সন্ধ্যা নদী ভাঙ্গনরোধে কাউখালীর মৃৎ শিল্প পল্লীর প্রান্তিক মানুষের ব্যাতিক্রমী নৌ মানববন্ধন

৪০ বার পঠিত

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী প্রতিনিধি ॥ এক ব্যতিক্রমী পন্থায় প্রতিবাদ জানাল পিরোজপুরের নদী ভাঙ্গনকবলিত এলাকার কাউখালীর মানুষ। এলাকার মাটির হাড়ি-পাতিল নিয়ে কাউখালী সোনাকুর গ্রামের সন্ধ্যা নদীতে মানববন্ধনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানান। শনিবার সকালে জেলার কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনরোধ ও সানাকুর মৃৎশিল্প, ইউপি পরিষদসহ প্রায় ৮টি গ্রাম নিশ্চিহ্নের হাত থেকে রক্ষাকল্পে পল্লীর নারী-পুরুষ বাসিন্দাদের এক ব্যতিক্রমি নৌ-মানববন্ধন পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে ওই দিন সকালে ‘কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের আহবায়ক আব্দুল লতিফ খসরুর’ উদ্যোগে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে ঐতিহ্যবাহী ‘মৃৎ শিল্পের গ্রাম’ সোনাকুর গ্রামসহ বাদামতলা, সুবিদপুর, চিড়াপাড়া, মেঘপাল, আমরাজুড়ি, গন্ধর্ব, আশোয়া ও সয়না রঘুনাথপুর গ্রাম কাউখালী উপজেলার মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে না যায় সে লক্ষ্যে এই ব্যাতিক্রমী নৌ মানববন্ধন পালন করে স্থানীয়রা। এসময় গ্রামবাসী সরকারের কাছে সোনাকুর মৃৎ পল্লী ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার দাবী জানান হাত উঁচিয়ে। মাববন্ধনে নারী পুরুষ ও শিশু যুবক সবাই এক কাতারে মিলে-মিশে ঘন্টাব্যাপী নৌকায় দাড়িয়ে কর্মসূচী পালন করে।      

সোনাকুর গ্রামে প্রায় ২শত বছরের পুরান মৃৎ বা পাল সম্প্রদায়ের বসবাস। ঐতিহ্যবাহী পাল বাড়ির নারী-পুরুষের মাটির তৈরী বাসন-কোষন গোটা উপকূলের মানুষের কাছে ছিল যথেষ্ট কদরের। মাটির কাজ নিয়ে কোলাহলে মুখর ছিল গোটা গ্রাম। যুগযুগ ধরে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে মৃৎ পল্লী আজ বিলীন হতে বসেছে। নদের ভাঙনে নিঃস্ব-রিক্ত মৃৎশিল্পীরা এখন জীবন বাঁচাতে যে যেখানে পাড়ছে মাঁথা গোজার ঠাঁই করে নিচ্ছে। বর্তমানে মাত্র ৪০-৫০ টি পরিবার বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে রেখেছে জোড়াতালি দিয়ে। অথচ সরকারিভাবে আমড়াজুরি ইউনিয়নকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য কখনোই নেয়া হয়নি কার্যকরি কোন পদক্ষেপ বা অনুদান হিসেবেও মেলেনি কোন অর্থকড়ি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com