ঝিনাইদহে ৪ মাসে ১০৮ জন নারী-পুরুষের আত্মহত্যা, ৬ বছরে ২২২৪জন!

৮১ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলায় থামছেই না আত্মহত্যা গত  ৪মাস (নভেম্বর১৬-ফেব্রুয়ারী ১৭) পর্যন্ত ১০৮জন নারী পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে এর মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরো বেশি। গত নভেম্বর মাসে ২৬জন, ডিসেম্বরে ২৮জন,জানুয়ারীতে ২৯জন ও ফেব্রুয়ারী মাসে ২৫জন আত্মহত্যা করেছে। গত ৬ বছরের( ২০১০-২০১৬ পর্যন্ত) হিসাবে জেলায় প্রায়  ২ হাজার ২শ ২৪জন আত্মহত্যা করেছে পুলিশ, হাসপাতাল ও  বেরকারি সংস্থা থেকে জানা গেছে।

জেলা আইন শৃংখলা মিটিং সুত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ফেব্রুয়ারী মাসে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ফাসিতে ঝুলে ১জন পুরুষ ও  ২জন মহিলা, বিষপান করে ২জন পুরুষ ও ১জন মহিলা এবং অন্য ভাবে আরো ১জন সহ ৭জন আত্মহত্যা করেছে।

শৈলকুপা উপজেলায় ফাসিতে ঝুলে ১জন পুরুষ ও ১জন মহিলা, বিষপানে ২জন মহিলাসহ ৪জন, হরিণাকুন্ডুতে ফাসিতে ঝুলে ২জন পুরুষ ও ২জন মহিলা, অন্যভাবে আরো ১জন সহ ৫জন, কালীগঞ্জে ফাসিতে ঝুলে ১জন পুরুষ ও ১জন মহিলা, বিষপানে ১জন মহিলাসহ ৩জন, কোটচাদপুরে ফাসিতে ঝুলে ১জন মহিলা, মহেশপুরে ফাসিতে ঝুলে ১জন পুরুষ ও ৩জন মহিলা,বিষ পানে ১জন পুরুষসহ ৫জন। এছাড়াও নভেম্বর মাসে ১৫জন নারী ও ১১ পুরুষ, ডিসেম্বর মাসে ১৭জন নারী ও ১১জন পুরুষ। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে সদর উপজেলায় ১১জন আত্মহত্যা করে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল কালীগঞ্জে। এখানে আত্মহত্যা করে ৮জন। জানুয়ারী মাসে ফাসিতে ঝুলে ৪জন পুরুষ, ৯জন মহিলা, বিষপানে  ৫জন পুুরুষ ও ২জন মহিলা, অন্য ভাবে ৬জন পুরুষ ও ৩জন মহিলাসহ ২৯জন আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ, হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সুত্রে আরো জানা যায়, ঝিনাইদহের  ৬টি উপজেলয় ২০১০ সালে আত্মহত্যা করেছে ৩৮০জন, আর চেষ্টা করেছে ২১০৯জন, ২০১১ সালে আত্মহত্যা করেছে ৩০৯জন,চেষ্টা করেছে ২৮৪৯জন, ২০১২ সালে আত্মহত্যা করেছে ২৯৫জন, চেষ্টা করেছে ২৫৮৩জন, ২০১৩ সালে আত্মহত্যা করেছে ৩১১জন, চেষ্টা করেছে ২৬৩৯জন, ২০১৪ সালে আত্মহত্যা করেছে ৩০৩জন, চেষ্টা করেছে ২৪০৯জন, ২০১৫ সালে আত্মহত্যা করেছে ৩৬৩জন আর চেষ্টা করেছে ২৬০০জন এবং ২০১৬ সালে আরো ২৬৩ জন আত্মহত্যা করেছে।

ঝিনাইদহে আত্মহত্যা  বন্ধ নিয়ে গবেষণা ও আত্মহত্যা বন্ধ বিষয়ে কাজ করছে শোভা নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম  জানান, ঝিনাইদহের মানুষ একটি আবেগপ্রবন। এখানকার মানুষ ঠুনকো কারনেই আত্মহত্যা করে। নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ, সংসারে অশান্তি, অসুস্থ্যতা, বাবা-মায়ের উপর অভিমান, প্রেম ঘটিত ব্যাপার, কৃষকের ঘরে কীটনাশকের সহজ লভ্যতা ও তুচ্ছ ঘটনায় আবেগ প্রবণ হয়ে এ জেলার মানুষ হরহামেশাই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তিনি আরো জানান, তারা আত্মহত্যা বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন  গ্রামে সভা সেমিনার, উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com