দিনাজপুরের পার্বতীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা

৮৩ বার পঠিত

আসাদুর রহমান, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার চার লাখ মানুষ।  পার্বতীপুর উপজেলার চার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র সরকারি হাসপাতাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সম্প্রতি হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় হাসপাতালটিতে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। মানসম্মত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে যাচ্ছেন।

৫০ শয্যার এই হাসপাতালের জন্য ৩৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেনে মাত্র আটজন। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। বাকি সাতজন চিকিৎসকের একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার। অল্প সংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে জোড়া তালি দিয়ে চলছে এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি এই হাসপাতালে রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব। হাসপাতালের দুটি এক্স-রে মেশিনের একটি ১৯৯০ সাল থেকে এবং অন্যটি ২০০৫ সাল থেকে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে এক্স-রে করতে সাধারণ রোগীদের বাইরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।

এ ছাড়াও রোগ নির্ণয়ের আরো কয়েকটি মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আপারেশন থিয়েটার থাকলেও অ্যানেসথেসিওলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রায় দুইশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও রোগ নির্ণয়ের জন্য যন্ত্রপাতি না থাকায় রোগীরা সুচিকিৎসা পান না। এছাড়াও এ উপজেলায় ইউনিয়নবাসীদের জন্য উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে আটটি এবং কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৪০টি। এসব উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বেহাল দশা। নেই ওষুধ, নেই ডাক্তার।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষের ছাদে ফাটল ধরেছে এবং উপরের ইনডোরের ল্যাট্রিনের পাইপ ফেটে ময়লা পানি ভেতরে ঢুকছে। ফলে জরাজীর্ণ ও নোংরা পরিবেশে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেশির ভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এইচ এম বোরহান-উল- ইসলাম সিদ্দিকী জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, কর্মচারী ও সরঞ্জামের অভাবে সুচিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com