আগৈলঝাড়ায় কৃষকের ধান কিনতে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে টাকা না দিলে ধান খারাপ, টাকা দিলে ভাল

৩৮ বার পঠিত

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)  # বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে টাকা না দিলে ধানে চিটা, আর্দ্রতা কম ইত্যাদি সমস্যা। আর টনপ্রতি ধানে খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ৫ হাজার টাকা দিলেই সব সমস্যার সমাধান! চিটাওয়ালা, আর্দ্রতাবিহীন ওই খারাপ ধানও তখন ভাল হয়ে যায়।  সরকারের গোডাউনে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকেরা নসিমন, টমটম আর ভ্যান ভর্তি করে গোডাউনের রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শাহাদাৎ হোসেন সকলের ধান পরীক্ষা করে জানালেন- আর্দ্রতা কম থাকায় কোন চাষীর ধান নেয়া যাবেনা।

সকালের এমন খবরে বিমর্ষ হয়ে পরেন দূর দূরান্ত থেকে আগত চাষীরা। তবুও হাল ছাড়েন না তারা। তাদের মধ্য থেকে এগিয়ে এলেন একজন বিশেষ ব্যক্তি। তিনি রত্নপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর অজিত শিকারী। সাবেক মেম্বর হওয়ার সুবাদে অজিত গোডাউনের শ্রমিক এবং ওসিএলএসডি’র বিশেষভাবে পরিচিত। তাদের সাথে কথা বলে বের করলেন গোডাউনে ধান বিক্রির সহজ উপায়।

প্রত্যেক চাষী টনপ্রতি ৫ হাজার টাকা দেয়ায় রাজি হওয়ায় সকালে ঘোষিত খারাপ ধানগুলো মূহুর্তের মধ্যে ভাল ধান হিসেবে জমা হয়ে গেল গোডাউনে। ধান বিক্রি করলেন রতœপুরের চাষী নাসির, শাহজাহান, সুকদেব বাড়ৈ, বারপাইকা গ্রামের মাইনুল, ননী গোপালের মত অনেক চাষী। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬শ’ ৫০ মে.টন ধান ক্রয়ের কথা জানিয়েছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শাহাদাৎ হোসেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জায়গা না থাকার কারণে ধান ক্রয় বন্ধ রয়েছে। ঈদের পর আবার শুরু করার কথা জানিয়েছেন ইউএনও। সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের ঘোষণার পর ৫ মে’র পরিবর্তে ১৭ মে থেকে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারী নীতিমালায় প্রতি কেজি ধান ২৩ টাকা দরে প্রতি মন ধান ৯২০ টাকায় ক্রয় করছে সরকার। উপজেলায় ১ হাজার ৬শ’ ৫৮ মে. টন ধান ক্রয় করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ক্রয় কমিটির সভাপতি দেবী চন্দ।

চাষী নামধারী দালালদের মাধ্যমে ধান ক্রয় শুরু হলেও এনিয়ে লেখালেখির পর মধ্যস্বত্বভোগী, ফরিয়া, দালালদের বিলুপ্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ধান ক্রয় মনিটরিং-এর জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা, বিভাগীয় বেবীহোম উপ-তত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ, সমবায় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, একাডেমিক সুপারভাইজার প্রাণকুমার ঘটক ও সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার নন্দীকে নিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করেন।

কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সরাসরি চাষীদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও মাঝপথে বস্তার অভাব দেখিয়ে ক্রয় বন্ধ রাখেন সংশ্লিষ্টরা। ইউএনও’র তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পুনরায় ধান ক্রয় শুরু হলেও এর কিছুদিন পর গোডাউনে জায়গার অভাব থাকায় আবারও ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। নাম না প্রকাশের শর্তে মনিটরিং কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ধান কেনা বন্ধের পর পুনরায় ধান ক্রয়ের কথা তারা জানেন না। তারা আরও বলেন, জুন মাসে নিজ বিভাগের দায়িত্বের সাথে মনিটরিং-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সব সময় গোডাউনে বসে থাকতে পারছেন না। সারাদিন সময় দিতে না পারার সুযোগ নিচ্ছে গোডাউন কর্তৃপক্ষ। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শাহাদাৎ হোসেন টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, যারা এমন অভিযোগ করছেন তারা সিন্ডিকেট করে গোডাউনে ধান বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েই এমন গুজব ছড়াচ্ছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অপূর্ব লাল সরকার, বরিশাল প্রতিনিধি #

01912-346484

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com