কাউখালীতে পাদুকা সেলাই কারিগরের মেয়ে মনিকাকে শিক্ষা উপকরণের সহায়তা

২৩ বার পঠিত

সৈয়তদ বশির আহম্মেদ, কাউখালী প্রতিনিধ ॥ নিজে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তবুও স্বপ্ন পড়াশুনা করার। কিন্তু স্বপ্নের পথে বিধবা মায়ের অভাবী সংসারের কোন বাধা ঠেকাতে পারেনি। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ২নং আমরাজুড়ী ইউনিয়নের কুমিয়ান গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষার্থী মনিকা। মনিকার বাবা মন্টু লাল দাস পেশায় ছিলেন একজন পাদুকা সেলাইয়ের কারিগর। মনিকা জন্মের ছয় মাস পর তার বাবা মন্টু লাল ১৯৯৮ সালের বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর মনিকার মা পার্বতীর হাত ধরে হাটি হাটি পা পা করে মনিকার পথ চলা। মনিকার বাবা মারা যাওয়ার পর মনিকার আপনজন বলতে মা ছাড়া আর কেউই নাই। তাই বলতে হয় মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই এই দুনিয়ায়। অভাবের সংসারে মনিকাকে নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে ওর লেখাপড়ার জন্য মনিকার মাকে বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজসহ হোটেল ও রেস্তোরায় পানি দিতে হয়েছে।

মনিকাকে নিয়ে তার ছিল নিরন্তন সংগ্রাম। দারিদ্রতা দমাতে পারেনি মনিকাকে। কোন প্রকার প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পায়নি মনিকা। হতদিরদ্র সুবিধাবঞ্চিত মনিকা ২০১২ সালে উপজেলার এস.বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৪.৬১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে মনিকা কাউখালী কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগের ছাত্রী। শিক্ষার্থী মনিকার মা পাবর্তী বলেন, মেয়েটা কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। অর্থাভাবে ওর প্রয়োজনীয় বই কিনতে না পারায় অন্যের বইয়ের সাহায্য নিয়ে পড়তে হয় ওকে। অভাবে সংসারে আগামী দিনে ওর পড়াশুনা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। মেয়েটাকে কখনও ভালো খাবার ও ভালো জামা কাপড় দিতে পারি নাই।

তবে লেখাপড়া করার জন্য সাহস যুগিয়েছি। আমার মনিকা নিশ্চয়ই ওর লক্ষ্যে পৌছতে পারবে। সবাই ওর জন্য দোয়া ও আর্শিবাদ করবেন। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, এত বছর হয় স্বামী মারা গেল আজ পর্যন্ত বিধবার কার্ড পেলাম না। তালিকায় নাম নেই আমার। কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে আজ সকাল ১০ টায় সন্ধ্যা নদীর পাড়ে বসবাসরত মনিকার হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন শিক্ষা উদ্যোক্তা আঃ লতিফ খসরু। এসময় শিক্ষার্থী মনিকার মা পার্বতী উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থী মনিকা বলেন, অভাবের সংসারে লেখাপড়া করে মায়ের কষ্ট দূর করতে চাই। সাথে সাথে দারিদ্রতাকে জয় করে নিজের পায়ে দাড়াতে চাই। আজ শিক্ষা উদ্যোক্তা পরোপকারী খসরু কাকু আমাকে লেখাপড়ায় সহায়তা করার জন্য শিক্ষা উপকরণ (বই, খাতা, কলম) আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। এতেই আমি খুশি ও আনন্দিত। আমি মনে করি, খসরু কাকুর এই সহায়তা আমাকে পড়াশুনায় আগ্রহী হতে আরো উৎসাহিত করবে। কাউখালী মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মনিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী মনিকা খুব মেধাবী ও নিয়মিত খলেজে আসে। কলেজের পক্ষ থেকে ওকে আগামীতে সহায়তা করা হবে।

কাউখালী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত রায় বলেন, শিক্ষা উদ্যোক্তা আঃ লতিফ খসরুর এই উদ্যোগের কথা আমি শুনেছি। তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তার এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবীদার। কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি শিক্ষা উদ্যোক্তা আঃ লতিফ খসরু বলেন, শিক্ষার্থী মনিকার জীবনের দুঃখ, বেদনার কথা শুনতে গিয়েছিলাম সন্ধ্যা নদীর পাড়ে মনিকার বাসায়। অবাক বিস্ময়ে শুনলাম ওর জীবনের যুদ্ধের কাহিনী। এ যুদ্ধ এখানেই শেষ নয়। ও যেতে চায় বহুদূর। এ অভিযাত্রায় প্রয়োজন সমাজের স্বচ্ছল, সুহৃদ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা। আমি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার নিভৃত প্রান্তে থাকা বিচ্ছিন্ন জনপদে হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার জন্য নানাভাবে সহায়তা দিতে কাজ করছি। তারই ধারাবাহিকতায় হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী মনিকাকে শ্ক্ষিা উপকরণ দিয়ে সহায়তা করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com