কাউখালীর ছোট বিড়ালজুরী গ্রামে আবাসনে নবসৃষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভগ্নদশা

৪০ বার পঠিত

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের কাউখালীর ছোট বিড়ালজুরী গ্রামে আশ্রায়ন ও গুচ্ছগ্রামে একমাত্র নবসৃষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ভগ্নদশা। ১৯৯২ সালে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল বাস্তহারাদের জন্য ছোট বিড়ালজুরী গ্রামে একটি আশ্রায়ন প্রকল্প গ্রহণ করে ব্যারাক হাউজ নির্মাণ করা হয়। ব্যারাক হাউজের বাসিন্দাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় স্থানীয়রা ১৯৯৫ সালে ছোট বিড়ালজুরী গ্রামে একটি বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি সেই থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে লেখাপড়া কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।

২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি আয়ত্তীকরণ করা হলেও অদ্যাবধি চারজন শিক্ষকের বেতন ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়টির শুরু থেকে অদ্যাবধি ২০ বছর পর্যন্ত বেতন ভাতা না পেয়ে ওই চারজন শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন করছে। একদিকে শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপন অন্যদিকে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই ভগ্নদশা। একটি কক্ষে প্রথম শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার কোন ব্যবস্থা না থাকায় মাটিতে চট বিছিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চসহ আসবাবপত্র একেবারে নেই বললেই চলে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই কক্ষে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করালেও সরকারি বা বেসরকারি কোন কর্তৃপক্ষের এখনও নজরে আসেনি।

উপজেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসনের কোন নজরে আসছে না। অপরদিকে আবাসন এবং গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের অসচেতনতা  ও অশিক্ষার কারণে তারাও কোন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে নিতে পারছে না। গুচ্ছগ্রাম ও আবাসনের ৬০টি ব্যারাকে প্রায় তিন শতাধিক বাসিন্দাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি এভাবে অবহেলা ও অযত্মে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলায় চরম দুর্ভোগের মধ্যেই শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরাও এরমধ্যে পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদান গ্রহণ করায় শিশুরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে অপুষ্টিতে ভুগছে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হীরা খানম।

বিদ্যালয়টির মাঠ নিঁচু থাকায় প্রায় সারাবছরই পানি জমে থাকে এবং জোয়ারে পানি ওঠে এবং ভাটায় নেমে যায়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা কোন খেলাধুলা বা আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠার কোন সুযোগ পায় না। এ ব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মকর্তা জাবিদ হোসেন জানান, বিদ্যালয়টির অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে উন্নয়ণ করা হবে এবং বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষকরা গেজেটভুক্ত না হওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হযেছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com