নন্দীগ্রামে মিনি টেইলার্সে শারিরিক প্রতিবন্ধি সিরাজুলের স্বপ্ন

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : দর্জি বাড়ী চলরে ‘বন্ধু’ দর্জি বাড়ী চল। সেই ছন্দের পুন:জন্ম করলেন এক প্রতিবন্ধি। শারিরিকভাবে দুর্বল হলেই নিজের ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলেছেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামের সরদারপাড়ার জাহের আলীর ছেলে শারিরিক প্রতিবন্ধি সিরাজুল ইসলাম। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫কিলোমিটার অদূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১০গ্রামের মাঝে রুস্তমপুর গ্রামে নিজের বাড়ির উঠানে তৈরীকৃত মাটির দুই কক্ষে প্রত্যাশা নামে মিনি টেইলার্স খুলেছেন তিনি। প্রতিবন্ধি সিরাজুলের প্রতাশা নামের এই মিনি টেইলার্সে শিশু থেকে শুরু করে নারী ও পুরুষের যাবতীয় পোষাকের কাপড় বিক্রয় করে।

সেই কাপড় রুস্তমপুর গ্রামের অসচ্ছল পরিবারের নারী দর্জিদের অর্ডারের মাধ্যমে পোষাক তৈরী করে ডেলিভারি দেওয়া হয়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ শহরে এসে পোষাক ক্রয় না করে রুস্তমপুর গ্রামের প্রত্যাশা টেইলার্সে ভিড় করছেন। দ্রারিদ্রতাকে হার মানিয়ে নিজের পায়ে দাড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটাই প্রতিবন্ধি সিরাজুলের স্বপ্ন। বর্তমানে রুস্তমপুর গ্রামের ওই মিনি টেইলার্স দর্জি বাড়ি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। প্রতিবন্ধি সিরাজুলের মিনি টেইলার্সের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে চলেছেন সংসারে পিছিয়ে পড়া একঝাঁক নারী।

সরেজমিনে রুস্তমপুর গ্রামের সরদারপাড়া প্রত্যশা টেইলার্সে গিয়ে প্রতিবন্ধি সিরাজুলের সাথে কথা হয়। ১৯৯৮সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে হতাশায় পড়েন তিনি। এরপর নিজের পায়ে দাড়িয়ে সম্ভাবনার পথ খুঁজতে থাকেন সিরাজুল। ২০০০সালে উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চাকলমা বাজারের রায়হান টেইলার্সে পোষাক তৈরীর কারিগর (দর্জি) কাজ শিখে নিজেই একটি টেইলার্স প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন। ২০০১সালে নিজের ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রুস্তমপুর গ্রামের নিজ বাড়ির উঠানে মাটি দিয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ঠ ঘর নির্মাণ করে গ্রাম্য টেইলার্স প্রতিষ্ঠা করে। নাম দেওয়া হয় প্রত্যাশা টেইলার্স।

প্রতিবন্ধি সিরাজুল বলেন, আমি শরিরিকভাবে প্রতিবন্ধি। ভাড়ি কোনো কাজ করতে পারিনা। মাথার বুদ্ধি ও ইচ্ছা শক্তিই আমাকে সম্ভাবনার পথ দেখিয়েছে। অন্যের প্রতিষ্ঠানে কারিগর(দর্জি) কাজ শিখে নিজেই প্রতিষ্ঠান করেছি। আমার গ্রামের আশপাশের প্রায় ১০গ্রামের মানুষ শহরে না গিয়ে এখান থেকেই থান কাপড় কিনে পোষাক তৈরী করে নিচ্ছেন। আমার টেইলার্সে রেডিমেট সার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, ত্রি-পিচ, ছোট বাচ্চাদের পোষাকসহ নারী পুরুষের যাবতীয় পোষাক রয়েছে। টেইলার্স প্রতিষ্ঠার শুরু দিকে কিছুটা ঢিলেঢালা বেচাবিক্রি ছিলো। বর্তমানে ক্রেতাদের সংখ্যা বেড়েছে। ধর্মীও উৎসব ও গ্রাম্য বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে আমার টেইলার্সে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামে বিদ্যুতায়ন নেই। যেকারনে রাতের বেলায় কোপড় সেলাই করতে পারিনা।

দিনের বেলায় পোষাক তৈরী করা হয়। আমার প্রতিষ্ঠানে কারিগরের(দর্জি) প্রয়োজন। কিন্তু গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক ও বিদ্যুতায়ন না থাকায় শহরের কারিগর(দর্জিরা) আমার এখানে থাকা তো দূরের কথা আসতেই চায়না। আমি নিজেই কারিগর ও কাপড় কাটার মাষ্টার হলেও গ্রাহকদের অর্ডারের কাপড় একাই তৈরী করা সম্ভব নয়। ক্রেতা সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে পোষাক তৈরীর কাজও বেড়ে গেছে। এজন্য নিজ গ্রামেই চারজন অসচ্ছল নারীকে সেলাই কাজ শিখিয়েছি। আমার দোকানের অর্ডারের কাপড় তাদেরকে দিয়েই পোষাক তৈরী করে ডেলিভাড়ি করে যাচ্ছি। গ্রামের দর্জি আঞ্জুমান ও রেদোয়ান জানান, প্রতিবন্ধি সিরাজুলের প্রত্যাশা টেইলার্সের অর্ডার নেয়া কাপড় নিয়ে গ্রামের বেশ কয়েকজন অসচ্ছল নারী দর্জিদের দিয়ে পোষাক তৈরী করে। এতে করে স্বাবলম্বী হতে চলেছেন সংসারে পিছিয়ে পড়া একঝাঁক নারী। আর এই সফলতা শারিরিক প্রতিবন্ধি সিরাজুলের।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২০ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার

Bogra Offce

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com