আগৈলঝাড়া হাসপাতালে আগুনে পোড়ার ভয়াবহতা রোধ ও প্রতিকারে রোগীদের চিকিৎসা

এই সংবাদ ৩০ বার পঠিত

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সম্প্রতি সময়ে কয়েকটি আগুনে পোড়া শিশু রোগীর চিকিৎসা হয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে। যেখানে জেলা সদরে ছাড়া কোন পোড়া রোগীর চিকিৎসা হয়না সেখানে আজ উপজেলা হাসপাতালে সেই পোড়া রোগীরই চিকিৎসা করছেন চিকিৎসকরা। আগুনে পোড়া রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জলিরপাড় গ্রামের অমল বিশ্বাসের ৫ বছরের ছেলে অংকন বিশ্বাস গরম ডালের ভিতর পরে গিয়ে শরীরের ৩০ভাগ অংশ পুড়ে যায়। সাথে সাথে অংকনের স্বজনরা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বার্ণ স্পেশালিস্ট ডা. মাহাবুব আলম মীর্জা ওই রোগীকে বরিশাল হাসপাতালে না পাঠিয়ে নিজে দায়িত্ব নিয়ে শিশুটিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন।

এছাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামের রেজাউল খানের ছয়মাসের মেয়ে তোয়া আক্তার গরম পানিতে পরে শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আগুনে পোড়া ৬টি শিশুর চিকিৎসা দিয়েছেন ডা. মাহাবুব আলম মীর্জা। বর্তমানে প্রতিটি শিশুরই ড্রেসিং এর কারণে এখন অনেকটা সুস্থ। আমাদের দেশের মানুষের মনে সাবধানতা বা সাধারণ জ্ঞান আগুনে পোড়া রোগীর খুব সীমিত। এর সাথে দেখা দেয় বিপত্তি। সামান্য পোড়া ও ঘা থেকে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ ক্ষত। এছাড়া এই চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের জ্ঞানও যথেষ্ট কম। বার্ণ স্পেশালিস্ট ডা. মাহাবুব আলম মীর্জা জানান, বেশিরভাগ মানুষই জানেন না পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কী করলে প্রতিরোধ করা যায়। আর তাই বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণাবশত: এটা ওটা করে পোড়া ক্ষত আরও বাড়িয়ে ফেলেন। পুড়ে যাওয়ার পরে বেশ কিছু ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, যেগুলো নিমিষেই আরাম দেয় ও জ্বালাপোড়া ভাব কমিয়ে দেয়। পুড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পোড়া স্থানটি কয়েক মিনিট ধরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পুড়ে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। ঠান্ডা পানি পোড়া জায়গার জ্বালা কমিয়ে দেয় এবং ফোস্কা পরার ঝুঁকি কমায়।

প্রতি দু’-তিনঘন্টা পর পর আক্রান্ত স্থানটি ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হয়। ঠান্ডা পানির বদলে ঠান্ডা দুধও ব্যবহার করা যায়। তবে পোড়া স্থানে বরফ ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কারণ বরফ রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিয়ে পোড়া স্থানের ক্ষতির কারণ হতে পারে। শরীরের কোন অংশ যখন সামান্য পুড়ে যায় তখন টি ব্যাগ অনেকটাই আরাম দেবে। চা পাতার ট্যানিক এসিড ত্বককে শীতল করে। তাই পোড়া স্থানে ভেজা, ঠা-া টি ব্যাগ ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালা ভাব ও অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়। পোড়া জায়গায় কয়েকটি ঠান্ডা ভেজা টি ব্যাগ ধরে রাখুন। টি ব্যাগ গুলোকে পোড়া জায়গায় ধরে রাখার জন্য পাতলা সুতি কাপড় ব্যবহার করতে পারেন । চা পাতাও ব্যবহার করতে পারেন পোড়া যায়গায়। এই ক্ষেত্রে তিনটি টি ব্যাগের সমপরিমাণ চা পাতা দিয়ে চায়ের লিকার বানিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এবার আক্রান্ত স্থানে পরিষ্কার তুলো বা নরম কাপড় দিয়ে লিকারটি লাগান। আগুনে পোড়া কিছু কিছু ছোট ছোট ফোস্কা তৈরী হবে যেগুলো ফাটিয়ে দেওয়া ঠিক হবেনা।

কারণ এই ফোস্কাগুলো ফাটিয়ে দিলে খুব সহজে ব্যকাটেরিয়া আক্রান্ত হয়ে পোড়া জায়গায় প্রদাহ হতে পারে। খুব বড় ধরণের ফোস্কা তৈরী হলে কিংবা ফোস্কার ভিতরের জমে থাকা পানি ফ্যাকাশে হয়ে গেলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আগুনে পুড়ে যাওয়া রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিৎ। পুড়ে যাওয়ার ধরন যাই হোক না কেন রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। কারণ ত্বকের পুড়ে যাওয়ার ধরণ ভিন্ন হলেও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে রোগীর অবস্থা যেকোন সময় খারাপ হতে পারে। সূতরাং পুড়ে যাওয়া রোগীকে সম্ভব হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরই চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। বার্ণ ড্রেসিং করতে চিকিৎসকদের সিন্ধান্ত নিতে হবে নরমাল স্যালাইন, বার্ণ ক্রীম কোনটা সে ব্যবহার করবেন। ফোম ড্রেসিং, ভেপার ড্রেসিং, ডিওডার্ম ড্রেসিং ও সুপরাটলী ড্রেসিং দিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব। বিভিন্ন পদ্ধতি বা সম্মিলিত উপায়ে প্রতিদিন ড্রেসিং করে রোগীকে চিকিৎসা দেয়া যায়।

এখন এইসব পোড়া রোগীর চিকিৎসা উপজেলা হাসপাতালে সম্ভব। এজন্য বার্ণ ইউনিটে আংশিক পোড়া রোগীকে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। আগুনে পোড়া শিশুর পিতা অমল বিশ্বাস ও রেজাউল খান জানান, আমাদের শিশুর শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যাওয়ার পর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে ডাক্তরা চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে নেয়ার পরামর্শ দেন। তখন আগৈলঝাড়া হাসপাতালের বার্ণ স্পেশালিস্ট, সার্টিফায়েড ডায়াবেটোলজিস্ট ও ডায়াবেটিক সার্জন সাবেক বারডেম হাসপাতাল ও মিডফোর্ড হাসপাতালের প্রাক্তন সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মাহাবুব আলম মীর্জার কাছে আমরা নিয়ে যাই। তিনি এই শিশুর রোগীর চিকিৎসা জেলা সদরে করার দরকার নেই বলে এখানেই ওই শিশুগুলোর চিকিৎসা শুরু করেন। আমরা স্বল্প খরচে এই ডাক্তারের মাধ্যমে আমাদের শিশুদের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অপূর্ব লাল সরকার, বরিশাল প্রতিনিধি #

01912-346484

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com