নগ্ন ছবির পোষ্টারে ঘেরা গাজীপুর চৌরাস্তা 

৬২ বার পঠিত
গাজীপুর প্রতিনিধি:    
“সিনেমা” শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। বাংলাদেশে সিনেমা হলের পথ চলা ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে।”সিনেমা” আমাদের বিনোদন দেয়,সিনেমা দেখে আমরা অনেক কিছু শিখি।
 
গাজীপুর চৌরাস্তা এবং এর আশে-পাশের এলাকা গুলোতে সিনেমার পোষ্টারের প্রচারনা একটু বেশিই।কারণ,গাজীপুর চৌরাস্তার আশে-পাশে বেশ কয়েকটি সিনেমা হল রয়েছে।সিনেমা হল গুলো হলো: উল্কা,নন্দিতা,বর্ষা,চান্দনা,ঝুমুর সাধারণত এই হল গুলোর পোষ্টার চোখে বেশি পড়ে। নতুন কোনো মুভি রিলিজ হওয়ার কয়েক দিনের ভিতরেই এই হল গুলোতে চলে আসে।নতুন যেকোনো মুভি তিন-চার সপ্তাহ চলে।হ্যা মুভি চলে তবে মুভি দুই ধরনের চলে।কিছুদিন চলে ব্লু ফিল্ম(খারাপ ছবি)আর কিছুদিন চলে ভাল ফিল্ম।বর্তমানে মানুষ পর্নোগ্রাফিতে বেশি মগ্ন আর তাই সাধারণ জনতাকে হল গুলো অশ্লীল পোষ্টার দেখিয়ে দিনের পরদিন ব্যবসা করে চলছে।
 
গাজীপুর চৌরাস্তা এখানে অনেক জায়গার মানুষ চলাচল করে।আর এই জায়গায় এতো নোংরা ছবির পোষ্টার লাগানো যা দু’চোখে বিশ্বাস করার মতো না।ইংলিশ এবং তামিল অশ্লীল ছবি গুলোও চালানো হয় হলগুলোতে।নগরীর সুন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনেরর,অথচ তারা কোনো দায়িত্ব পালন করছেনা।অশ্লীল পোষ্টারে ছেয়ে ছিল নগরীর আসে-পাশের দেয়ালগুলো এমনকি স্কুল,কলেজের দেয়ালগুলোতেও লাগানো হয় এইসব পোষ্টার যা দেখে বিব্রতবোধ করেন ছাত্র-ছাত্রী সহ অভিবাবকরা।মনে করেন,আপনার মা-বাবা অথবা বোনকে নিয়ে চৌরাস্তা গেলেন এখন গাডি় থেকে নামলেন,দেয়ালের দিকে চোখ দু’টো গেলে লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যাওয়ার কথা।এরকম পাবলিক প্লেসে এতো খোলা-মেলা পোষ্টার লাগানো হয় কিভাবে?এইতো কিছু দিন আগে গাজীপুর মহানগরে পৃথক ২টি অভিযান চালিয়ে দুটি সিনেমা হলকে জরিমানা ও ১ বছরের কারাদণ্ড অনাদায়ে আরো ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান
আদালত। গাজীপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রেবেকা সুলতানা ওই রায় প্রদান করেন।গাজীপুর মহানগরের জয়দেবপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ঝুমুর
সিনেমা হল ও বি আই ডিসি বাজার সংলগ্ন নন্দিতা সিনেমা হলে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ঝুমুর সিনেমা হলেঅনুমোদনহীন অশ্লীল পোস্টার ও বেআইনি ছবি পদর্শনের দায়ে মোঃ হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে ১ বছরের কারাদণ্ড ও অনাদায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর দিকে বিআইডিসি বাজার সংলগ্ন নন্দিতা সিনেমা হলে
অভিযান চালিয়ে অশ্লীল পোস্টার ও নগ্ন ছবি পদর্শন কালে খন্দকার আল হাসিব (২৭) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
কি ভাবছেন? এই হল গুলো আর ব্লো ফিল্ম দেখাবে না? যদি এই কথা ভেবে থাকেন তাহলে আপনার ভাবনা ভুল।ঝুমুর সিনেমা হলের হযরত আলী এবং নন্দিতার আল হাসিবের মতো ব্যক্তিকে কারাদন্ড কিংবা জরিমানা করে কোনো লাভ নেই কারণ এই হযরত আলী এবং আল হাসিবদের মতো লোকদের হাত খুব লম্বা আর সেজন্যই তো প্রশাসনের চোখে আঙ্গুল দেখিয়ে দিনের পর দিন এরকম অবৈধ অনুমোদনহীন ছবি চালিয়ে যাচ্ছে হল গুলো।যদি প্রশাসন মজবুদ থাকতো তাহলে আর অনুমোদনহীন ছবি চলার কোনো সুযোগ থাকতো না।আমরা আশা করি এই ব্যপারে প্রশাসন খুব শীঘ্রৈ আইনী ব্যবস্থা নিবে এটাই গাজীপুর বাসীর প্রত্যাশা।
 
 
ফেসবুক থেকে মতামত দিন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুব্রত দেব নাথ

সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com