে ২০১৫ সালে লিটুর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে। মামলা করার পরে সালমা খাতুন লিটুকে জানায়, যদি সে দ্বিতীয় স্ত্রী সিমা খাতুনকে তালাক দিয়ে পুনরায় তাকে ঘরে তুলে তাহলে সালমা লিটুর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিবে।

আশায় ভালোবাসায় লিটু সালমার সমস্ত কথা মেনে নেয় সংসারে শান্তি ফিরে আসবে ও ছোট পৌষ্য বাচ্চা লাবন্যর সুখের আশায়। লিটু সালমার কথায় সরল বিশ্বাসে দেড় মাসের মাথায় একলাখ টাকা ও তিন মাসের খোরপোষ দিয়ে শালিস মিমাংশা করে সিমাকে তালাক দেয়। শর্ত মোতাবেক সালমা লিটুর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা তুলে নিয়ে লিটুর নিকটে ঢাকাতে থাকা অবস্থায় খরচা বাবদ প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করে। সে মোতাবেক লিটু তার বেতনের অধিকাংশ টাকা ঢাকাতে সালমার কাছে পাঠাতে শুরু করে। সালমা এত পরিমান টাকা নিয়ে কি করে ?

খোঁজ নিয়ে লিটু আবারও জানতে পারে, সালমা আবারও ঢাকা আনসার ক্যাম্প এলাকায় অন্য পরপুরুষের সাথে ঘর ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে একই ঘরে বসবাস করে এবার লিটু সালমাকে ঝিনাইদহে ফেরত নিয়ে আসার জন্য ঢাকায় রওয়ানা করে। ঢাকায় তিনদিন থাকার পরেও সালমা মোবাইলে কথা বলে কিন্তু দেখা না করে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে লিটুকে ঝিনাইদহে ফিরে যেতে বলে। সর্ব প্রকার চেষ্টা করেও সালমার লিটুর সাথে দেখা না করলে লিটু হতাশ হয়ে দুঃখ ভরা হৃদয়ে ফেরত আসে। লিটু ঝিনাইদহে ফিরে এসে আবারও সালমাকে বুঝাতে থাকে। এ ঘটনায় লিটুর বন্ধুদের মধ্যে ঝিনাইদহের চাকলাপাড়ার মিন্টু, দিপু কুমার, মিলন, বায়েজিদ, শফিয়ার এবং ডিসিপুরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে অবগত আছেন।

সব চেষ্টা বিফলের পরে অবশেষে লিটু সালমাকে ২০১৭ সালের ২১শে জানুয়ারী একতরফা তালাক দিতে বাধ্য হয়। তালাক পত্র পাওয়ার পরে ছলনাময়ী সালমা ও তার পিতা ইউনুছ আলী লিটুর বাসভবন ঝিনাইদহে ডিসিপুলের ষ্ট্যাফ কোয়ার্টারে ফিরে এসে বলে, আমি এত গভীর রাতে বাড়ি যেতে পারব না। লাবণ্যকে অনেক দিন দেখীনি, তাই লাবণ্যর সাথে একটু কথাবার্তা শেষ করে কাল সকালে ফিরে যাব। এদিকে লিটু তাদেরকে রেখে গ্রামের বাড়িতে চলে গেলে রাত আনুমানিক ১টার দিকে লাবন্যকে ফেলে রেখে সালমা ও তার পিতা রুমের ভিতরে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
হাল ছাড়েনী সুচতুর সালমা ও তার পিতা ইউনুছ আলী চলতী বছরে মাগুরা এলাকার ভাড়াটিয়া সেজে মাগুরা কোর্টে যৌতুক মামলা দায়ের করে যার নং-৬৫/১৭। উক্ত মামলায় লিটু জামীনে আছে।

তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া লাবন্যর ভাষ্য মতে, ঘটনার দিন ১১ই মার্চ ২০১৭ইং তারিখে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে লিটু ঝিনাইদহে ডিউটিরত অবস্থায় নতুন নাটকে অভিনয়ে সালমা খাতুন বুরখা পরে মুখ ঢাকা, হাতে এবং পায়ে কাল মোজা পরিহীত সাম্প্রতীক জঙ্গির ন্যায় লিটুর গ্রামের খালী বাড়িতে চুপিসারে প্রবেশ করে। পানি খাওয়া উদ্দেশ্যে গেট খুলতে বলে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে কন্যা লাবন্যকে নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে মেয়ে লাবন্যকে বিভিন্ন কথাবার্তা শিখিয়ে ও ভয় দেখিয়ে বলে যে, আমার ব্যাগে বিষ আছে তুই আমার শিখানো কথা অনুযায়ী বলবি তা না হলে আমি এই বিষ পান করে আত্মহত্যা করব।

লাবন্য সালমার কথা না শুনলে সালমা তার ব্যাগে লুকিয়ে রাখা বিষের বতল খুলে নিজের হাতে মুখে ও শরীরে বিষ মাখায়। বিষ মাখিয়ে ঘরের বাইরে এসে উঠানে শুয়ে পড়ে চিৎকার করে বলে যে, লিটু, টিটু, শ্বাশুড়ী ফজিলাতুন্নেছা, রোকেয়া সহ টিটুর স্ত্রী আমাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও বিষ খাইয়ে হত্যা করতে চাচ্ছে। সালমার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখে সালমা তার শরীরে বিষ মাখা অবস্থায় উঠানে গড়া গড়ি দিচ্ছে।

