এক কৃষকের জিডি দায়ের ॥ টিন জব্দ করেছে পুলিশ ঝালকাঠি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দূর্নীতি ও অপকর্ম আড়াঁল করতে উপপরিচালকের তৎপরতা

৫৯ বার পঠিত

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ শিল্পমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ করার একদিন পরে আইএপিপি প্রকল্পের কৃষকদের জন্য নি¤œমানের টিন ক্রয় করার ঘটনায় ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসিফ ইকবালের বিরুদ্ধে থানায় জিডি দায়ের করা হয়েছে। ধানসিড়ি ইউনিয়নের ছত্রকান্দা গ্রামের কৃষক রফিক সিকদার রবিবার ঝালকাঠি সদর থানায় জিডি (জিডি নং ৮৭৭) দায়ের করেছে। অন্যদিকে ঝালকাঠি থানার ওসি মাহেআলম কৃষকদের জন্য ক্রয় করা নিন্মমানের এসব টিন জব্দ করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানাগেছে।
     কৃষক রফিক তার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল আইএপিপি প্রকল্পের জৈব সার তৈরী করতে নিরাপত্তা ছাউনির জন্য জনপ্রতি কৃষকদের কাছ থেকে ৬টি টিনের জন্য ২২ টাকার মাস্টার রোলে স্বাক্ষর নেয়। কিন্তু বরাদ্ধ টাকা দিয়ে মানসম্মত টিন না কিনে নি¤œ মানের টিন ক্রয় করে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুদ্বুৃ কৃষকরা ৩/৪ টি টিন কাগজের মত ছিড়ে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের যাতায়াত ভাড়া দিয়ে ভালো টিন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে।
       এব্যাপারে উপস্থিত কৃষকরা জানায়, এই কৃষি কর্মকর্তা এ ভাবে বিভিন্ন খাতের সরকারি অর্থ আত্মসাৎত করে আসলেও জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করে আসছে। আইএপিপি প্রকল্পের আওতায় ২১ জন কৃষককে জনপ্রতি ২২শ টাকায় ৬ পিস করে টিন বিতরনের কথা থাকলে সে ৬শ টাকার নি¤œমানের টিন ক্রয় করে। যা কাগজের মত ছিড়ে আমরা মন্ত্রীকে দেখিয়েছি। এর আগে আমাদের জন্য বরাদ্দ ড্রাম দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়নি। কিছু দিন আগে আইএপিপি প্রকল্পের বার্মি কম্পোষ্ট তৈরীর বরাদ্দ নিয়েও দূর্নীতি করায় তাকে শোকজ করা হয়েছে বলেও কৃষকদের অভিযোগ।
     এদিকে কৃষি বিভাগের মহাপরিচালকের আপন ভাগ্নে বলে পরিচিত আসিফ ইকবালের দূর্নীতি ও অপকর্ম আড়াঁল করতে বরাবরের মতো এবারো জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক রহস্য জনক ভূমিকায় অবতির্ন হন। এমন কি তিনি তার ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে নিয়ে ভালো মানের টিন কিনে কৃষকদের মাঝে বিতরণের উদ্যোগ নেন।    
    অপরদিকে যে কর্মকর্তাকে নিয়ে এতকিছু সেই কৃষি কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল জানান, আমি যে মাপের টিন দেয়ার কথা ছিল তাই দিয়েছি। এরপরও মন্ত্রী কেন এমন করলেন বা কৃষকরা ক্ষিপ্ত হলেন তা আমার বোধগম্য নয়। আমি আমার বরাদ্দ অনুযায়ী টিন দিয়েছি।
    এ ব্যাপারে উপপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, ১৮ তারিখের ঘটনায় আমি অতিরিক্ত উপ পরিচালকক আজগর আলীকে তদন্ত করে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দিয়েছি। কেন এরকম নি¤œ মানের টিন ক্রয় করা হল প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
     প্রসঙ্গত গত ১৮ জুন আইএপিপি প্রকল্পের আওতায় ২১ জন কৃষককে জনপ্রতি ২২শ টাকায় ৬ পিস করে টিন ক্রয়ের কথা থাকলে কৃষি কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল ৬শ টাকার নি¤œমানের টিন ক্রয় করে। মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ ও কৃষকরা এই নি¤œমানের টিন দেখে কৃষি কর্মকর্তার উপর ক্ষেপে যায়। এ অবস্থায় শিল্পমন্ত্রী টিন বিতরণ না করেই সদর উপজেলা চত্তর ত্যাগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত কৃষকরা কৃষি কর্মকর্তাকে ধাওয়া করে গনধোলাই শুরু করেন। তখন তিনি দৌড়ে উপজেলা মসজিদের মধ্যে গিয়ে আশ্রয় নেন। এঅবস্থায় সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত খান কর্মকর্তাকে কৃষকদের রোষানল থেকে বাচাঁন। GONO PIC

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অাহিদ সাইফুল ঝালকাঠি প্রতিনিধি #

অাহিদ সাইফুল ঝালকাঠি প্রতিনিধি # মোবাইল নাম্বারঃ +৮৮০১৭১৬৬৩৫৪৭৩

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com