কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে চলছে পাঠদান ॥ যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা

১৯ বার পঠিত

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী দারুচ্ছুন্নাত জামেয়া এ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে, ১৯৮১ সনে এই মাদ্রাসার ঘরটি তৈরী করা হলেও আধুনিক যুগে এসেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনী এবং তৈরীও হয়নি কোন নতুন ভবন। ফলে জরাজীর্ণ ও ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরে প্রায় ৬ শতাধিক ছাত্রছাত্রী ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই শিক্ষা গ্রহণ করছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ঘরটি প্রথম বিধ্বস্ত হওয়ার পর সামান্য কিছু সরকারী অনুদান পেয়ে তা পুনরায় সংস্কার করা হলেও পরবর্তীতে আবার ঘূর্ণিঝড় আইলার প্রভাবে ঘরটি হেলে পড়লে ঘরের পিছনে বাঁশ/সুপারি গাছের খুঁটি দিয়ে কোনমতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

পাঠদানের জন্য বিকল্প কোন ভবন না থাকায় ওই ঘরেই মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ইবতেদায়ী থেকে ফাজিল পর্যন্ত ২৯ জন শিক্ষক কর্মচারীসহ প্রায় ৬ শতাধিক ছাত্র-শিক্ষকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোন সময় ঘরটি পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়ে একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। যেখানে অফিস ও দুটি ক্লাস পরিচালিত হয়।  অন্য ক্লাসগুলো ওই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে নেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালে ৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ফাজিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া অন্যান্য ক্লাসে পাশের হার শতভাগ থাকলেও মাদ্রাসার বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র সংকট রয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসা মাঠ নিঁচু হওয়ায় সাধারণ জোয়ার ও বর্ষার পানিতে তা ডুবে যায় বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাবনী চামকা জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় রয়েছে। যা মাননীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। এখানে একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com