আজ শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ দুপুর ১২:০৫ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

কবে সংস্কার হবে চররমনীমোহন ইউনিয়নের মুছার খাল ব্রিজ?

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘ ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের উদ্যেগ নেওয়া হয়নি নব্বই দশকের শেষের দিকে ভেঙ্গে পড়া ব্রিজটি। ফলে প্রতিনিয়ত দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে কৃষক, দিনমুজুর স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ ৪ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। এতে করে কৃষিকাজের ব্যহত হয়ে লোকসানে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ২০নং চররমনীমোহন ইউনিয়নের মুছার খাল উপর প্রায় দেড়শ ফুট লম্বা ভাঙ্গা ব্রিজটি নব্বই দশকের শেষের দিকে ভেঙ্গে পড়ে। দীর্ঘ ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও তা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়নি কেউ। পরে স্থানীরা যাতায়তের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঐ ব্রিজের উপর। তা একবারে ঝুঁকিপূর্ন। সাঁকোটি ঝুকিপূর্ন জেনেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী পুরুষ শিশুসহ প্রায় ৪ টি গ্রামের মানুষ চলাচল করছে। এসব মানুষের পারাপারের  একমাত্র ভরসা নড়েবড়ে সঁকোটি। অনেক সময় সাঁকো পার হতে গিয়ে নদীতে পরে দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে শিশু নারী বয়স্করাসহ গুরুত্বর আহত হয়। এভাবেই বছরের পর বছর একটি ব্রিজের স্বপ্ন দেখে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে পারাপার হচ্ছে দুই পারের হাজার হাজার মানুষ। কবে হবে ব্রিজ?  মুক্তি পাবে সাঁকো পারাপারের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি থেকে ? এমনি বলেন এলাকাবাসি।

স্থানীয় আবদুল রশিদ, মালেক পাটোওয়ারী,আবু তাহের জানান, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহনের ৭ নং ওয়ার্ডের মূছার খালের আশে-পাশের লোকজন, ভবানীগঞ্জ, কালির চর , মতির হাটসহ ৩/৪ টি গ্রামের মানুষ এই ভাঙ্গা ব্রিজের বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়। সিরাজুল হক হাওলাদার বাড়ীর রহমত খালি খালের সংযোগে মুছার খালের গোড়া এই ব্রিজটি ৯০ দশকে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে মুছার খালের উপর নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটি নির্মাণে ৪/৫ বছরের মধ্যে জোয়ার ভাটার পানির ঢেউয়ের কারণে ব্রিজটি মাঝের পিলার দুটি নিচে নেমে যায়। উপরে দেখা যায় ফাঁটল। এক পযায়ে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে যায়। র্দীঘ ২৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখানে নতুন করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয় নাই। এলাকাবাসী ব্রিজটি র্নিমানে বহু জায়গায় অনেক আবেদন-নিবেদন করেছেন। অনেকে আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। তারা আরো বলেন, লক্ষ্মীপুর সদর ও কমলনগর উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য এই ব্রিজটি খুবই গুরত্বপূর্ণ। দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার প্রায় ২/৩ হাজার মানুষ এই ভাঙ্গা ব্রিজের উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনতে ও পশু পারা পারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

৭নং ওয়ার্ডে মেম্বার নজরুল ইসলাম চুন্নু জানান , এ অঞ্চলের মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল, কৃষি উৎপাদন ছাড়া এ এলাকার মানুষ চলা খুবই মুশকিল। তাই উৎপাদিত ফসলগুলো লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের আমদানি রপ্তানি করতে হলে এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রতি বছর এই এলাকার লোকজনের স্বেচ্ছা শ্রম ও সহযোগিতায় বছরে ৪ বার ব্রিজের উপর বাশেঁর সাঁকো তৈরী করা হয়। জনস্বার্থে অতি দ্রুত এখানে নতুন করে ব্রিজ নির্মান করা হলে লোকজনের যাতায়াতের একটি নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হবে। তাই উদ্ধোর্তন কতৃপক্ষ দৃষ্টি দেওয়ার জন্য জোর দাবী জানান এই ইউপি সদস্য।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com