এতিম আজিজের ক্রিকেট স্বপ্ন

২৬ বার পঠিত

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ॥ চরম দারিদক্লিষ্ট পরিবারের সন্তান আজিজ। নিখোঁজ মানসিক প্রতিবন্ধী মায়ের সন্তান আজিজ। পেটে দুবেলা দুমুঠো ভাতের সংস্থান হচ্ছিল না আজিজের । কপলের জোরে বঞ্চিত জীবনে আজিজের একটা আশ্রয় মেলে। মানবিক আশ্রয় পেযে আজিজ পরিপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা আজিজ কঠোর অধ্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে একজন সফল ক্রিকেটার হওয়ার জন্য। পিরোজপুরের কাউখালীর  কেউন্দিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ এলাকায় একজন উদ্যমী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে।  

আজ থেকে ২০০৭ সালে উপজেলার কেউন্দিয়া গ্রামের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ কর্মী নুসরাত জাহান গ্রামের মৃধা বাড়ি থেকে ৫ বছরের এতিম শিশু আব্দুল আজিজকে এনে নিজ বাড়িতে লালন পালন করেন । পিতৃ-মাতৃ হারা আজিজ তখন অন্য জীবন পায়। স্কুলে বর্তির সুযাগ মেলে সেই সাথে জীবনে খেয়ে পড়ার সুযোগ মেলে তার।  লেখাপড়ার পাশাপাশি আজি খেলাধূলায় বেশ মনোযোগি হয়ে ওঠে। ক্রিকেট খেলার নেশায় পড়ে যায় আজিজ। এখন তার স্বপ্ন দেশের একজন ভাল ক্রিটার হয়ে দেশের সুনাম কুড়ানো। তাই কিকেটেই ক্যারিয়ার গড়তে সে নিয়মিত অধ্যাবসায় চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, কাউখালীর কেউন্দিয়া গ্রামের হত দরিদ্র মোফাজ্জেল হোসেন যখন মারা যান তখন আব্দুল আজিজের ৩ বছর বয়স। পিতার মৃত্যুর পর মা আকলিমা বেগম অভাবের তাড়নায় মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আজিজের যখন পা*চ বছর বয়স তখন মানসিক প্রতিবন্ধী মা আকলিমা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আর খোঁজ মেলেনা তার । পিতৃ-মাতৃ হারা দুই ভাই আর এক বোন চরম কষ্টে দিনযাপন করে।  দুই ভাইয়ের একমাত্র বোন অন্যের বাসায় কাজ করে। আর বড় ভাই মো.মামুন রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। ফলে শিশু আজিজেরে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছিল। এমন দুরাবস্থা দেখে একই গ্রামের গৃহবধূ নুসরাত জাহান শিশু আজিজকে নিজ বাড়িতে এনে পরম যতেœ বড় করে তোলেন। আজিজ বর্তমানে কাউখালী পি.জি.এস মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জে.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলায় সে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে আজিজ হতে পারে বাংলাদেশের একজন গর্বিত ক্রিকেটার।
আজিজ বলে, আমার মা বাপ নাই। যেখানে আশ্রয়ে আছি তারাই এখন আমার মা বাপ।আল্লাহর অসীম দয়ায় এই জীবন পেয়েছি। আমি লেখা পড়া করে একজন ভাল ক্রিকেটার হয়ে দেশের সুনাম কুড়াতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

আজিজুরের আশ্রয়দাতা নুসরাত জাহানের স্বামী সমাসেবক আবদুল লতিফ খসরু বলেন, অফিসের দায়িত্ব পালন করে আমার স্ত্রী  ২০০৭ সালে ৫ বছরের অসহায় শিশু আজিজকে  একদিন কোলে করে নিয়ে আসে আমার বাড়িতে। সেই থেকে সে আমাদের বাড়িতে বড় হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আছে আমার কাছে। হাটি হাটি পা পা করে আজিজুর এখন ৮ম শ্রেণির জে.এস.সি পরীক্ষার্থীয় অংশ নিচ্ছে। লেখা পড়ায় ভাল। আবার ক্রিকেট খেলায়ও ভাল। এলকায় এখন ওরে সবাই ক্রিকেট আজিজ নামেই ভাল চেনে। কঠোর পরিশ্রম করছে ক্রিকেট খেলা নিয়ে । আমি আশাবাদি সে ভাল একজন ক্রিকেটার হবে একদিন।

ঝালকাঠি জেলার সেওতা পি.জি.এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বলেন, আজিজের জীবনটা এমন নাও হতে পারত। একটা মানবিক উদ্যোগে শিশুটি আশ্রয় পেয়ে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। অথচ শিক্ষাটা ওর অধিকার ছিল। আজিজ লেখা পড়ায় ভাল। আবার সে খেলাধূলায় ভাল। ওর উন্নত জীবন কামনা করছি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com