অভিভাবকহীন সড়কের নাম লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়ক, ৬ কিলোমিটারই বিপজ্জনক!

১০১ বার পঠিত

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ক্ষত-বিক্ষত, বিচ্ছিন্ন, ভয়ংকর এক অভিভাবকহীন সড়কের নাম লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়ক। যে সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ, লেগুনা, পাহাড়ট্রলি, সিএনজি, অটোরিকসাসহ হাজার হাজার যানবাহন। তাছাড়া তিনটি ইউনিয়নের স্কুল-কলেজর হাজারো শিক্ষার্থীরসহ কয়েক লাখ মানুষ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক এটি। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কতৃপক্ষের অবহেলা আর নজরদারির অভাবে দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৬ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলার মতিরহাট এলাকা মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত, যা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এজন্য মেঘনা নদী দেখতে হলে এক মাত্র সড়কটিই পর্যটকদের প্রধান মাধ্যম। শুধু স্থানীয়দের চরম দূর্ভোগ নয়, সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সঠিকভাবে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে পর্যটন শিল্প।

অন্যদিকে, বৃহত্তর নোয়াখালীর সবচেয়ে বড় “ইলিশ ঘাট” মতিরহাট মেঘনাতীরে অবস্থিত। আর সেই অঞ্চলের রুপালী ইলিশ দেশ-বিদেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে রপ্তানির প্রধান মাধ্যমও মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়কটি । প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে শত শত টন ইলিশ রপ্তানী হচ্ছে আর সেই রাস্তাটির অধিকাংশ অংশ জুড়ে বিধ্বস্ত আর বিপজ্জনক। সড়কের বড় বড় গর্ত দেখে সাধারণ মানুষ হতবাক।

এই সড়কটিতে সিএনজি দিয়ে যাতায়াতকালে গাড়ির চাকা যখন বড় গর্ত কিংবা সড়কের বিচ্ছিন্ন অংশে পড়ে তখনই সড়কটি সংস্কারের কথা বলে, কবে হবে সংস্কার? এরকম আলোচনার সরগরম হয়ে উঠে যাত্রীদের মধ্যে। এ রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে আর পাঠদানে তাদের মন বসে না। এতে ভালো ফলাফল অর্জনে ব্যার্থ হচ্ছে তারা।

এদিকে, রাস্তাটি ঝুঁকিপূর্ণতার সূত্র এনে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগের আছে চালকদের বিরুদ্ধে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, তোরাবগঞ্জ-মতিরহাট ৮ কিলোমিটার সড়কে সিএনজি ভাড়া ছিলো ২০ টাকা, কিন্তু এখন ৩৫ টাকা দিতে হচ্ছে তাদের। চালকরা বলছে, রাস্তার ভাঙ্গা অংশ ও গর্তের কারণে, ব্রেক, চাকা এবং ইঞ্জিনসহ গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে প্রতিদিন আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়।

স্থানীরা জানান, মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে চরম ভোগান্তির সম্মুক্ষীণ হতে হয়। মটরসাইকেলে চালালে ইঞ্জিন বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার সড়কটি অতিক্রম করলে নজরে পড়ে, সড়কটির ৮৫ ভাগ বিধ্বস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে চরকালকিনি মতিরহাট সংলগ্ন সড়কটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটির কাছে । এখানে পাকা রাস্তার অধিকাংশ অংশ ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে খালে পড়ে আছে।

এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, উপজেলার মধ্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটির সংস্কারের কথা জেলা উন্নয়ন বিষয়ক সভায় বলেছি। আশাকরি সড়কটির দ্রুত সংস্কার হবে। অতিদ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে পর্যটন বিকাশ যেমন ফিরিয়ে আসবে তেমনি মানুষের দূর্ভোগ কমিয়ে আনবে বলে আশাবাদী সচেতন মহলের।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি #

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি। মোবাইলঃ 01714-953963, ইমেইলঃ kkumar3700@gmail.com

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com