কাউখালীতে ১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

১৯ বার পঠিত

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের কাউখালীর আন্ত: উপজেলা ও আন্ত :জেলা এবং আন্ত: ইউনিয়ন সড়কের ১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজে যান চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়লেও ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলছে। যোগাযোগা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার পথে। এর মধ্যে বরিশাল খুলনা মহাসড়কের তিনটি বেইলি ব্রিজ সবচেয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। চরম ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কের ব্রিজগুলো হলো শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা বেইলি ব্রিজ, বিশ্বাস বাড়ী বেইলি ব্রিজ, দারুচ্ছুন্নাত মাদ্রাসা সংলগ্ন বেইলি ব্রিজগুলো যেকোন সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এছাড়াও আন্ত:উপজেলা সড়কের মধ্যে পিরোজপুর-স্বরুপকাঠী সড়কের কাউখালী-কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজটিও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। এবং আন্তঃ উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সংক্ষিপ্ত সড়ক কাউখালী-ভিটাবাড়ীয়া-ভান্ডারিয়া সড়কের শিয়ালকাঠী বেলতলা ব্রিজ, চিরাপাড়া ফরাজী বাড়ী ব্রিজ, পারসাতুরিয়া মিয়া বাড়ীর সামনের ব্রিজ, ভিটাবাড়ীয়া বেইলী ব্রিজ, চিরাপাড়া জে,এম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রিজ, দক্ষিণ চিরাপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ব্রিজ, উত্তর গাজীরহুলা ব্রিজ, কাউখালী কলেজ মোড় ব্রিজ, হোগলা-বেতকা বাজার সংলগ্ন ব্রিজ, হরিণধরা ব্রিজ, আমরাজুড়ী ফেরীঘাট সংলগ্ন ব্রিজ, কেউন্দিয়া বাজার ব্রিজ, আমরাজুড়ী স্বরুপকাঠী সড়কের ব্রিজ, তালুকদারহাট ব্রিজ সহ বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ১৯টি ব্রিজ। এছাড়াও অভ্যন্তরীন সড়কে প্রায় অর্ধশত ছোট বড় ব্রিজ কালভার্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এসকল ব্রিজ কালভার্ট দিয়ে যানবাহন চলাচল সহ সাধারণ মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ব্রিজগুলো দিয়ে দীর্ঘ ৫ পাঁচ বছর পূর্ব থেকেই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও বিভিন্ন সময় ছোট বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে যানবাহনগুলো। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হয় না। অধিকাংশ ব্রিজ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মন্ত্রনালয়ের অধীনে এবং কিছু ব্রিজ রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। এই সকল সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ১৯ টি ব্রিজের ৬ টি ব্রিজের পুনঃনির্মাণ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ কয়টির পুনঃ নির্মানের কাজ অদ্যাবধি করা হয়নি। গত সিডরের সময় ব্রিজগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের মধ্যে কোনটির দুইপাশের রেলিং সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। আবার কোনটির পাটাতন ভেঙে যায় ও ঢালাই স্লাব ভেঙে গর্তে পরিণত হয়।

এতে করে বড় ধরনের কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই সড়ক দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন না চলাচলের কারণে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোন সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। আন্তঃব্যবসা বাণিজ্য সহ কৃষি দ্রব্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সকল এলাকায় বড় ধরনের যদি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে তাহলে ফায়ার সার্ভিসের ঝুুঁকিপূর্ণ ব্রিজ থেকে না যাওয়ার ফলে এই ধরনের প্রাকৃতি দুর্যোগে স্থানীয়ভাবে মোকাবেলার জন্য প্রস্তত নিতে হয়। কাউখালী-ভান্ডারিয়া-ভিটাবাড়ীয়া সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি হয়েছে শিয়ালকাঠীর বেলতলা ব্রিজ। এই ব্রিজটি সিডরে সিংহভাগ ক্ষতি হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।

বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিনিয়েই মিনি পিকআপ ভ্যান এবং নসিমন, করিমন অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এবং পণ্য বহন করে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। যার ফলে প্রতিনিয়তই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। যেকোন সময় এই ব্রিজগুলো ধসে খালে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এত করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হবে এলাকাবাসীদের। এমনকি প্রাননাশক ঘটনাও ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিন জানান, ঝুঁপিকপূর্ণ ব্রিজগুলোর তালিকা তৈরী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্রিজগুলো নির্মাণ ও পুননির্মাণ করা হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com