কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গুলি ছুড়ে উল্লাস করা সেই পৌর মেয়রকে ক্ষমা করলেন ডিসি!

মোঃ রাজন আমান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি# কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠানে শটগানের গুলি ছুড়ে উল্লাস করার ঘটনায় ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানাকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জহির রায়হান। গুলি ছোঁড়ার ঘটনার পর কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা মুঠোফোনে এ তথ্য দেন।জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, গুলি ছোঁড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে মেয়র জানাবেন তিনি আর এ ধরনের আইন ও নীতিমালার বাইরে কাজ করবেন না। তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট।

সার্বিক বিষয় চিন্তা করে ও উর্দ্ধতন পর্যায়ে আলাপ করে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন,‘উনি (আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র)ভুলবশত গুলি ছুড়েছিলেন। এরপর আইন ও সীমালঙ্ঘন করে আর কোন কাজ করবেন না। যদি করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এই মর্মে জেলা প্রশাসক তাঁকে এবারের মতো মাফ করে দেবেন।’শামীমুল ইসলামের কাছে আজ (সোমবার) একটি চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে লিখিত এ হলফনামা নেওয়া হবে। রোটারি পাবলিক বা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃকসম্পাদিত করে তিনি হলফনামা জমা দেবেন।গত ১০ জানুয়ারী রাতে বড় ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে শটগানের গুলি ছুড়ে উল¬াস করেন ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানা। তিনি  সেখানে পিস্তলও প্রদর্শন করেন।

এমন দৃশ্য ফেসবুক লাইভে প্রচার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। গুলি ছোঁড়ার ঘটনার পর ১৫ জানুয়ারি ‘কেন তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না’ জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে আ.লীগ  নেতা পৌর মেয়র ছানাকে শোকজ করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান।  গত ২৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেন পৌর মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানা।লিখিত জবাবে মেয়র উল্লেখ করেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। প্রতিপক্ষরা আমাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকিদেয়।

গত ইউপি নির্বাচনের পর  থেকে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমার কাছে আগে থেকেই সংবাদ ছিল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা হতে পারে। সে কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানে আনন্দ উদযাপনের নামে গুলি ছুড়েছি। এখানে আতংকের কোন ঘটনা ঘটেনি। গুলি ছোড়ার আগে অনুমতি নিতে হয়, এটি আমার জানা ছিল না। এধরণের ভুল আর হবে না। ঘটনার পরের দিন তিনি ভেড়ামারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। তিনি শেষবারের মতো ক্ষমা করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।মেয়র এই জবাবের প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে ক্ষমা করে দেবার এ সিদ্ধান্ত নেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২৭১ বার পঠিত
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com