কাউখালীতে “মা” দিবসে সন্ধ্যার তীরে আট প্রতিবন্ধী সন্তানের মা সংবর্ধিত

৫২ বার পঠিত

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী প্রতিনিধি ॥ “মা” পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম একটি নাম। এর চেয়ে সহজ গভীর আর কোন অনুভূতি নেই। পৃথিবীত সকল সন্তানের হৃদয়পূর্ণ থাক মাতৃ ভক্তি। মা নামের ছোট্ট শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে মানব জীবনের সুখ, দুঃখের ভালোবাসা লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব মায়া মমতা আদর আহ্লাদ, প্রেম ভালোবাসা, অভাব-অভিযোগসহ সবকিছু মা ছাড়া দুনিয়া অচল। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কেউন্দিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ সমাজসবেক আঃ লতিফ খসরু দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার নানা প্রান্তে থাকা সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে আসছেন দীর্ঘদিন।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতন এবারও মা দিবসকে সামনে রেখে বিভিন্ন জনপদের নিভৃত প্রান্ত থেকে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দিন রাত ছুটে বেড়ান আলোকিত সাদা মনের মানুষ আঃ লতিফ খসরু। অবশেষে তার সেই কাঙ্খিত মায়েদের খুঁজে বের করলেন। প্রতিবন্ধী স্কুলের উদ্যোগে উপজেলার আমরাজুড়ীর সন্ধ্যা নদীর তীরে জেগে ওঠা চড়ে আবাসন প্রকল্পে বসবাসরত প্রতিবন্ধীদের মায়েদের নিয়ে রবিবার দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যার মধ্যে ছিল প্রতিবন্ধী সন্তানের মায়েদের ফুলের শুভেচ্ছা, মিষ্টি ও ফল বিতরণ, মায়েদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ও নৌ ভ্রমণ।

এখবর শুনে আশপাশের লোকজন সকাল থেকে জমায়েত হতে থাকে অনুষ্ঠানস্থলে। এ অনুষ্ঠানের আয়োজক প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষানুরাগী আঃ লতিফ খসরু। ঐদিন আটজন বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের মায়েদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাদের মিষ্টি ও ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আগত মায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শাড়ী। পরে প্রতিবন্ধী মায়েদের নিয়ে সন্ধ্যা নদীতে নৌ ভ্রমণ করা হয়। এসময় প্রতিবন্ধী সন্তানেরা ও তাদের অভিভাকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধিত মায়েরা হলেন, ১। চার বাক প্রতিবন্ধী সন্তানের মা মঞ্জিলা বেগম (৫০), ২। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী জাহিদের মা রেক্সনা (৪০), ৩। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী আসমার মা সাহেরা বেগম (৬০), ৪। শারীরিক প্রতিবন্ধী শান্তার মা আমেনা, ৫। শারীরিক প্রতিবন্ধী অরুনের মা সবিতা রানী, ৬। বাক প্রতিবন্ধী নয়নের মা সাবিত্রী, ৭। প্রতিবন্ধী গোবিন্দের মা চারু দাস, ৮। শারীরিক প্রতিবন্ধী ফাতেমার মা পারভীন বেগম। চার বাক প্রতিবন্ধী সন্তানের মা মঞ্জিলা বলেন, মুই গরীব মানুষ, মোর সোয়ামী বোবা, মোর চাইরডা মাইয়্যা পোলাও বোবা, মুই ওগো মোহে কোনসময় মা ডাক হোনতে পারি নাই। এইডা মোর বড় কষ্ট। আইজগো খসরু ভাই মোগো এইহানে আইয়্যা মোরে মা কইয়্যা বোলান দেছে হেতেই মোর কইলজা ভইর‌্যা গেছে। মোরে নতুন হাড়ি দেছে। খাওয়াইছে হেতেই মুই শান্তি পাইছি।

প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আঃ লতিফ খসরু বলেন, আমার মা নেই। যার মা নেই সেই বোঝে মা না থাকার কত কষ্ট। মায়ের জন্য সব দিনই সমান। তবে এখানে প্রশ্ন থাকতে পারে মায়ের জন্য আবার দিবস কিসের। আমাদের দেশে নানাভাবে নানা ঢঙে অনেক দিবসই তো পালিত হয়। তাহলে মায়ের জন্য একটি বিশেষ দিন থাকলে ক্ষতি কি? তাই একটি বিশেষ দিনে মায়ের জন্য কিছু করা। কোন কিছু চাওয়া ও পাওয়ার জন্য আমি এই কাজটি করিনি। গভীর এক ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা থেকে হতদরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিত বাক প্রতিবন্ধী সন্তানের মায়েদের নিয়ে এই কাজটি করেছি। সমাজের সামান্য সংখ্যক লোক আছে যারা মায়ের প্রতি অবহেলা করে তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য আমার এই উদ্যোগ। আজকের এই দিনে আশা করি বৃদ্ধাশ্রমে যেন কোন মায়ের ঠিকানা না হয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com