যাত্রীর পায়ুপথে ১২টি স্বর্ণের বার

৮৩ বার পঠিত

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়া থেকে আসা এক যাত্রীর পায়ুপথ থেকে ১২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। স্বর্ণের বারগুলোর ওজন প্রায় ১ কেজি ২০০ গ্রাম। প্রতিটি বারের ওজন ১০০ গ্রাম। জব্দকৃত স্বর্ণের মোট মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়া থেকে আগত শরীফ আহমেদ (৩৩) নামে ওই যাত্রীর রেক্টাম থেকে সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে পুলিশ।

শুল্ক গোয়েন্দা পরিচালক ড. মইনুল খান ব্রেকিংনিউজকে বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। আটক শরীফ কুমিল্লার ময়নামতি বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী। পাসপোর্ট নং BM 0806731. তিনি মালিন্দ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট OD162 এ রাত শোয়া ১২টায় শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক গোয়েন্দা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত যাত্রীকে নজরদারিতে রাখে। কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করে চলে যাওয়ার সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার হাটাচলায় অস্বাভাবিকতা থাকায় শুল্ক গোয়েন্দার সন্দেহ আরো ঘণীভূত হয়। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করছিলেন না।’

এক পর্যায়ে রাত রাত ৩টায় শুল্ক গোয়েন্দার দল আটক ব্যক্তিকে উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যান। ডাক্তার যাত্রীর পেটে এক্সরে সম্পন্ন করান। এতে রেক্টামে ৩টি অস্বাভাবিক পোটলার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ওই সময়ও তিনি তার আত্মীয় বড় কর্মকর্তার হুমকি দিতে থাকেন। বের হয়ে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ‘দেখে নিবো’ বলে সতর্ক করেন। এরপর শুল্ক গোয়েন্দাদের উদ্যোগে কর্তব্যরত ডাক্তার তলপেট কেটে স্বর্ণ বের করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিলে তিনি নমনীয় হন। অপারেশন ছাড়া স্বর্ণ বের করে দিবেন বলে ওয়াদা করেন।

এরপর চলে স্বর্ণ বের করার পালা। যাত্রীকে শাহজালালের কাস্টমস হলে নিয়ে এসে পানি খেতে দেয়া হয়। পরে টয়লেটে নিয়ে তলপেটে চাপ প্রয়োগ করা হয় দীর্ঘক্ষণ। কোন কিছুতে কাজ না হলে তাকেই বলা হয় স্বর্ণ বের করে দিতে। দেয়া হয় লুঙ্গি। লুঙ্গি পরে শুল্ক গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে টয়লেটের অভ্যন্তরে বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে একে একে ৩ টি কনডম বের করে আনেন ৩৩ বছরের যাত্রী শরীফ আহমেদ। বের করা ৩টি কনডমের ভিতর থেকে ৪টি করে মোট ১২টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, যাত্রী চারটি গোল্ডবার স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে একটি কনডমে রেখে তা আবার স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রেক্টামে প্রবেশ করান। এ রকম ৩টি কনডম প্রবেশ করান তিনি। ফ্লাইট অবতরণ করার ৩০ মিনিট আগে আকাশপথে বাথরুমে গিয়ে যাত্রী কনডমগুলো পায়ুপথে পুশ করেন। এজন্য মালয়েশিয়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

শুল্ক গোয়েন্দাদের নজরদারির হাত থেকে বাঁচার জন্য এই অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেন বলে তিনি জানান। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও টাকার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করেন। তিনি জানান তিনি একজন স্থানীয়বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। গত ৩ জানুয়ারি ব্যবসার কাজে মালয়েশিয়া যান। ২০১৬ সালে তিনি ১০ বার বিদেশ ভ্রমন করেন। এদিকে আটক শরীফ আহমেদকে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটককৃত স্বর্ণ দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হবে। এর আগে শাহজালাল থেকে সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর এক যাত্রীর রেক্টাম থেকে ৮টি স্বর্ণবার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com