রোজায় মুড়ি পল্লীতে চলছে মুড়ি ভাজার উৎসব রাজাপুরের রাসায়নিক বিহীন হাতেভাজা মুড়ি যাচ্ছে সারাদেশে

৫৮ বার পঠিত

অহিদ সাইফুল, রাজাপুর ঃ রমজানে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ১০টি গ্রামে চলছে মুড়ি ভাজার উৎসব। ক্ষতিকারক রাসায়নিক ছাড়াই শুধু লবন পানি মিশ্রিত চাল হাতে ভেজে তৈরি করা হচ্ছে সুস্বাদু মুড়ি। এখানকার মুড়ি দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে বিখ্যাত। রমজানে এই গ্রামগুলোর মুড়ি দক্ষিণাঞ্চলবাসীর চাহিদা মেটানোর পর দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো হচ্ছে। রপ্তানী হচ্ছে বিদেশেও। অন্যসব পরিচয় হারিয়ে বর্তমানে এ গ্রামগুলো মুড়িগ্রাম নামে পরিচিত।
রাজাপুরের মেডিকেল মোড়, মনোহরপুর, কাঠিপাড়া, লেববুনিয়াসহ ১০টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা মুড়িভাজা। এই গ্রামগুলোর বাসিন্দারের যেন এখন দম ফেলার সময় নেই, শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই মুড়ি ভাজায় মহাব্যস্ত। শত বছর ধরে এই গ্রামগুলোর প্রতিটি ঘরে গভীর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে মুড়ি ভাজার উৎসব। রমজানে এ উৎসবে নতুনমাত্রা যোগ হয়। এসময় নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও এ কাজে সময় দিচ্ছেন। এ গ্রামগুলোতে যে মুড়ি ভাজা হয়, তার বেশীর ভাগই দেশী মোটা চালের মুড়ি বা নাখোচি ধানের মুড়ি। ক্ষতিকারক রাসায়নিক ছাড়াই চালগুলো শুধু লবন ও পানি দিয়ে জলন্ত উনুনে হাতে ভেজে তৈরী করা হয় সুস্বাদু এই মুড়ি। মুড়ি বিক্রি করেই চলছে তাদের সংসার। এই মুড়ি ভেজেই এই গ্রামের পরিবারগুলো এখন স্বাবলম্বী।
মুড়ি ভাজার কারিগররা আড়ৎদারদের কাছ থেকে বিনা মূল্যে চাল নিয়ে তারা মুড়ি ভেজে আড়তে দিয়ে আসেন। এতে আড়তদাররা তাদের মুড়ি ভাজার মজুরী দেন। মজুরী হিসেবে তারা পান মনপ্রতি দেড়শো থেকে দুইশ টাকা। তবে গৃহস্থলীরা খাবারের জন্য চাল নিয়ে আসলে তাও ১০-১৫টাকা কেজি দরে ভেজে দেন তারা। এতে কারো দৈনিক আয় হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়।
মুড়ির কারিগর নমিতা রানী বলেন, ‘আমাদের মুড়ি দেশীয় পদ্ধতিতে হাতে ভাজা। তাই সারাদেশ থেকে পাইকাররা এসে এই মুড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। তবে বর্তমানে দেশের বিভিন্নস্থানে মেশিনে তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর চিকন মুড়ি। অনেক পাইকাররা আবার আমাদের মুড়ির সাথে ওই মুড়ি মিশিয়ে তা বাজারে বিক্রি করছেন।’
চট্টগ্রামের পাইকার মীর ওয়াদুদ বলেন, আমরা ট্রাক নিয়ে মুড়ি নেয়ার জন্য এসেছি। রমজানে মুড়ির চাহিদা বেশি থাকে। রাজাপুরের মুড়ির চাহিদা বেশি তাই প্রতি মাসে এখান থেকে মুড়ি নিয়ে চালান করি। হাতে ভাজা বলে চলেও বেশি।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমান বলেন, রাজাপুরের মুড়ির সুনাম দেশ জুড়ে। এই পেশার মানুষগুলো মুড়ি ভেজেই অনেকটা স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের জন্যে উপজেলা প্রশাসনে বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। তারা চাইলে এ ঋণ নিয়ে উপকৃত হতে পারেন। Rajapur Photo-Muri-02

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অাহিদ সাইফুল ঝালকাঠি প্রতিনিধি #

অাহিদ সাইফুল ঝালকাঠি প্রতিনিধি # মোবাইল নাম্বারঃ +৮৮০১৭১৬৬৩৫৪৭৩

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com