অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে পাথর উত্তোলনে ধর্ষিত হচ্ছে তেঁতুলিয়ার ভূমি

এই সংবাদ ৩২ বার পঠিত

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মেশিন (ড্রিল ড্রেজার) দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এতে বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়েছে তেতুলিয়ার পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র। নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। নারী ধর্ষণের মত প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে তেঁতুলিয়া ভূগর্ভ। অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে মাটির নিচে শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এতে করে বড় ধরণের ভুমিকম্পে যেকোন সময় ভূমিধসের সৃষ্টি হলে তলিয়ে যেতে পারে এলাকার আবাদি জমি ও বসত বাড়ি।

এছাড়া সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। অবৈধ এ কাজে পুলিশ প্রশাসনেরও যোগসাযোস রয়েছে বলে স্থানীয় জনসাধারনে কাছ থেকে জানাযায়। দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা যাচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, কতিপয় নামধারী সাংবাদিক সহ পুলিশ প্রশাসনের পকেটে। স্থানীয় পরিবেশবিদ, এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানাযায়। ড্রিল ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা যাবে না মর্র্মে ২০০৯ সালে ২ নভেম্বও তারিখে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করে।

জানা যায়, ড্রিল ড্রেজার মেশিনকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এক শ্রেণীর দালাল চক্র। তারা বিভিন্ন মেশিন থেকে চাঁদা তুলে লোকজনকে ম্যানেজ করেন। তারা নিয়ন্ত্রণ করছে কলবাহিনী নামক আরেকটি চক্রকে (যারা মোবাইলে কল দিয়ে প্রশাসনের আগমন জানিয়ে দেয়)। এই কলবাহিনী বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রশাসনের অভিযানের আলামত দেখলেই তারা মেশিন মালিকদের কল করে সঙ্গে সঙ্গে মালিকেরা মেশিন লুকিয়ে রাখে। কল বাহিনীর সদস্যকে জনপ্রতি  প্রতিদিন ১ হাজার টাকা করে দেয়া হয় মালিক পক্ষ থেকে। আবার অনেক সময় পুলিশ নিজেরাই তাদের অভিযানের অগ্রীম বার্তা জানিয়ে দেয় কলবাহিনীকে।

একশ্রেণীর প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ী দিনে ও রাতের অন্ধকারে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করে থাকে। তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক মেশিন চলছে। উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি জানলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না তারা। অবৈধ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে মাটির গভীর হতে পাথর উত্তোলনের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত এক বছর ধরে এই বোমা মেশিন তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চালিয়ে আসছে কিছু অসাধুমহল। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে এসবের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও খুব একটা তোয়াক্কা করছেনা ব্যবসায়ীরা। মাঝে মাঝে জড়িতদের নামে মামলা দেয়া হলেও আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে এসে আবার শুরু করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, একটি মেশিন গড়ে ১২ ঘণ্টা চালাতে পারলে ৩ হাজার সেপ্টি পাথর উত্তোলন করা যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। এতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। বর্তমান সময় ভাল না তাই ১২ ঘণ্টা চালাতে হচ্ছে। এর জন্য প্রতি মেশিন থেকে  পুলিশ, কলবাহিনী এবং নেতাদের জন্য প্রতি রাতে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। ভজনপুর এলাকার কয়েকজন নেতা এই চাঁদা তুলে বিভিন্ন মহল ম্যানেজ করে। জানায্য়া, ২০১৫ সালে পরপর কয়েকবার ভুমিকম্প হয়। যার উৎপত্তি স্থল ছিল পঞ্চগড় থেকে একশ কিলোমিটারের মধ্যে নেপাল ও  ভারতে। পরিবেশবীদরা আশংকা করছেন নেপালের মত ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই তেঁতুলিয়ার বিস্তির্র্ণ এলাকায় ভূমিধ্বসের সৃষ্টি হবে। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকাও করছেন তারা।

এ বিষয়ে ১৭ এপ্রিল রবিবার বিকেল ৪টায় ভজনপুর বাসষ্ট্যান্ডে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন রোধকল্পে  জন উুদ্বুদ্ধকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে পুলিশ সুুপার গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, ১৮ বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্ণেল আল হাকিম মুহাম্মদ নওশাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহিন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সম্মেলিত জেলা  পাথর-বালি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমানুল্লাহ বাচ্চু, সাধারন সম্পাদক আবুু সালেক, উপজেলা পাথর বালি সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান। সভায় বক্তারা ঘোষনা দেন যে, আজ  থেকে কোন প্রকার  মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা যাবে না। যদি  কেউ করে থাকে তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস.কে.দোয়েল,  তেতুলিয়া

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com