অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার তেঁতুলিয়ার ইউএনও শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন

২৯ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি।। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর সোচ্চার হয়েছেন পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তেঁতুলিয়া উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তেঁতুলিয়াকে অপরাধমুক্ত রাখার। তবে ধীরগতির কারণে অপরাধ প্রবণতার মাত্রা যেন বেড়েই চলছিল। কিন্তু এবার তিনি মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, খাদ্য ভেজাল, ড্রেজার (বোমা) মেশিনে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনসহ নানান অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এসব অপরাধমূলক কান্ড নিরসন করতে এখন প্রতিদিন চালাচ্ছেন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ধারাবাহিক অভিযান।

ধারাবাহিক এই অভিযানে বিভিন্ন জায়গা হতে অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিরসনে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। গত ১৬ জুন বৃহস্পতিবার বাংলাবান্ধা-তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়কের ওপর রাস্তার দুই ধারে অবৈধভাবে রাখা পাথর অপসারণের লক্ষ্যে তার নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ বিশ্বাস এবং ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশ সঙ্গীয় ফোর্সসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে হাইওয়ে ও মোটরযান অধ্যাদেশে ৭জন ব্যক্তির নিকট হতে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করাসহ পাথর জব্দ করেন। এছাড়াও রাস্তার পাশে যত্রতত্র স্থাপিত স্টোন ক্রাশিং সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবগত করতে নোটিশ করেন। ব্যর্থতায় স্টোন ক্রাশিং মেশিন স্থাপন নীতিমালা ২০০৬ ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

১৫ জুন দেবনগর ইউপির মাগুরমারী চৌরাস্তা হতে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা জাতীয় মহাসড়কের দুই ধারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে স্তুপ করে রাখা পাথর অপসারণের লক্ষ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ বিশ্বাস এর নেতৃত্বে ভজনপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ও সঙ্গীয়ফোর্সসহ দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় রাস্তার ধারে অবৈধভাবে পাথর রাখার দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত ৭ জন ব্যক্তির নিকট হতে ২১ হাজার জরিমানা আদায় করা হয় এবং সরকারি আদেশ অমান্য করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় মাটি ভরাট করার সময় বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের নিধিগছ গ্রামের মো. হাসনাত, পিতা- মৃত আ. করিম নামের ১জন ব্যক্তিকে মোবাইল কোর্ট আইনের দন্ডবিধি ১৮৮ ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

এছাড়াও প্রায় পাথর বোঝাই ৪টি ট্রাক ও প্রায় দেড়’শ সিএফটি পাথর জব্দ করা হয়। এদিকে প্রকৃতি ধ্বংসী ড্রেজার মেশিন মালিকদের অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি আরোপ করেছেন। দিয়ে যাচ্ছেন বিশেষ বিজ্ঞপ্তি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জব্দ করছেন ড্রেজার মেশিন। গত ১৫ জুন উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে ডাহুক নদী সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি বোমা মেশিন, পাম্প ও পাইপ আটক করেন তিনি। এর সাথে জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, যারা ড্রেজার বা বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে উপজেলার যেকোন স্থানে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলণ করলে, ড্রেজার (বোমা মেশিন) মেশিন চালানো হলে, কোন দোকানে বোমা মেশিন বানানো হলে, কোন বাড়িতে বা কোন স্থানে বোমা মেশিন রাখা হলে যে বা যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য, ছবি, নাম ও ঠিকানা উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্য।

গত তিন দিনে ৩৩ জন ব্যক্তির নিকট হইতে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান নির্বাহী অফিসারের গোপন সহকারি কবির হোসাইন। এছাড়াও জুয়া খেলা বন্ধের জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্তসহ সোর্স হিসেবে চৌকিদার সার্বক্ষণিক প্রহরায় রেখে জুয়া ও মাদকমুক্ত তেঁতুলিয়া গড়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার দায়িত্ব ও কর্তব্যশীল এবং দক্ষ এই নির্বাহী কর্মকর্তা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com