বগুড়ার নন্দীগ্রামে ৬৬কিলোমিটার পাকা রাস্তা খানাখন্দে ভরপুর

৫৩ বার পঠিত

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া:

বগুড়ার নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের প্রায় ২০কিলোমিটার পাকা রাস্তা, কাথম-কালিগঞ্জ সড়কের ১৬কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও ওমরপুর-তালোড়া সড়কের ৩০কিলোমিটার পাকা রাস্তা অসংখ্য খানাখন্দে ভরপুর। উপজেলার ৬৬কিলোমিটার পাকা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তা নয়, যেন মরণ ফাঁদ। অসংখ্য খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। চলমান বর্ষা বৃষ্টিতে রাস্তার গর্তে পানিতে ভড়াট হওয়ায় দূর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট বড় যানবাহন। বাড়ি থেকে বের হতে মৃত্যু শঙ্কায় রয়েছেন জনসাধারন। সংস্কার না করায় সড়কটি প্রায় ৩বছর ধরে খানাখন্দে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে মাটি দেবে গিয়ে বড়বড় গর্তে বৃষ্টির দিনে পানিতে ভড়াট হয়ে থাকে।

 

 

28-07-2016NPমাঝেমধ্যে যানবাহনের মালিক ও চালকেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাটি ভড়াট ভাঙা ইট দিয়ে গর্তগুলো সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করলেও দু-একদিন পরেই সেখানে গর্তগুলো পূর্বের রুপ নেয়। সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের উপজেলার কৈগাড়ী থেকে শুরু করে রিধইল, দোহারসহ ২০কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্নস্থানে রাস্তার কার্পেটিং উঠে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওমরপুর-তালোড়া সড়কের ৩০কিলোমিটার ও কাথম-কালিগঞ্জ সড়কের ১৬কিলোমিটার পাকা রাস্তার মাঝপথে ফাটল, দুপাশে ভাঙন, গর্তসহ মাটি দেবে গেছে। জরাজীর্ণ সড়কের গর্ত পাশ কাটাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন। রুটগুলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ। বাস-ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রো, সিএনজি, অটোভ্যানসহ শতশত যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। গত পাঁচ মাসপূর্বে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) কর্তৃক রাস্তারগুলোর বিভিন্নস্থানে খানাখন্দ নামমাত্র মেরামত করে। এতে ক্ষনিকের মত যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই রাস্তাগুলো ফের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

 

 

বাসচালক আব্দুল খালেক, রবিউল, ট্রাক চালক ফজলুর রহমান, জাহেদুল, আব্দুল মান্নান, সিএনজি চালক শাহাদত হোসেন ও লুৎফর রহমান বলেন, ওই তিনটি রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ রুট। রাস্তাগুলোর সাথে বেশকটি জেলাসহ রাজধানি ঢাকা পথের যোগাযোগ রয়েছে। রাস্তায় খানাখন্দ থাকায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির হলেই গর্তগুলো পানিতে ভড়াট হয়ে থাকে। ছোট-বড় গর্ত থাকায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় মালবাহী ট্রাক রাস্তার বড় গর্তে আটকে যানজটের সৃষ্টি হয়। রাস্তাগুলোর করুন দশায় যেকোনো মুহুর্তে যানবাহান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিগগির মেরামত করা না হলে দূর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে পরিবহন এমন চালকরা অভিমত ব্যক্ত করেন।

 

 

এপ্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একে আজাদ বলেন, বিষয়টি সওজ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম-শেরপুর, ওমরপুর-তালোড়া ও কাথম-কালিগঞ্জ সড়কের ৬৬কিলোমিটার পাকা রাস্তার অবস্থা নাজুক। এছাড়া সম্প্রতি জেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় ওই তিনটি রাস্তার বেহাল দশার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। জনগুরত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো দ্রæত সংস্কার করা আবশ্যক।

একই প্রসঙ্গে বগুড়া সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম জানান, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তাগুলো চলাচলের উপযোগী করতে খানাখন্দ মেরামত কাজ চলছে। এবছরে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পেয়ে সংস্কার কাজ করা হবে।

 

 

 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com