আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ২৯শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, শরৎকাল, সময়ঃ সন্ধ্যা ৬:২৬ মিনিট | Bangla Font Converter | লাইভ ক্রিকেট

নন্দীগ্রামে পাঁচ মাসে ৫৭টি অপরাধ সংগঠিত : গ্রেফতার ২৫৫

এম নজরুল ইসলাম, নন্দীগ্রাম(বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে চলতি বছরে পাঁচ মাসে ৫৭টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। নিয়মিত মামলা, সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টমূলে ২৫৫জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। মামলার রহস্য উদঘাটনে বিশেষ সফলতা অর্জন করায় থানার সেকেন্ড অফিসার মনিরুল ইসলাম পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া থানার কার্যক্রম সন্তোষজনক ও অপরাধ প্রবনতা হ্রাস পাওয়ায় নন্দীগ্রাম থানাকে জেলার শ্রেষ্ঠ থানা হিসেবে ঘোষনা করেছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস হতে ২৬মে’ মাস পর্যন্ত ৫৭টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ১টি ধর্ষনের পর হত্যা, ১টি ধর্ষন, ৩টি অপহরণ, ১৭টি মাদক, ৫টি যৌন নিপিড়ন, ১টি যৌতুক, ১টি ডাকাতির চেষ্টা, ২টি চুরি, ১টি মুর্তি পাচার, ১টি জুয়া আইনে ও অন্যান্য খাতে ২৪টি মামলা হয়েছে।

গতবছরের তুলনায় এবছরের চলতি পাঁচ মাসে অপরাধ প্রবনতা ব্যাপকভাবে কমেছে। সাজাপ্রাপ্তসহ নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ২৫৫জনকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে চলতি মে মাসেই ৫জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানার ওসি হাসান শামীম ইকবাল এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতবছরের তুলনায় চলতি বছরের পাঁচ মাসে অপরাধ প্রবনতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় গত ১৮মে জেলা পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত জনাকীর্ণ কল্যাণ সভায় নন্দীগ্রাম থানাকে জেলার শ্রেষ্ঠ থানা হিসেবে ঘোষনা করে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। থানায় অফিস ব্যবস্থাপনা, পুলিশি কার্যক্রমে ডিজিটালাইজেশন, সুষ্ঠভাবে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করা, থানায় বিভিন্ন রেজিষ্ট্রার হালনাগাদ ও আধুনিকরণ, রোড ডাকাতি কমিয়ে আনা, কুখ্যাত ডাকাতদের গ্রেফতার, ওয়ারেন্ট তামিল, নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারে কৃতিত্বের স্বরুপ জেলার শ্রেষ্ঠ থানায় ভূষিত করে।

মামলার রহস্য উদঘাটনে বিশেষ সফলতা অর্জন করায় গত ১৮ফেব্রুয়ারি জেলা পুলিশ মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভায় এসআই মনিরুল ইসলামকে পুরস্কারে ভূষিত করেন পুলিশ সুপার মহোদয়। ওসি ইকবাল বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা পুলিশের যা যা করণীয় তা করা হবে এবং করা হচ্ছে। সঠিকভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সকল ধরনের অপরাধ দমন করা হবে।

অপরদিকে, হত্যা, অপহরণসহ আলোচিত মামলার রহস্য উদঘাটনে সফল হয়েছে পুলিশ। গত ১৫ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার থালতামাঝগ্রাম ইউনিয়নের আগাপুর গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে চৌমুহনী আল-মানার একাডেমীর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শিশু রাকিবুল(৯) অপহরণ হয়। অপহরণের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চার গ্রামের মানুষ অপহৃত শিশু স্কুলছাত্র উদ্ধারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। পরের দিন ১৬ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে স্কুলছাত্র রাকিবুলের পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন সেকেন্ড অফিসার(এসআই) মনিরুল ইসলাম।

মামলা দায়েরর ৮ঘন্টার মাথায় ১৬ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে থানার ওসি ইকবালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মুক্তিপনের নাটক সাজিয়ে ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে সিলেটগামী রোমার পরিবহন নামের একটি বাসে তল্লাশী চালিয়ে অপহৃত শিশু স্কুলছাত্র রাকিবুলকে উদ্ধার করাসহ অপহরণ চক্রের দলনেতা সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার সাহেব আলীর ছেলে সিয়াম শেখ(২২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অপহৃত শিশু স্কুলছাত্র উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তের মধ্যে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে আগাপুরসহ চার গ্রামের মানুষ। থানার ওসি ইকবাল ও মামলার তদন্তাকারি কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেয় জনতা।

গত ৬মার্চ বিকাল ৩টার দিকে স্বর্ণের পুতুল ও নারী ভোগের প্রলোভন দেখিয়ে জেলার কাহালু উপজেলার হরিপুর শিতলাই গ্রামের আব্দুর রহমানের বিদেশ ফেরত ছেলে মানিক মিয়া(৩৫) নন্দীগ্রামে এসে অপহরণের শিকার হয়। পরের দিন ৭মার্চ সকাল ৬টার দিকে অপহৃত মানিকের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে। তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই আব্দুল বারী হোসাইনী। মামলা দায়েরের একঘন্টার মাথায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সংসারদিঘী বাজার পাশ্ববর্তী একটি মাটির ঘরে অভিযান চালিয়ে অপহৃত মানিককে(৩৫) উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় অপহরণ চক্রের নারী দলনেতা নন্দীগ্রাম উপজেলার সিংজানী কামুল্যা পশ্চিমপাড়ার মিনা খাতুন, সহযোগী পাঠান গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইয়াকুব আলী ও কাহালু উপজেলার ধনকুজা গ্রামের সেলিম হাসানের ছেলে মাসুদসহ ৫জনকে গ্রেফতার করে।

এছাড়া গত ১২মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম গ্রামের দিনমজুর জামেদ আলী একছারের মেয়ে থালতামাঝগ্রাম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুনকে(১১) ঘুমন্ত অবস্থায় ঝাপটে ধরে একই গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ফরিদ মিয়া জোরপূর্বক ধর্ষন করে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে অচেতন মাদ্রাসা ছাত্রীকে স্থানীয় জনতা জনতা উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ওই রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এঘটনায় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে দফায় দফায় মিছিল, মানববন্ধনসহ সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরের দিন ১৩মার্চ দুপুরে ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে লম্পট ফরিদ মিয়াকে আসামি করে থানায় একটি ধর্ষনের পর হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তভার গ্রহণ করেন কুমিড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ(এসআই) গোলক চন্দ্র বর্মন। মামলা দায়েরের দুঘন্টা পর কাহালু উপজেলার ময়েজবাড়ী হাট এলাকা থেকে লম্পট ধর্ষক ফরিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com