পরে প্রতিবেশিরা সালমাকে প্রায় দেড় ঘন্টা বুঝানোর পরে সালমা ভ্যান যোগে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পুর্ব থেকেই তার ব্যাগে রাখা ফটোশপে এডিট করা মারধরের ছবি সাংবাদিকদের কাছে দিয়ে সালমা বলেন, আমার মোবাইলে ধারন কারা মারধরের ছবি। এ ছবি গুলো দিয়ে আপনারা বিভিন্ন পত্রপত্রীকায় মারধরের সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর পেপার কাটিং করে ঝিনাইদহ আদালতে মহামান্য বিচারকের নিকট প্রেরন করে লিটুর জামীন বারংবার বাতিল করছে ধুর্ত সালমা।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন ১২ই মার্চ ২০১৭ইং ঝিনাইদহ সদর থানায় সালমা খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০(সং-০৩) এর ১১(গ)/৩০ তৎসহ ৩৪২,৩২৩,৩২৬,৩০৭ পিসি ধারা অনুযায়ী পাঁচ জনের নামে মামলা দায়ের করে। অথচ লিটু ও তার বোন রোকেয়া ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে জানীয়েছেন মেয়ে লাবন্য ও প্রতিবেশিরা।

এদিকে পদ্মাকর ইউনিয়নের খুলুল বেড়বাড়িয়া গ্রামের সালমার চাচা হামীদ জোয়ার্দ্দার ও চাচাতো ভাই হাসান সাংবাদিককে জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এঘটনার সমাধানে সালমা ও তার পিতা ইউনুছ আলী কে বারবার তাগাদা দেওয়া হলে আমাদের কথা না শুনে তারা নিজেদের মত করে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা দায়ের করে বেড়াচ্ছে। তারা আরো বলেন, তালাক হওয়ার দুমাস পরে সালমা কি কারনে ও কিভাবে, কি উদ্দেশ্যে লিটুর বাড়িতে যায় ? অবশ্যই এঘটনা সালমাদের নতুন নাটকে লিটুকে ফাঁসানোর বৃথা চেষ্টা মাত্র। সালমা ও তার পিতা ইউনুছ আলী নিজেদের বাড়িতে থাকেনা। কোথায় থাকে তার হদিস কেউই দিতে পারেনি।

আবার গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, লিটু তার বাড়ির জমি থেকে ৪ শতাংশ জমি সালমার নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়, হাট গোপালপুর বাজারে ৫ লাখ টাকা মুল্যের একটি দোকান ঘর সালমার কথানুযায়ী তার পিতা ইউনুছ আলীর নামে ক্রয় করিয়া দেয়। পরবর্তিতে দোকানটি বিক্রয় করিয়া ইউনুছ আলীর বড় সন্তানকে সে বিদেশ পাঠায়। তাছাড়া লিটুর বেতনের সমস্ত টাকা পয়সা শেষ করে অবশেষে লিটুর বিরুদ্ধে বাবা মেয়ে তেলেসমাতী করে ভুয়া ঠিকানায় তিন জেলায় তিন মামলা দায়ের করেছে বলেও তারা জানীয়েছে।

হাট গোপালপুর বাজারের ফারুক মেডিকোর ফারুক, ভাই ভাই ফার্মেসীর বাদশা, চায়ের দোকান মালিক বাবুল ও মাখন, ইলেকট্রিক মিস্ত্রী মামুন ও সালমার চাচা হামীদ জোয়ার্দ্দার বলেন, হাট গোপালপুর বাজারের পাওয়ার হাউজের পশ্চীমে সালমার বাবা ইউনুছ আলী জোয়ার্দ্দার আনুমানিক তিন বছর পুর্বে একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুল চালু করেন। স্কুলের আয়ার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় নিজ সন্তানদ্বয়ের কাছে ধরা পড়ে। ইউনুছ আলী জোয়ার্দ্দারের নিজের দুসন্তানের কাছে ধরা পড়লে নিজের পিতাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বেধড়ক মারপিট করে। পরবর্তিতে ইউনুছ আলী জোয়ার্দ্দার এলাকার বাইরে বাইরে থাকেন বলেও স্থানীরা জানীয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য ইমাদুল হক ও পদ্মাকর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ নিজামুল গণী লিটু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বারংবার মিমাংশা করার চেষ্টা করলেও ছালমা খাতুন আমাদের কারোর কমান্ড মানেনা। সে নিজেকে সব জান্তা ও ক্ষমতাশালী মনে করে। তাছাড়া সালমা জৈনিক পুরুষের সাথে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে বলেও তারা জানান। নিজেদের ভুয়া ঠিকানা ব্যাবহার করে তিন জেলায় তিনটা মিথ্যা মামলা করেছেন লিটুর বিরুদ্ধে বলেও  ইমাদুল হক ও চেয়ারম্যান সৈয়দ নিজামুল গণী লিটু জানীয়েছেন। ছালমা খাতুন এ সমস্ত ঘটনা অস্বীকার করে এসংবাদটি যেন না প্রকাশ হয় সে জন্য সালমা বিভিন্ন পথ অবলম্বন করছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com