ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত বিভাগীয় বেবীহোমের অনাথ শিশুরা

৩৪ বার পঠিত

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলায় অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় ছোটমনি নিবাস (বেবীহোম)-এর আশ্রিত শিশুরা বোঝেনা ঈদ কি? ওদের জীবনে ঈঁদের আনন্দও আসেনা কখনও। এসব শিশুদের অনেকে নেই জন্ম পরিচয়, আবার পথশিশু হিসেবে ঠাঁই হয়েছে অনেকের এই ছোটমনি নিবাসে। বর্তমানে বেবীহোমে ৭ বছরের নিচে আশ্রিত শিশু রয়েছে ১৭ জন।

বেবী হোমের উপ-তত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, সরকারীভাবে ঈদের দিন শিশুদের  বিশেষ খাবার সরবরাহর জন্য কর্তৃপক্ষ চিঠি দিলেও ওই চিঠিতে কোন বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, শুধু গৈলায় নয়, দেশের কোনও বেবীহোমের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দ থাকেনা। স্থানীয়ভাবে বা প্রতিদিনের খাদ্যের সাথে সমন্বয় করে বিশেষ দিনে আশ্রিত শিশুদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করতে বলা হয়েছে। আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তপন বসু জানান, ঈদের দিনে এতিম শিশুদের সরকারীভাবে খাবারের জন্য কোন বরাদ্দ না থাকায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ওই শিশুদের জন্যবিশেষ খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বেবীহোমের উপ-তত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, এবছর স্থানীয় এনজিও হোমল্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে বেবীহোমে আশ্রিত শিশুদের ঈদের জন্য নতুন পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা বিভাগীয় ছোটমণি নিবাসে গিয়ে কথা হয় আশ্রিত ওইসব অনাথ শিশুদের সাথে। শিশুরা জানায়, তাদের মায়ের আদর পেতে ভীষণ ইচ্ছে করে,  আল্লায় তাদের কপাল থেকে সব কিছুই কেড়ে নিয়েছে। উপজেলার রাংতা গ্রামের গম ক্ষেত থেকে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় উদ্ধারকৃত নবজাতক কন্যা শিশুর ঠাঁই হয় এই বেবী হোমে। বরিশালের তৎকালীন জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম শিশুটির নাম রাখেন ‘কুদরতী জান্নাত’। বর্তমানে তার বয়স দেড় বছর। মঠবাড়িয়া থেকে পাওয়া ৭ বছর বয়সী আল-আমিন তার পরিচয় ও ঠিকানা বলতে না পারায় ঠাঁই হয়েছে এখানে। বরিশাল থেকে উদ্ধার হওয়া ৭ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী আয়েশা চিকিৎসার মাধ্যমে এখন অনেকটাই সুস্থ বলে জানান আবুল কালাম আজাদ।
বেবীহোমে আশ্রিত শিশুদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তাদের অনেকের বাবা-মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। আবার অনেকের বাবা-মায়ের পরিচয়ও নেই। তাই বাবা-মায়ের সাথে ঈঁদের আনন্দ ভাগাভাগি করারও সুযোগ নেই ওদের। কোন দিন আসবেওনা হয়ত সেই সুযোগ! ছোটমণি নিবাসের আয়া শাহিদা আক্তার বলেন-অনাথ ও এতিম শিশুদের ঈদের অনন্দ দিতে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। ঈদের দিনে শিশুদের নিয়ে সময় কাটান তারা। শিশুরা যাতে মন খারাপ করে বসে না থাকে সেজন্য আমরা তাদের সব সময় আনন্দ দিয়ে রাখি। ছোটমনি নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদের দিন কেন্দ্রের অনাথ শিশুদের অনেকেরই মন ভারাক্রান্ত থাকে। কেউ চুপচাপ বসে থাকে। কেউ সারাটাদিন ঘুমিয়ে কাটায়। তাদের এ অবস্থা দেখে আমাদেরও মন খারাপ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ছোটমনি নিবাসের আশ্রিত বেশির ভাগ শিশুই কুড়িয়ে পাওয়া। আবার অনেক শিশুকে জন্মের পর রাস্তায় ফেলে দেয়া হলে পুলিশের মাধ্যমে তাদের ঠাঁই হয়েছে ছোটমণি নিবাস বা বেবীহোমে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অপূর্ব লাল সরকার, বরিশাল প্রতিনিধি #

01912-346484

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com